মনের জানালা খুলে বেরিয়ে আসুন-তানজিলা মিম

3033

প্রকৃতির রং রূপের মাঝে সাতরে বেড়ানো আমি প্রবাসী হয়েছি অনেক দিন হল। বিরামহীন  হাসিতে যার তুলনা মেলা ভার।নরম কাদামাটির গড়া এই আমি বাস্তবতার নানান চড়াই উতরাই পেরিয়ে  মুল পেশার পরিবর্তন  পরিমার্জন করে আজ একজন কোয়ালিফাইড কাউন্সিলর। সেই সাথে সাথে একজন ইন্টারপেটর।  প্রকৃতির মত মানুষের  মনের নানান দিক  নিয়ে ভাবতেও আমার ভীষণ ভালো লাগে। আমি দেখি খোলা  মনে। সবাই আসলে সবার মত সুন্দর। হয়ত যার যার সুখের সংজ্ঞা ভিন্ন বলেই আমরা অন্যের চোখে নিজেকে দেখতে পারি না। কথাটা উল্টো করেও বলা যায়। সুযোগ পেলেই আমি চারপাশে তাকাই, জ্বী আমি বলেছি আমি তাকাই …। দেখি না। তাকানো এবং দেখার মাঝে কিন্তু বিরাট ফারাক। আমি তাকাই মানুষের কথার দিকে, আমি তাকাই মানুষের ভাবনার দিকে, আমি তাকাই মানুষের চিন্তার দিকে। তাকাই প্রকৃতির দিকে, সমাজের দিকে, সামাজিকতার নামে চাপিয়ে দেওয়া  নানা মানসিকতার দিকে। ছোটবেলা থেকেই একটু ভিন্ন ভাবে ভাবতে শেখা আমি যখন মেডিটেশনের সাথে যুক্ত হলাম ভাবনাগুলো যেন  পাখা মেলে দিল। সবাই ভালোবাসা পেতে চায়; দিতে চায় খুব অল্প কজন। আমি সেই অল্প কজনের একজন হতে চেয়েছি আজীবন।  আমার কাছে সব মানুষকেই মনে হয় ভালো মানুষ। প্রতিটা মানুষের একদম ভেতরের যেই মানুষ সে কখনো খারাপ হয়না। দেখার চোখটা বদলে নিতে পারলে অনেক সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। সমমর্মী হতে পারি না বলেই আমরা অন্যকে বুঝতে ভুল করি। কবির কথায় যদি বলি ………তবে বলতে হয় … পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা কর।

কাউন্সেলিং এর সুবাদে মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করবার কিছুটা সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমাদের মানে বাঙ্গালিদের সমস্যাগুলো একটু ভিন্ন ধাঁচের কারন কালচারাল ভিন্নতা  আর এদেশের সদা হাস্যোজ্বল মানুষটির পেছনে কতটা নির্মম ইতিহাস লুকিয়ে  থাকতে পারে সেটা খালি চোখে দেখে বোঝার উপায় নাই। আমি একটু আগে বলেছি কালচারাল ভিন্নতা আসলে কালচার বা সংস্কৃতি কি সেটা নিয়ে আলোচনা করা এত ক্ষুদ্র পরিসরে সম্ভব না। শুধু এটাই বলতে পারি যে একই পারিবারের  দুজন মানুষের মাঝেও কিন্ত কালচারাল ভিন্নতা থাকতে পারে। আমি কোন দেশ কে বড় বা ছোট করবার জন্য কথাটা বলিনি সেটাই বুঝালাম।   আমাদের দেশে হয়ত ইদানীং কাউন্সেলিং কনসেপ্ট বেশ পপুলার হচ্ছে। শরীরের জ্বরে  আমরা কি বন্ধুর পরামর্শে  ওষুধ খাই? খাই  না। একজন কোয়ালিফাইড ডক্টরের শরণাপন্ন হই। কিন্তু এই মনের জ্বরের বেলাতেই যত অবহেলা। মনের জ্বর মানেই কিন্ত পাগল না। নদীর স্রোত যেমন সবসময় একই রকম থাকে না ঠিক তেমনই মনের অবস্থাও  পরিবর্তনশীল। একজন কোয়ালিফাইড কাউন্সেলর জানেন কিভাবে বিক্ষিপ্ত মনের অস্থির প্রশ্নগুলিকে  সঠিক রাস্তা দেখাতে হয়। একটা কোকের বোতল কে একটু ঝাঁকিয়ে দেখেন তো! এখন যদি বোতলের মুখ খুলে দেওয়া হয় বেশ খানিকটা কোক বুদবুঁদের মত বেরিয়ে যাবে। তারপরই কিন্তু আপনি কোক গ্লাসে ঢালতে পারবেন। মনের ভেতরের এই বুদবুদ সঠিক ভাবে  বের না করে দিতে পারলে কি হতে পারে একটু ভেবে দেখেন।

আগামী সংখ্যা থেকে আমি মিম;  আপনাদের পারিবারিক, মানসিক সামাজিক সংঘাত কিংবা শুধুই জানার  জন্য  যেকোন প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করব আমার ক্ষুদ্র  অভিজ্ঞতার আলোকে।  প্রশান্তিকার সাথে আপনাদের পাশে আমি আছি যতদিন আপনাদের প্রশ্ন আছে।  দেরি না করে আজই লিখে ফেলুন। হোক না খুবই সাধারণ কোন কৌতূহল!

তানজিলা মিম
কাউন্সিলর, মালটি লিঙ্গুয়াল ক্যাফে
কনভেনর, কোয়ান্টাম মেডিটেশন সোসাইটি মেলবোর্ন এফিলিয়েশন
অফ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, মেলবোর্ন অস্ট্রেলিয়া।
ইমেল: proshantika@gmail.com