ব্রায়ান লারা ও আমার অবিস্মরণীয় একটি সন্ধ্যা স্মৃতি -নাদিরা সুলতানা নদী

  •  
  •  
  •  
  •  

 200 views

গেলো সপ্তাহের রোববারের বিকেলটা অন্য আরেকটি রোববারের মতোই ছিলো। রান্না ঘরে কাজ করছি। হঠাৎই মোবাইলে টুং টাং মেসেজ, তিনটা ছবি এবং প্রশ্ন, ‘দেখো তো চিনতে পারো কিনা ?’ পাঁচ সেকেন্ড স্ক্রিনে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি, ইহা আমি কী দেখছি ! চোখ যদি ভুল না করে, এতো বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেট বিস্ময় ব্রায়ান লারা, আমার ভালোবাসা।

সাথে সাথেই কল দিলাম, ঘটনার বিবরণে সেই আবেগাপ্লুত গাড়ি চালকের কাছ থেকে যা জানলাম, মেলবোর্ন ক্যাসিনো ক্রাউনে চালক ট্যাক্সি স্ট্যান্ডিংয়ে অপেক্ষারত ছিলেন। এলেন এক আফ্রিকান মানুষ, ঘটনাচক্রে এর আগে দুই একটা খারাপ যাত্রী অভিজ্ঞতা হওয়ায় গ্লাস নামানোর পর যখন জিজ্ঞেস করলেন, যাবে কিনা? মনের মাঝে একটা চাপা ক্ষোভ নিয়েই চালক বললেন, ‘ইয়েস’ এবং সরাসরি না তাকিয়েই!

যাত্রী ভীষণ বিনয়ের সাথে পাশের সিটবেল্ট লাগিয়ে বসলেন এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন..
হে ম্যান হাউ আর ইউ, হোয়ার ইউ ফ্রম?
: আই এম ফ্রম বাংলাদেশ।ইউ?
: আই এম ফ্রম ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
: ও ডু ইউ লাইক ক্রিকেট?
: ইয়েস আই ডু।
চালক মহা উচ্ছ্বাসে জানালেন ও তুমি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ক্রিকেটের দেশ, ভিভ রিচার্ড এবং ব্রায়ান লারার দেশ।
: ডু ইউ লাভ ক্রিকেট, লারা ছাড়া তুমি আর কাকে পছন্দ কর ফ্রম ওয়েস্টইন্ডিজ?
এরপর… কথা আগাতে থাকে এবং হঠাৎই পাশে বসা যাত্রী মোবাইল বের করে দেখালেন ব্রায়ান লারা এখন মেলবোর্ন এবং আসছে উইকেন্ডে হতে যাচ্ছে তাঁরই একটা ইভেন্ট।

চমকের পর চমক, ক্রিকেট নিয়ে অনেক জানা সেই লোককে দেখে ট্যাক্সি চালক এবার রীতিমত মুগ্ধ, এবং সেই মুগ্ধতা নিয়ে জানালো
”ইউ নো হোয়াট, তুমি দেখতে অনেকটা ব্রায়ান লারার মত”!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই ভদ্রলোকের হাসি এবার প্রবল থেকে প্রবলতর। হঠাৎই জানালো, ”যদি বলি আমিই ”ব্রায়ান লারা” বিশ্বাস করবে”?

এরপর আসলে কয়েক সেকেন্ডে ঘটনা ট্যাক্সি চালকের আয়ত্বের বাইরে চলে যায়। সরাসরি তাকিয়ে নিজের ভিতরের সবটুকু উত্তেজনা লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে কেবলই মনে হতে থাকে ইস কতোটা সময় নষ্ট হয়ে গেল। তাঁকে চিনতে সময় নেয়াটাকে ঠিক কিভাবে সামাল দিয়ে বাকি সময়টুকু কাজে লাগানো যায় এবার সেইদিকেই করে মনোনিবেশ।

ট্যাক্সিতে ব্রায়ান লারা

বাংলাদেশ ক্রিকেট ভালোবাসে এমন এক চল্লিশোর্ধ যুবকের পাশে বসে আছে ক্রিকেট লিজেন্ড ‘’ব্রায়ান লারা’’। যে ভেন্যুতে এই প্রোগ্রামটা হতে যাচ্ছে সেখানেই যাচ্ছে সে পরিদর্শনে। লারা বুঝতে পারে পাশে থাকা এই ভক্তের মনের অবস্থা। তারপরই হয়ে যায় লিজেন্ডের সাথে একটি সেলফি।

ব্রায়ান লারা যখন বালক

স্বপ্নের মত এমন ঘটনার এই অবস্থায় চালক কোনভাবে বলে উঠে, আসলে তুমি আমার যত না প্রিয় আমার স্ত্রী তোমার আর শচিনের ভক্ত অনেক অনেক বেশী। ওর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে তুমি হিরো।
ব্রায়ান লারা, তাকে বিস্মিত করে বলে, আমি আমার বন্ধুর নাম্বার দিচ্ছি, তুমি এই ইভেন্টে তোমার পরিবার নিয়ে এসো। দেখা হবে আবার তুমি এলে।

ব্রায়ান লারা ভেন্যুতে নেমে যাওয়ার পরই প্রবল উত্তেজনা নিয়ে চালক ফোনটা আমাকে করে।
ও আচ্ছা প্রিয় পাঠক, বলা হয়নি এখনও, চালকের সাথে আমার যোগসুত্র কী, ইয়ে মানে আমার একমাত্র ছেলের বাবা এবং লারাকে তিনি আমার কথাই বলে এসেছেন।
ব্রায়ান লারার এই মেলবোর্ন সন্ধ্যা ছিলো ২৮ এবং ২৯ নভেম্বর’১৯। যদিও লারার বন্ধু মারফত আমরা জানতে পারি আমাদের সাথে লারার দেখা করিয়ে দেবেন তিনি। তবুও আমি আশ্বস্থ হতে পারিনা। কারণ ইভেন্ট পেজে ঢুঁকে যখন দেখি, ভেন্যু, টিকেটের মূল্য এবং প্রোগ্রাম হোস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত উপস্থাপক ডিয়ানো #ProfDeano।

এর মাঝে আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ‘পুত্র নভঃকে’ তার বাবার সাথের ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করি সে যেতে চায় কিনা। বলে নেই ছেলে আমার ফুটবলপ্রিয়, মানে সকার লাভার। ক্রিকেট নিয়ে খুব বেশী মাতামাতি নেই বললেই চলে। ব্রায়ান লারা ক্রিকেটের সাথে কতখানি, কি বিষয় তাঁকে বলি বাবা গুগল করে জেনে দেখ, জানাও যাবে কি যাবেনা।
আমি আর রিস্ক না নিয়ে সবচেয়ে কম মুল্যের যা আমাদের পক্ষে সম্ভব তিনটা টিকেট কিনেই ফেলি। লারার বন্ধু ঠিক কি করবে বা কতটুকু করবে না ভেবেই।

২৮ নভেম্বর ২০১৯  বৃহস্পতিবার, প্রোগ্রাম সন্ধ্যে ৭টায় শুরু, ছেলে এবং ওর বাবা আমাকে অফিস শেষে উঠিয়ে নিয়ে ভেন্যুতে পৌঁছাতে একটু দেরী হয়েই যায়।
অডিটরিয়ামে ঢুঁকেই দেখি মঞ্চ জুড়ে লারা, পিছনের পর্দা এবং উপস্থাপকের সাথে মঞ্চে উপবিষ্ট। লারাকে প্রশ্ন করছেন, লারা ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন ইংরেজিতে, কিছুটা বুদ্ধিমত্তা এবং রসবোধ দিয়ে একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রায় এক ডজন ভাই বোন নিয়ে লারার পরিবার। উপস্থাপক অডিটরিয়ামে থাকা দর্শকদের মাঝে এমন কেউ আছেন কিনা জানতে চান যার ১০ বা ১১ জন ছেলেমেয়ে।
লারা বলতে থাকেন, তাঁর বেড়ে উঠার গল্প। সে এবং তাঁর বড় ভাই মূলত ক্রিকেট ভালোবাসতো। স্কুলের মাঠ, বাড়ির আঙ্গিনা, গ্যারেজ সবখানেই সেই বড় ভাইকে মোকাবেলা করা শিখতে শিখতেই লারা।
লারা যখন বলতে থাকেন, স্কুলের পড়া দিনগুলোতে তাঁর বাবা মায়ের শাসন বা শৃঙ্খলার কথা, আমার মনে হতে থাকে এ যেন খুব চেনা নিজের দেশের কারো গল্প শুনছি। স্কুল থেকে ফিরে বিকেলের খেলার পর সন্ধ্যায় পরদিনের পড়ার প্রস্তুতি নিয়ে ঘুমাতে যেতে হবে, কিন্তু এরমাঝে রেডিওতে কোন ক্রিকেট শুনার উপলক্ষ থাকলে সে বা তাঁর ভাইয়েরা কিছুতেই মিস করতেননা। অল্প সাউন্ডে শুনছেন, এর মাঝেই হয়তো দেখা গেল বাবা উঠে আসছেন খোঁজ নিতে। রেডিও বন্ধ করে সব দ্রুত স্বাভাবিক করে ফেলতেন। এবং বাবা চলে যাওয়ার পর চুপি চুপি বাবার ঘরের দিকে যেয়ে শোনা যেত বাবাও শুনছেন ‘’ক্রিকেট’’। এমন এক স্পোর্টস লাভিং পরিবারেই জন্ম এবং ক্রিকেট নিয়ে বেড়ে উঠা।

মূলতঃ কথোপকথনে উঠে আসে অস্ট্রেলিয়া খেলতে আসা বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। কোন এক সফরে, রাতে অস্ট্রেলিয়ান টিমের কজনের সাথে টুর্নামেন্টের আগের রাতে ডিনার করছেন, আইটেম যা যা নিজের জন্যে বাছাই করেছেন তার মাঝে আছে ডাক রোস্ট, হাঁসের মাংস, তাই নিয়ে হাসাহাসি। পরদিন কে ডাক হতে পারে মাঠে, ডাক দিয়ে ডিনার, ডাক হতে পারেন এমন বিশ্বাসে যে ক্রিকেটার হাঁস খাওয়া থেকে বিরত হতে বলেছিলেন, তিনিই কিনা… লারার এমন রসবোধের বিষয়ে আমার কোন ধারণাই ছিলোনা এর আগে।

লারা ক্রিকেটের এক সময়ের বরপুত্র, রেকর্ডের পর পর রেকর্ড স্ক্রিনে উঠে আসে, উপস্থাপক জানতে চান নেপথ্যের সব অজানা কথা। লারা এত সুন্দর বলেন বা বলতে পারেন আমি হই নূতন করে মুগ্ধ।

খুব স্বাভাবিক ভাবেই উঠে আসে কোন বোলারকে ফেইস করতে গিয়ে বেশী ভাবেন, বা তাঁকে ভাবাতে পারে কিনা।

শচীন আমার কাছে সব সময়ের সেরা: লারা

উঠে আসে সেঞ্চুরীর আগে কোন নাম্বারে হয়ে যেতেন কিনা নার্ভাস,  রেকর্ড যা বলে, জানালেন একদমই না তারপরও কি চলতো মনে বা কোচের কোন কথা মাথায় রাখতেন।

এবং যা না বললেই নয়, শচিন এবং লারা প্রসঙ্গ। লারার সাথে শচিনের বন্ধুত্ব সবার জানা। উপস্থাপক নিয়ে এলেন সেই প্রসঙ্গ এবং লারার জবানে উঠেও আসে তা।
নিজেদের মাঝের তুলনা, মিডিয়া আলোচনা সব ছাপিয়ে লারার কন্ঠে শচীনের জন্যে সমীহ এবং বন্ধুত্বই আসে উঠে।
পর্দায় ভেসে উঠে শচিন এবং এই সময়ের ভারত অধিনায়কের মুখ, কাকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন বা কে বেষ্ট তাঁর দৃষ্টিতে।

লারা বলেন, দেখুন আপনি যদি বলেন পেলে না ম্যারাডোনা, রোনালদো না এই সময়ের মেসি… না এঁরা একেক সময়ের একেক জন সেরা, তাঁদের স্বমহিমায় পাওয়ারফুল। তবে শচিন আমার কাছে ক্লাসিক, সব সময়ের সেরা কেউ।
পুরো ক্যারিয়ারে খারাপ সময় এসেছে কিভাবে করেছেন তা অতিক্রম করেন সেই অনুভবও করেন শেয়ার। ক্রিকেট বন্ধু, পরিবার, দেশ, কোচকে কিভাবে তাঁকে দিয়েছেন শক্তি সাহস, তুলে ধরেন আবেগ দিয়ে।

একবার পাক বোলার শোয়েব আক্তারকে খেলতে গিয়ে হেলমেট ছুঁয়ে ঘার মাথার মাঝামাঝি একটা জায়গায় বল লেগে, হয়েছিলেন ধরাশায়ী। খুব খারাপ কিছু হতে পারতো, সেই দিনের ভয়ঙ্কর স্মৃতিতেই উঠে আসে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার হিউজের চলে যাওয়ার কথা। লারার তেমনটি হয়নি, উপস্থাপক যখন বলতে থাকেন, পুরো হল জুড়ে কেমন একটা বিষণ্ণতা ছড়িয়ে পরে যেন… লারা ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন তবু আজও আছেন সেই ক্রিকেটেই, এ বিশাল প্রাপ্তি। সমবেত দর্শক যেন কিছু না বলেও এমনই বলতে থাকেন।

লারার মেয়ে, নাম কিনা সিডনী, সেই কন্যার সাথে বাবার এক ছবি যখন ভেসে উঠে পর্দায়। উপস্থাপক মজাচ্ছলে বলে উঠেন, তাও ভালো তোমার মেয়ে সিডনী, আফগান বা পাকিস্তান না !

প্রায় দুই ঘন্টার এই ইন্টারভিউ সেশন প্রায় শেষ, এবার মঞ্চে ঘোষণা, লারার এই শোতেই আছে বেশ কিছু ক্রিকেট সামগ্রী, উঠে আসছে এখনই অকশনে, ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যে আজই সুযোগ থাকছে এই সব বিশেষ সংগ্রহ কিনে তাঁর অটোগ্রাফ সহ বিশেষ ছবি উঠানোর এবং এর বাইরে যারা শুধু বাড়তি টাকা দিয়েছেন ফটো সেশনের জন্যে ঘোষণা।

লেখকের পরিবারের সাথে ব্রায়ান লারা

এবার আমাদের ফেরার পালা, আমি জানিনা লারার সেই বন্ধু আসলেই আমাদের জন্যে কিছু করবেন কিনা, যদিও মেসেজ পাঠিয়েছেন অপেক্ষা করতে। গোটা ৩০০/৪০০ মানুষের মাঝে শতেক মানুষ শুধু অডিটরিয়ামে থাকছেন, সিকিউরিটি এসে আমাদের জিজ্ঞেস করছেন আমরা কি কিছু কিনেছি বা ফটোসেশন বুক করেছি কিনা! আমি জানাই অল্প কথায় ফ্যাক্ট, সিকিরিটি বলেন অপেক্ষা করতে।

লারার বন্ধু আসেন এবার আমাদের কাছে, আমাকে বিস্মিত করে, ফটোসেশনের লম্বা কিউতে আমাদের ইন করিয়ে দিয়ে বিশেষভাবে বলে দেন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে।

আমাদের পালা  যখন এলো, আমি প্রবল উত্তেজিত, সিকিউরিটির হাতে মোবাইল দিয়ে কোন ভাবে তাঁর পাশে যেয়ে দাঁড়ালাম। আমি ঠিক কি বলবো অনেকবার মনে মনে গুছিয়ে গেলেও হঠাৎ যেন কথারা সব হারায় খেই। তারপর বলি, আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যান, আমি ক্রিকেট ভালবেসেছিলাম তুমি ও শচীনের জন্যে এবং জানো কী বাংলাদেশে তোমার অনেক ফ্যান।
যারা ফটো উঠাবে তাঁরা পরে যায় বিপদে, আমি কথা বলছি, ছবি তো একটাও ঠিক মত আসছেনা,  আমি কোনভাবে বলি তোমার অটোগ্রাফ প্লিজ…

লারা পুরো মুখে অমায়িক এক হাসি ধরে রাখে। আমার পুত্র নভকে কাছে টেনে নিয়ে ছবি উঠায়, নভর বাবাকে বলে আমি তোমাকে চিনেছি, ফ্যামিলি নিয়ে এসেছ খুশী হয়েছি।

আমি চলে যেতে যেতে বলি ভালো থেকো তুমি, বেষ্ট উইশেস ফর ইউ অলওয়েজ, লারা আমাদের ফিরে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে যেন অনেক কথাই বলে যায়, কোন কথা না বলি!

ভুলে যাইনা লারার বন্ধুকে আবার খুঁজে ধন্যবাদ দিতে, বলি সুযোগ থাকলে আমি লাঞ্চ বা ডিনারে বলতে চাই, ও মজা করে বলে তুমি ডাল পুরী, ছোলা ভাটুরা বানাতে পার, তোমাদের এইসব খাবার আমাদের পছন্দ, আমি বলি পারিনা, বাসায় এলে শিখে নেব বৈকি।

না ব্যস্ত এই সফর শেষে সিডনি হয়ে ফিরে গেছেন লারা দুই দিন পরই, ক্রিকেট ভালোবেসে তাঁর এই জার্নি চলতে থাকুক, শুভ হোক তাঁর আগামীর সব মিশন! আমি মনে রাখবো আমৃত্যু এই স্বপ্ন সন্ধ্যার এইটুকুন সময়।

নাদিরা সুলতানা নদী
কলামিস্ট/সংস্কৃতি কর্মী
উপস্থাপক, বাংলা রেডিও
সহযোগী সম্পাদক, প্রশান্তিকা।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments