বৈশ্বিক মহামারি: মানসিক ও সাহিত্যিক প্রভাব । মোশতাক আহমদ

  •  
  •  
  •  
  •  

 96 views

মোশতাক আহমদ

‘বর্তমান পরিবর্তিত পৃথিবীতে ভার্চুয়াল বাস্তবতাই একমাত্র নিরাপদ’; আন্দ্রিয়াস রোসেনফেল্ডার মজা করে আরো বলেছেন, ‘কেবল যারা দ্বীপের মালিক, তারাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে এখন।’ জীবনানন্দ দাশের ভাষায় ‘পৃথিবীর গভীরতর অসুখ এখন।’ এই অসুখী সময়ে আমাদের দ্বীপ নেই, কিন্তু ভার্চুয়াল জগতে এক ফালি জমি আছে; তাই আজ সারস্বত সভায় দুটো কথা বলতে পারছি।

আমি অনেকের মতোই চার মাস যাবত গৃহবন্দি। অনলাইনে দাপ্তরিক কাজ করে, বইপত্র পড়ে আর লেখালেখি নিয়ে সময় কেটে যাচ্ছে। আমার ক্ষেত্রে সত্যিকারের একটা  ‘অক্ষরবন্দি জীবন’। কিন্তু এই বন্দিত্বকে আমি কখনই আরোপিত বা বাধ্যতামূলক বলে ভাবিনি- কারণ তাতে করে আমি মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিঁছিয়ে যাব।এটা আমার সামান্য কৌশল। আমার এক বড় ভাই প্যানিক ডিজঅর্ডার আর ডিপ্রেশনে ভুগছেন জানতে পেরে তাঁকে এই কথাগুলোই বুঝিয়ে বললাম। তিনি ঘরে বসে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন আর বাইরে বের হবার কথা ভাবলেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তাকে আমি আরো বললাম, সারা জীবন চাকুরিসূত্রে দূরে দূরে থেকে পরিবারকে এবং নিজেকে বঞ্চিত করেছেন, আজ এই অতিমারির সুযোগে হারানো সময়গুলো ফিরিয়ে আনার একটা সময় ও সুযোগও কিন্তু উপস্থিত! যাহোক, এই সময়ে অনেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন; কিন্তু আতঙ্কগ্রস্ত হওয়াতো সমস্যার সমাধানের উপায় নয়। আবার এ কথাও সত্যি, আমাদের ইচ্ছাশক্তি আর যুক্তির ভাষাও আজ অসহায়।এর ফলে আপনি আতঙ্কগ্রস্ত না হয়েও আতঙ্কিত জনসাধারণের মতো আচরণ করে ফেলতে পারেন। ধরুন, সরকার আশ্বস্ত করেছে এবং আপনি নিজেও বিশ্বাস করেন বাজারে চালের মজুদ ভাল । কিন্তু, একদল আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে বাজারের চাল কিনে ফেলছে, বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। আপনিও তখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বেশি করে চাল কিনে ফেলছেন। অথচ আপনি আতঙ্কিত নন, আতঙ্কিত জনগণের আচরণই আপনার আচরণ ঠিক করে দিচ্ছে!

এই বৈশ্বিক মহামারির শুরুতেই আমাকে কিছু নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।গোটা পৃথিবীটাই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রথমত, স্টিগমা– আক্রান্ত রোগিকে,   এমনকি দায়িত্ব পালনকারী ডাক্তারকেও যে সামাজিক স্টিগমার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তা ছিল অভাবিত, এবং এর চরম নিদর্শনগুলো ছিল খুবই দুর্ভাগ্যজনক। দ্বিতীয়ত-দুর্নীতি। মানুষের জীবনকে বাজি ধরে শাদা কলারের অপরাধ, অসততা আর প্রতারণার নিকৃষ্ট উদাহরণগুলো দেখতে পাচ্ছি। তৃতীয়ত- প্রতীয়মান হচ্ছে যে এই দুঃসময়ে সাহিত্যচর্চাই সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় পেশা। চতুর্থত – অতিমারির শুরুতেই প্রিয় বন্ধু বিয়োগ। আমার বন্ধুটি ডাক্তার, বিলেতে প্রতিষ্ঠিত ছিল, ডা. আবদুল মাবুদ চৌধুরী ফয়সাল। মার্চ মাসের মাঝামাঝি কোভিড-১৯ এ আক্তান্ত হয়ে সে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে একটি চিঠি লিখেছিল যা খুব আলোচিত হয়। ফয়সালের জন্য বিলেতি কবি ব্রায়ান প্যাটেনের একটি কবিতা ভাবানুবাদ করে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছিলাম। উল্লেখ্য, ব্রায়ান প্যাটেন হচ্ছেন ‘দা মারসে সাউন্ড’ খ্যাত লিভারপুলের তিন কিংবদন্তী কবির কনিষ্ঠতম। কবিতাটি এই –

ঘুমিয়ে গেলে তুমি
[ উৎসর্গ- আমাদের সিসিফাস বন্ধু আবদুল মাবুদ চৌধুরী ফয়সাল ] 

আমাদেরকে রিহার্সালে ডেকে তুমি দরজা এঁটে ঘুম দিচ্ছ, আহা কতই না অর্থবহ হতে পারত এবারের পহেলা বৈশাখের গান- তাপস নিঃশ্বাস বায়ে!
পৃথিবীর সব বড় বড় শহরের সকল স্নায়ুগুচ্ছ উদ্বেল, আর তুমি ঘুমাতে গেলে!
ভালবাসাতেও নোঙ্গর ফেলছ না, নাকি তরুণ দিনের দক্ষ অভিনেতার মত ঘুমের ছলে চোখ বুঁজে আছ!

আমাদের গলা শুকিয়ে আসছে, জিহ্বা ভারি হয়ে আছে না বলা কথাগুলো গিলে ফেলতে গিয়ে, ভাগাভাগি করে ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর চোখগুলো এখন খরাতপ্ত কার্তিকের মাঠের মতো শুকনো।

তোমার নিবিড় পরিচর্যার কেবিনের মাথার বালিশ থেকে আশা কিংবা ভবিষ্যৎ খুব বেশি দূরে প্রসারিত হয়নি আর, পৃথিবীর কঠিন বিব্রতকর প্রশ্নগুলো অবান্তর হয়ে গেছে রাত পোহাবার আগেই। আলিঙ্গন, করমর্দন সবই অসাড়। এখনো বিশ্বাস করি না তুমি হারিয়ে যেতে পারো।
হায়, তুমি ঘুমিয়ে গেলে!

আমাদের আলিঙ্গনে তুমি চিরদিন আছ, এটা আজ থেকে এক মায়াবী আবিষ্কার হয়ে থাকবে।

বড্ড ক্লান্ত এই নিদ্রা তোমার, কে আর শীতল বিছন দিবে এনে, কোন ধন্বন্তরি তোমাকে জাগাবে আবার!
তোমার একান্ত ঘুমে আমাদের প্রবেশাধিকার নাই আর।

ওদিকে আমাদের শুকনো দৃষ্টিগুলো দেখছিল, একটি আলোকিত গ্রহ ছিটকে যাচ্ছে কক্ষপথের বাইরে,
সারা রাত ডাকলেও কথা শুনল না, বুঝতে চাইল না প্রার্থনা কিংবা কান্নার ভাষা।
তুমিও জাগবে না আর।

অতএব ঘুমাও, জানালায় ভেসে আসা স্বর্গের ছোট্ট টুকরোটি চোখে মেখে
ক্লান্তিহর এই নিদ্রা
৯৯, ৯৮, ৯৭, ৯৬, ৯৫ …
ভেড়ার পালের মতো ভেসে যাওয়া নক্ষত্রের ঝাঁক –
উপগ্রহের মতো দিনপঞ্জি চক্কর দেয়া

পঞ্চাশোর্ধ বন্ধুদের বুকচাপা বেদনাগুলো।
ঘুমাও –
আজ ঘুমিয়েছ অবশেষে;
কাল পুনরুত্থান হবে অন্য রূপে।

[ব্রায়ান প্যাটেনের কবিতার ভাব অবলম্বনে ]

অতিমারির শুরুতেই প্রিয় বন্ধু আব্দুল মাবুদ চৌধুরী ফয়সালের জীবনাবসান।

এবারে কবিতা থেকে আবার আসা যাক বৈশ্বিক মহামারিতে আমাদের মানসিক প্রতিক্রিয়ার কথায়। এলিজাবেথ কবলার রস তাঁর ‘ অন ডেথ অ্যান্ড ডায়িং’ বইতে  অসুস্থতায় মানসিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পাঁচ স্তর বিশিষ্ট একটা মডেলের কথা বলেছেন-
১। অস্বীকার- আমরা সত্যকে অস্বীকার করতে চাই- ‘ আমার ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই এটা হতে পারে না’।
২। আমরা রাগ করি- সত্যকে অস্বীকার করা যাচ্ছে না বলে রাগ হয়।
৩। প্রত্যাশা – হয়ত বিপদটা উৎরে যেতে পারি এমন একটা গোপন আশা থাকে।
৪। বিষাদগ্রস্ততা – হতাশ হয়ে চারপাশ সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা – ‘ মারা যাচ্ছি আমি!’
৫। মেনে নেয়া – লড়াই করার মনোবল হারিয়ে ফেলা। শক্তি শেষ। কিংবা এখন যা করা দরকার তা করব।
তিনি ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও এই পাঁচটি ধাপ ব্যবহার করেছেন।

একই ভাবে দার্শনিক স্লাভোজ জিজেক দেখিয়েছেন, সামাজিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও  আমরা একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাই। মধ্য যুগে একটি শহরে প্লেগ ছড়িয়ে পরার পটভূমিতে নগরবাসী প্রথমে অস্বীকারের পরে রাগ করে – ভাবে নিজেদের পাপের জন্য ঈশ্বর শাস্তি হিসেবে মহামারি পাঠিয়েছেন। আমাদের সমাজ –সংস্কৃতিতেও এ ধরণের দুর্যোগকে অনেকেই ‘খোদার গজব’ বলেন। সেই শহরে বিষাদগ্রস্ততার ধাপ শেষে অবশ্য লাগামহীন আনন্দ উৎসবে ভেসে যাবার দৃষ্টান্তও ছিল।

জিজেক দেখিয়েছেন, আমরাও কোভিড-১৯ অতিমারিকে মানসিকভাবে একইভাবে মোকাবেলা করছি।
প্রথমত, অস্বীকার করেছি এই গরমের দেশে ভাইরাসটি আসবে না; এটা শীতের দেশের সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা পর্যন্ত টেলিভিশনে এই বার্তা দিয়েছেন!  বৃটেনে আমার কোভিড আক্রান্ত বন্ধু ফয়সাল সামাজিক মাধ্যমে  লিখেছিল- কর্তাব্যক্তিরা প্রথমে কোভিডকে আমলে আনেননি, চিকিৎসাকর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা করেননি। বাংলাদেশে শুনেছি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্পূর্ন প্রস্তুত; ভাইরাস আঘাত হানতে পারবে না।

দ্বিতীয় ধাপে, আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চীনের উপরে কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপর ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব রাগ দেখালেন। রাস্ট্রযন্ত্র বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুক কাঠামো নিয়েও দেশে দেশে মানুষ রাগ দেখিয়েছে।

তারপর প্রত্যাশা- হয়ত কোভিড-১৯, সার্সের চাইতেও কম প্রাণঘাতী হবে, কিংবা- তাপমাত্রা বাড়লেই চলে যাবে। আর ভ্যাকসিন চলে আসছে শিগগিরই!

এরপরে বিষাদগ্রস্ততা শেষে আমরা ‘নিউ নরমাল লাইফ’ পরিস্থিতি মেনে নিলাম। ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও গত সপ্তাহে দেখা গেল একটা কালো রঙের ফেস মাস্ক পড়ে ছবি তুলেছেন!

দার্শনিক জিজেক বলেছেন , “ভাইরাসজনিত মহামারি আমাদেরকে জীবনের চূড়ান্ত  অনিশ্চয়তা ও অর্থহীনতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়; আমরা মানবতার যতই জাঁকজমকপূর্ণ স্বপ্ন সৌধ নির্মাণ করি না কেন তা কোনো ব্যাপার নয়, একটি ভাইরাসের মতো একটি প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তা সবকিছু শেষ করে দিতে পারে।“ মহামারি নিয়ে লেখা সাহিত্য বলতেই আলবেয়ার কামুর ‘প্লেগ’ এর কথা মাথায় আসে, সেখানেও তিনি একই সত্য উদঘাটন করে গেছেন।প্লেগের নায়ক রিউ একজন ডাক্তার। নবনীতা দেবসেন বলেন, তাঁর মূল সমস্যা হচ্ছে, মৃত্যুশাসিত জীবনকে পূর্ণতা  দিতে গিয়ে ব্যক্তি মানুষের অর্থহীন প্রয়াস। কামু প্লেগকে বলেছেন মহামারির ‘ইতিকথা’। অবশ্য এই নৈর্ব্যক্তিক ইতিকথা রচনার এগারো বছর আগেই আমাদের হাতে এসেছিল নিরুত্তাপ, অনুত্তেজিত, ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে লেখা  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’। এর নায়ক শশী ডাক্তারেরও একই সমস্যা। দুই উপন্যাসেই প্রথম পাতায় দুই ডাক্তার ভিন্ন দুটি মৃত্যুকে সঙ্গী করে উপন্যাসে প্রবেশ করেন। দুটি উপন্যাসের থিমই দৈবের কাছে মানুষের অসহায়ত্ব; মানুষের যুক্তির ভাষা দৈবের অযৌক্তিকতার কাছে অসহায়ভাবে হার মানে। আর যারা মানুষকে উদ্ধার করতে চায়- সমাজ, সমষ্টি কিংবা পরিপার্শ্বের চাপে তাঁরা পিছপা হয়। স্বাপ্নিক মানুষেরা নিজ গৃহে পরবাসী- নির্বাসিত নায়ক। দুটি উপন্যাসই রূপক। দুই লেখকই মূঢ় জগতের বাস্তবতায় শিল্পীর আকাঙ্ক্ষিত সুষমা সৃষ্টি করতে পারেননি, যদিও শিল্পী সুন্দরেরই পূজারী। কারণ শিল্পী জানেন, মৃত্যুবাহী রোগের বীজ কোনো দিনই ধ্বংস বা নির্মূল হয় না।

আমার আজকের আলোচনার কোনো উপসংহার নেই। গত তিন-চার মাসে কিছু কবিতা, কিছু স্মৃতিকথা লিখেছি, কিছু অনুবাদের কাজ করেছি। এবারে লকডাউনে লেখা নিজের কিছু কবিতাংশ পড়ে শোনাব। কবিতাংশগুলোকে মহামারির সেই পাঁচ ধাপের সাথেও মিলিয়ে নিয়ে পড়া যাবে।

বন্ধুর মৃত্যু আমাকে কাতর করেছে-
‘জন্মদিন নিরর্থক হয়ে গেলে
ভাষাহীন রাত্রিতে নিম্নচাপ ঘনায়; সে সব ছাপিয়ে
ভাস্কর চক্রবর্তীর জিরাফের বর্ণমালা লতিয়ে উঠে;
লিখতে হয় দাঁত চেপে, অবজ্ঞার ধুলো ঝেড়ে –
অজস্র সকাল হয়তো থাকে না উত্তর পঞ্চাশের মহামারি দিনে।‘

‘সামাজিক দূরত্ব’ আর প্রেমের মেলবন্ধন আছে এই কবিতায়-
‘ এত বছর পরেও তোমার মুখের রং
লিটমাস পেপারের মত বদলে গেল;

সামাজিক দূরত্ব থাকলেও চিরকালই
কখনো আমি কি বহিরাগত ছিলাম!’

কবলার মডেলের সেই ‘মেনে নেয়া’ –
‘লকডাউন হয়ে এলে প্রতিবেশী গলি, আমরা যেনবা বাড়ির নম্বর ঝুলানো বিভিন্ন কবরে বসে আছি। … জ্যান্ত কবরে বসে বেশ সাহিত্য হচ্ছে। কবিতার বইগুলো কেমন সারবত্তাহীন লাগে, শান্তি দিল কই মহামারিকালে! বরং নিজেই লিখছি দু’একটা কবিতা সমারূঢ় বন্দোবস্তে।‘

কবলার মডেলের ‘প্রত্যাশা’  –
‘গার্সিয়া মার্কেস বইয়ে দিন সাত দিন সাত রাত্তিরের
উথাল-পাথাল স্যাপোনিফিকেশন-
সাবানজলের হন্তারক বৃষ্টি!
স্পিলবার্গের কল্পকাহিনী ছেড়ে
মেঘের মেশিনে তরতরিয়ে উঠুক বৈশ্বিক ফারেনহাইটের শিখা অনির্বাণ
লহমায় গুঁড়িয়ে দিতে বিমারি মুসিবত।‘

জানি এ শহরে মৃত্যুর মিছিলে আরো মানুষ যোগ দিবে-
‘মহামারী থেমে গেলে

কেউ কেউ আর আসব না শহর জঙ্গমে –  শাহবাগে, বাংলা মোটরে
কারো কারো সাথে
হয়ত শেষ দেখা চিহ্নিত হয়ে আছে
দূরের ক্যালেন্ডারে;
… নর্থ এন্ডে কফির নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে যারা
হয়ত শেষবার আমাদের দেখা হল না।‘

আর যদি এই মৌসুমে আমার নিজেরই মৃত্যু হয়-
“ঠান্ডা পেপসির তৃষ্ণা নিয়ে ফ্রিজ খুলতে আসব;
সন্তর্পনে বুকশেলফের পিছন সারি থেকে

ছবির এ্যালবাম উল্টানো শেষ হলে
তোমার চাবির গোছা খুঁজে
শেষ পাণ্ডুলিপির দুটো বানান শুধরে নিব;
উপস্থিত পেনসিল দিয়েই নতুন একটা লাইন বসিয়ে যাব
‘নদীমাতৃক’ কবিতাটির শেষে।

মেয়েদের শিয়রে দাঁড়াব একবার
অপূর্ব নিদ্রিত মুখদুটো দেখব বলে।“

আশার কথা।এই বৈশ্বিক মহামারিতে প্রকৃতি আরো সুন্দর হয়েছে, আরো নির্মল হয়েছে –
‘নীল ঢেউয়ের মাথায় মাতোয়ারা ডলফিন,
কাছিমের মেলা বসে গেছে সুদূর সৈকতে।‘

কৃতজ্ঞতা –
১। এলিজাবেথ কবলার রস – অন ডেথ অ্যান্ড ডায়িং
২। স্লাভোজ জিজেক – প্যানডেমিক : কোইড-১৯ শেকস দা ওয়ার্ড
৩। নবনীতা দেবসেন – ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী : শশী ও রিউ
৪। ব্রায়ান প্যাটেন – নির্বাচিত কবিতা
৫। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়- পুতুল নাচের ইতিকথা
৬। আলবেয়ার কামু – দ্য প্লেগ।

মোশতাক আহমদ
কবি, অনুবাদক, গদ্যকার ও
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
অনুবাদিত গ্রন্থ: ‘যাই ভেসে কোন দেশে’।
ঢাকা, বাংলাদেশ।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments