মাতাল শিশু(১৮ ও ১৯তম পর্ব)/ধারাবাহিক উপন্যাস -মোয়াজ্জেম আজিম

  •  
  •  
  •  
  •  
মোয়াজ্জেম আজিম
১৮
মা আজ কাজে যায়নি। যাবে কিভাবে? আমাকে একা বাসায় রেখে যাওয়ার কোনো ভরসাই উনি পাচ্ছে না। আবার কাউকে পাচ্ছেও না যে বাসায় রেখে যাবে। খুলনার খালাকে ফোন করেছিল। উনি এখন একটা এনজিওতে কাজ করে। কাজেই আসতে পারবে না। কেউ তো বসে নাই। সবারই কাজ আছে। মা পুরোনো এক বুয়ার ফোন নাম্বার যোগাড় করে তাকেও ফোন করার চেষ্টা করেছিল। ফোন ধরে না। মা সমস্ত বান্ধবীদের ফোন করেছিল কেউ কোনো ডে-কেয়ারের খোঁজ দিতে পারে কিনা। একজন বললো, বাসাবো এলাকায় কোনো ডে-কেয়ার সেন্টার নাই। বাসাবোর আশেপাশে একমাত্র মালিবাগে নাকি একটা ডে-কেয়ার সেন্টার আছে। সেখানকার ফোন নাম্বার দিলো আন্টিটি। সেখানে মা ফোন করেছিল কিন্তু কোনো জায়গা খালি নাই। মাকে আজ আরো বেশী অসহায় মনে হচ্ছে।

কিন্তু আমি কী করতে পারি। মাকে তো বললাম যে আমি একা থাকতে পারবো। তুমি আমাকে তালা দিয়ে চলে যাও। শুধু টিভি দেখবো বসে বসে। আর না হয় পত্রিকা পড়বো। কিন্তু মা শুনবে না। মার খুব ভয়, যদি আমি একা একা ভয় পাই! কিন্তু আমি তো ভয় পাই না। আমি এখন বড় হয়ে গেছি না? দেখতে ছোট হলে কি আর আমি ছোট নাকি? বুঝি তো সবই। ফোন-টোন শেষ করে মা অসহায় ভঙ্গিতে বসে আছে টিভিকে সামনে নিয়ে। টিভিটা সত্যিই আমাদের সবার বন্ধু, ও না থাকলে আমরা কী নিয়ে বসে থাকতাম? কাকে সাথে নিয়ে টেনশান করতাম? এত এত খবরই-বা পেতাম কী করে? তাই সবাই টিভির জন্যে মরিয়া। কিন্তু মবিন সাহেব বলেন উল্টা কথা। টিভি নাকি আমাদের মগজ ধোলায় করছে প্রতিদিন। বলেন যে মিডিয়া নাকি সকল অপকর্মের হোতা। সবকিছু তাদের পছন্দমত মন্দকে ভাল, আবার ভালকে মন্দ বানাচ্ছে বসে বসে। সব বড়লোক খবিশদের টাকায় চলা এসব মিডিয়া মানুষের চোখে ঠুলি পরায়ে যা-খুশি তাই করতেছে। আমরা বেশীরভাগ মানুষ মিডিয়ার দাসে পরিণত হয়েছি। এবং মিডিয়া যা বলছে তা গিলে গিলে আবার চা-স্টলে গিয়ে বমি করছি। কী জানি বাবা, উনার কথা ঠিক, না বেটিক। আমি অবশ্য উনার কথা বিশ্বাস করি। লোকটা নিজের ধান্দায় কথা বলে না। বাকি সবাই সবার ধান্ধায় ব্যস্ত। আমার কথা হলো, ক্ষতি-টতি বুঝি না, বাবা। ঘরে বসে সময় কাটানোর এর চেয়ে মজার ব্যাপার আর নাই। ঘরে বসে দুনিয়া দেখছি, এটা কি কম কথা নাকি? আমি তো দেখি টিভি না থাকলে মুন্নি আরো আগেই পাগল হয়ে যেতো। অবশ্য ওর পালিয়ে যাওয়ার কারণটাও টিভি। টিভি দেখে দেখে ও প্রেম করা শিখেছে।
হঠাৎ করে মা ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছে কেঁদে কেঁদে। কী ব্যাপার, কী হলো! একটু মনোযোগ দিয়ে বুঝলাম কথা বলছে সাদিয়া আন্টির সাথে। হায় হায়, মা বলে কী! মাকে নাকি পুলিশ ফোন করেছিল এই এক্ষুনি! ওরা বলছে যে বাসাবো ঝিলে একটা তরুণীর লাশ পাওয়া গেছে। মাকে বলেছে তিনি যেহেতু এক তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে জিডি করেছেন কাজেই মার উচিৎ এখন মর্গে গিয়ে লাশ দেখা। লাশ এখনও থানায় আছে কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে চলে যাবে। মা কাঁদছে আর এই সব কথা বলছে সাদিয়া আন্টিকে। বলে, দোস্ত, যে করেই হোক একবার আয়। আমি একা সাহস পাচ্ছি না মর্গে যাওয়ার। আবার বাবুকেই-বা কে দেখবে? আমি এখন কী করবো? আমার মাথা কাজ করছে না। বাবুকে নিয়ে কি আমি মর্গে যাবো? তুই আসলেও তো বাবুকে নিয়েই যেতে হবে! হায় আল্লা, আমি এখন কী করবো বুঝতে পারছি না। তুই কি সুমিকে একটু ট্রাই করবি, দোস্ত? মার কান্না কিছুতেই থামে না। মার দেখাদেখি আমিও কাঁদছি। মুন্নির শোক কি আমাকেও পেয়ে বসলো নাকি। হঠাৎ করেই মুন্নি মরে গেছে শুনেও ঠিক ওর জন্য কাঁদছি বলে আমার মনে হচ্ছে না। আবার মুন্নি যে মরে গেছে তাও মনে হচ্ছে না। ও তো পলিয়েছে। মরে গেলে, চোখের সামনে না থাকলে মনেহয় ঠিক বোঝা যায় না, মরলো কি মরলো না! তাহলে আমি কাঁদছি কেন। মনেহয় মার দেখাদেখিই। মার কান্না থামছে না, আমিও কান্না থামাতে পারছি না। যতই সময় যাচ্ছে, কান্নাটা কেমন যেন মরা কান্নার মতোই মনে হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে না মুন্নি এত সহজে মরে যাবে। গুমন কি ওকে মেরে ফেলার জন্যে নিয়ে গেছে? মুন্নিকে মেরে ফেলে কি ওকে বিক্রি করে দেবে? কতক্ষণ ধরে মা-ছেলে কাঁদছি জানি না। এর মধ্যে দুই-একবার কান্নায় ব্রেক দিয়ে মা ফোন করেছে, যাদেরকে আমি চিনি না। মনে হলো মবিন সাহেবকেও ফোন করেছে। উনি তো এখন মার ধর্মপিতা। কাজেই উনাকে জানাতে হবে। মার সাথে আমিও কান্নায় ব্রেক দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার কোনো কাজ না থাকায় বসে ছিলাম বন্ধ টিভির দিকে চোখ রেখে। দরজায় নক করা শুনে মা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললো। সাদিয়া আন্টি। উনি সত্যিই অনেক ভাল। উনিও মার অফিসে কাজ করে। কিন্তু ঠিকই ছুটি নিয়ে চলে এসেছে। এসেই বললো, চিন্তা করিস না। একটা-না-একটা ব্যবস্থা হবেই। আর লাশতো আমরা এখনও দেখি নাই। এটা যে মুন্নির লাশ তারও তো কোনো গ্যারান্টি নাই। দেখা যাক আগে, কার লাশ। তবে সাগর ভাইয়াকে একটা ফোন করবি নাকি? ফ্রেন্ড হিসাবে নিশ্চয় এই দুর্দিনে উনি কাজে লাগবে। উনি সাংবাদিক, পুলিশ আবার সাংবাদিকদের জমের মতো ভয় পায়। মা কিছু না বলে মাথা নিচু করে বসে থাকে। আচ্ছা, তোর করতে হবে না, আমিই করছি।

মা তাও কিছু বলে না। এখন আমাদের নৌকাডুবির সময়, এখন কি আর রাগ দেখালে চলে? আমি নিজেও খবিশকে যতই অপছন্দ করি ওর সাংবাদিক পরিচয় মনে হয় এখন কাজে লাগবে। আরো কিছুক্ষণ পর আসে সুমি আন্টি। আরো কিছুক্ষণ পর আসে খবিশ। খবিশ এত সহজে আমাদের দুর্দিনে আসবে আমি আশা করিনি। আসলে মনে হয় খবিশ অত খারাপ না, যতটা আমি মনে করি। অত খারাপ হলে কি মা ওর সাথে বছরের পর বছর পার করে দিতে পারতো? সারাজীবন তো খবিশকে ধান্ধাবাজ হিসাবেই দেখলাম। অবশ্য এখানে কোনো ধান্ধা আছে কিনা কে জানে? খবিশ এসেই মাকে উকিলের মতো প্রশ্ন করা শুরু করে।
-মুন্নি কবে পালালো?
-কার সাথে পালালো, ছেলের নাম-ঠিকানা -কতদিনের সম্পর্ক?
-কিছুই টের পেলে না কেন এতদিন ধরে? ও পালানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চয় এক দিনে নেয়নি? বাবু কি কিছু জানো?
আমাকে সরাসরি প্রশ্ন করলে আমি কেঁদে ফেলি। সুমি আন্টি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকে। আমি ঠিক করেছি কিছু বলবো না। কিন্তু ওদের কথাবার্তার ফাঁকে আমি বলে বসি, ছেলের নাম সুমন। পাড়ার দোকানে কাজ করে।
খবিশ আবারও আমাকে জিজ্ঞেস করে। কবে থেকে ঐ ছেলের সাথে যোগাযোগ? আমি বলি, অনেকদিন।
-মাকে বলোনি কেন?
-মুন্নি আমাকে বলতে নিষেধ করেছে। তাই বলিনি।
-মুন্নি কিছু বললেই তুমি শুনবে? মাকে বলবে না?
আমি আবার কাঁদি। তাতে জেরা করা বন্ধ হয়ে যায়। আমি সুমি আন্টির কোলে উনার শরীরের ঘাম, পাউডার, শ্যাম্পু আর সেন্ট মিলে বিটকেলে একটা গন্ধ নাকে নিয়ে বসে থাকি। গন্ধটা বিটকেলে হলেও আমার নাক ডুবিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে ইচ্ছা করছে।
মা, খবিশ আর সাদিয়া আন্টি ব্যস্ত প্ল্যান-পরিকল্পনায়। কী হতে পারে, আর কী হলে কী করতে হবে, কী বলতে হবে। বাবুকে পুলিশের সাথে কথা বলতে দেয়া যাবে না। পুলিশকে বলতে হবে বাবু কথা বলতে পারে না। তুমি ওকে বুঝিয়ে বলো। না হয় আবার কী বলতে কী বলে ফেলে তখন বিরাট সমস্যায় পড়ে যাবে। সত্যিই যদি মার্ডার হয়ে থাকে। সেই দায় তোমার ঘাড়ে আসতে কতক্ষণ। পুলিশ তো টাকা খাওয়ার লোভে বাবুকেও আসামী করে দিতে পারে। কাজেই সাবধান। বেশী কিছু বলা যাবে না তাদের সাথে। সোজা কথা, তুমি কিছুই জানো না। বাবুসহ ওকে বাসায় রেখে তুমি কাজে যাও। আর আমি বাসা ছাড়ার পর থেকে এইভাবেই তুমি অফিস করছো। তাই কবে কী, কার সাথে প্রেম, কেনইবা চলে গেল তুমি কিছুই জানো না। ব্যস, এর বেশী কিছু না, ঠিক আছে? না না, প্রেম-ট্রেমও বলা যাবে না, বলবে যে চলে গেছে। বাসায় ঢুকে দেখো দরজা খোলা, বাবু ঘুমাচ্ছে আর মুন্নি ঘরে নেই। তারপর পাড়ার দোকানে, আশেপাশে সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মনে হলো পুলিশে জানিয়ে রাখি। তাই আমি গতকালই রাতে থানায় এসে একটা জিডি করে যাই। যাক বাবা, এটা একটা বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছো যে থানায় জিডি করা আছে। পুলিশের অমূলক সন্দেহ থেকে অন্তত তোমাকে এই জিডি সেইভ করবে। চলো, এবার যাই।
খবিশ এর মধ্যে থানায় ফোন করে জেনেছে যে লাশ অলরেডি মর্গের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে গেছে। সো চলো, মর্গে যাই। আর সুমি আপু, তুমি একটু বাবুর সাথে থাকো।
এই বলে ওরা তিনজন বাইর হয়ে গেল। আমি আর সুমি আন্টি যেমন বসেছিলাম তেমনই বসে আছি। উনার বুকের সাথে লেপ্টে বসে থাকতে আমার ভালই লাগছে। কিন্তু সুমির আজ খেলা-খেলা ভাবটা নাই। কেমন যেন মন-মরা।

অনেক রাত করে ওরা আসলো। সবাই একদম চুপ। আমি ভাবছি, নিশ্চয় মুন্নির লাশই দেখে এসেছে। আমি জিজ্ঞেস করার আগে সুমি আন্টি বলে, কী দেখলি? সাদিয়া আন্টি বলে, আর বলিস না। নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে মরতে ইচ্ছা করে। লাশ আমরা গিয়ে পাইনি। তার আগেই নাকি মেডিকেলের স্টুডেন্ট এসে নিয়ে গেছে কাঁটাছেঁড়া করার জন্যে। এমনকি মেয়েটা মৃত কি জীবিত তারও কোনো রেকর্ড নাই! এক পুলিশ তো বললোই, মরেছে কি মরে নাই তারা বুঝতে না পেরে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল বলে এই ধরনের কোনো রোগী আজ দুপুরের পর আসে নাই। শেষ পর্যন্ত সাগর ভাইয়ের বুদ্ধিতে গেলাম মর্গে। ওমা মর্গের পিয়নও বলে এই ধরনের কোনো লাশ আসে নাই। শেষ পর্যন্ত আবারও সাগর ভাই কিছু টাকা দিয়ে কথা বাইর করল। কম বয়েছি এক মেয়ের লাশ আসছিল, সেটা নাকি মেডিকেলের স্টুডেন্ট এসে নিয়ে গেছে। ছাত্রনেতা সাথে থাকায় পিয়ন না করার সাহস করে নাই। সাগর ভাইয়া তো উনার পত্রিকার জন্যে হাজারো খবর বাইর করে আনছে। আমাদেরও সব বলে নাই। বলে কাল পত্রিকায় পড়ে নিয়ো। সাদিয়া আন্টির কথা শুনে খবিশের মুখে হাসি হাসি ভাব চলে এসেছে। খবিশ বলে, শেনো, আমি আর দেরি করবো না। পত্রিকা অফিসে যেতে হবে। কোনো সমস্যা হলে ফোন কোরো। আর কাল একবার আসবো নে।
সাদিয়া আন্টি আর সুমি আন্টি সেই রাতে আমাদের বাসায় থেকে গেল। মা তো কিছুতেই কান্না থামাতে পারছে না। আমিও কাঁদতে চাই। কিন্তু সুমি আন্টির আদরের ঠেলায় পারছি না। সেই রাতে সুমি আন্টি অনেক মজা করে সবজি-খিচুড়ি রান্না করল। আমরা খেলাম। মাও খেলো। খেয়েদেয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়লাম। আমি তো শুয়েই ঘুম। ঘুমের মধ্যে মুন্নির মা-বাবা এসে হাজির। আমার মেয়েকে কই লুকাইছো বাইর কর। আরে ভাই, আমরা কেন তোমার মেয়েকে লুকাতে যাব! তুমার মেয়েই পালাইছে। আমাদের সাথে পলাপলি খেলে দেখোনা! প্রথমে বলছে বাসাবো ঝিলে, গেলাম নাই; তারপর বলছে থানায়, গেলাম নাই; তারপর বলছে হাসপাতালে, তাও নাই; মর্গে, তাও নাই। মুন্নির মা বলে, তাইলে তোমরা আমার মেয়েরে খাটের নীচে লুকায়ে রাখছো। আমি কই, খাটের নীচেতো তোমরাই থাকো। যাও, দেখে আসো, ঘুরে দেখে আসো। ওরা খাটের নিয়ে যায়। গিয়া দেখে আরো একজোড়া মা-বাবা। হায় হায়, আরো একজোড়া মা-বাবা কোত্থেকে আইলো! মন্নির মা কান্দে। মেয়ের জন্য, না উনার ডাবল হয়ে যাওয়ার জন্যে? মেয়ে যে ওদের এত খারাপ হইছে তা তো তারা জানে না। মুন্নির মা কেমন করে যেন কাঁদে! এই ধরনের কান্না আগে কাউকে কাঁদতে দেখিনি। যতনা কাঁদে তার চাইতে সুর করে কথা বলে বেশী। উনার একটাই দুঃখ, পুতলারে কেন মা-বাপ বানাইলো! ওরা জীবিত থাকতেই যদি মেয়ে এটা করে তো মরলে কী করবে?
মুন্নির মার কান্নায় আমি আর শুয়ে থাকতে না পেরে উঠে বসি। তখন মা কান্না থামায়ে বলে, বাবু সোনা, তুমি ঘুমাও। সরি বাবা, আমি বুঝি নাই তোমার ঘুম ভাঙায়ে দিছি।
আমি মুন্নির মাকে খুঁজে না পেয়ে ভ্যাবাচেকা খেয়ে আবার শুয়ে পড়ি। সকালে ঘুম ভাঙ্গার আগেই সাদিয়া আন্টি পত্রিকা নিয়া হাজির। পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় বড় অক্ষরে লেখা, ঢাকা মেডিকেলে জীবিত তরুণীকে মর্গে প্রেরণ। গতকাল বাসাবো ঝিল থেকে পুলিশ কর্তৃক উদ্ধার করা গুরুতর আহত তরুণীকে চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত ডাক্তার চিকিৎসা না করে অচেতন এই রোগীকে মৃত মনে করে কোনরকম চেকআপ ছাড়াই মর্গে পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার সরেজমিন তদন্তে পাওয়া যায় যে গতকাল সকালে বাসাবো এলাকার কতিপয় লোক একজন তরুণীকে এলাকার ঝিলে পানি ও কাদায় পড়ে থাকতে দেখে। এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে বাসাবো থানার এসআই মির্জা মোতালেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন-পূর্বক গুরুতর আহত এই তরুণীকে দ্রæত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠান চিকিৎসার জন্যে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও কর্তব্য অবহেলা হেতু তারা এই অসুস্থ তরুণীকে কোনরকম চিকিৎসা না দিয়ে মৃত ঘোষণা করে মর্গে প্রেরণ করে দেয়। মর্গে গিয়ে দেখা যায় আর এক ভয়াবহ চিত্র। মর্গের লাশ পোস্টমর্টেমের আগেই দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চলে যায় ছাত্রদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার জন্যে। তদন্তে আরো বেরিয়ে আসে যে, বিভিন্ন বেসরকারী মেডিকেলের কর্তৃপক্ষ, বা কখনও কখনও স্টুডেন্ট নিজে এসে মর্গের ডোম বা সুইপার বা কেরানীর সাথে চুক্তি করে যায়, এবং অগ্রিম বুকিং দিয়ে যায় লাশের জন্যে। লাশের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার জন্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক মৃতপ্রায় ব্যক্তিকে মর্গে চালান করে দেয়। অসাধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ডোমঘরের সুইপার, দালাল আর বিভিন্ন মেডিকেলের ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা টাকার বিনিময়ে অসহায় ও গরীব মানুষদের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসপাতালের বেড থেকে বের করে সরাসরি মর্গে চালান করে দেয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায় কিছুদিন আগে এমন এক রোগী, যাকে অচেতনও করা হয়নি, কথা বলে উঠলে ডোমঘরে থাকা করাত দিয়ে তাকে জবেহ করা হয়। এবং মেডিকেল স্টুডেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ও মাই গড! সুমি আন্টি শুধু এইটুকুই বলতে পারে। তারপর আর কারো মুখে আর কোনো কথা নাই। সবাই যেন দোজখের আগুনে পুড়ছে বসে বসে। মার চোখ আবারও মণিহীন রক্তবর্ণ।

১৯

খবিশের পত্রিকার খবর পড়ার পর মা সেই যে টাসকি খায়ছে, এখন দুপুর গড়িয়ে বিকাল তাও বিছানা ছেড়ে উঠছেনা। সাদিয়া আর সুমি আন্টি চলে গেছে। ওদের অফিসে যেতে হবে। অফিসের পর আবার আসবে। মা একবার উঠেশুধু আমাকে নাস্তা খাইয়ে ওষুধ খাইয়ে আবার শুয়ে পড়েছে। সেই থেকে আমি টিভি দেখে দেখে এখন ক্লান্ত। কীকরবো বুঝতে পারছি না। মাকে বেশী ঘাঁটানো যাবে না। আর এক পেগ মারতে পারলে ভাল হতো। অন্ততএকঘেঁয়েমি ভাবটা কাটতো। কিন্তু মার যা ভাবসাব তাতে পেগের বদলে পেদানিও জুটতে পারে! সাহসে কুলাচ্ছে না।এর মধ্যে খবিশ ফোন করেছিল। মা মনে হয় ওর উপর বিরক্ত। বিরক্ত হবে না কেন? রিপোর্ট যা লিখেছে তা তোআর সত্যি না। বেশীরভাগই বানানো। সামান্য একটু ক্লু পেয়ে এতএত সব গল্প ফেঁদেছে। কিন্তু আমার মনে হয় গল্পহোক আর যা হোক, লাশ যে পাওয়া যায়নি তা তো সত্যি। এবং এর পেছনে কী ঘটনা তা শুধু পত্রিকাওয়ালারাইজানে। আমরা তো ওদের কথার উপরই নির্ভর করি কোনকিছু জানার জন্যে। ছাড়া আর উপায়ইবা কী! খবিশঅবশ্য জোর দিয়ে বলেছে, কেন যেন ওর মনে হয়েছে এটা মুন্নির লাশ না। কিন্তু মার কথা হলো, মনে হলে তো চলবেনা, দেখতেই পারলাম না লাশটা। মাত্র তো কয়েক ঘণ্টার এদিকসেদিক তার মধ্যে গায়েব হয়ে গেল! খবিশের সাথেমা বেশী কথা বলেনি, শুধু হাঁ হুঁ করেছে। কী কথা হলো বোঝারও কোনো উপায় নাই। আবার জিজ্ঞেস করতেও ভয়ভয় করছে। থাক, জেনে কী হবে?

এর মধ্যে মার ফোন আবার বাজলো। মনে মনে বললাম, যাক ভাল হয়েছে। এখন নিশ্চয় সাদিয়া আন্টি বা সুমিআন্টি কেউ হলে মা বলবে খবিশ কী বলেছে। কিন্তু ফোনে হ্যালো বলার সাথে সাথে মার চেহারা ভয়ে ফ্যাকাসে হয়েগেল। আমি পড়ে গেলাম মহাচিন্তায়। কার ফোন যে মা এত ভয় পাচ্ছে! মা বেশী কথা বলছে না। শুধু হাঁহুঁ করছে।মার শুধু একটা কথাই বুঝলাম, দেখুন কোনো পত্রিকা আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। আমার এক ফ্রেন্ড পত্রিকায়চাকরী করে। সে গতকাল আমার সাথে ছিল। হাসাপাতালে গেছিলো, থানায়ও ফোন করেছিল। আমি জানি নাকার সাথে কথা হয়েছে। কিন্তু আমাকে সব খবর দিলো যে কোথায় যেতে হবে, কার সাথে কথা বলতে হবে। জ্বী, ওর নাম সাগর সৈকত। জ্বী, দৈনিক সুবেহসাদেকে লেখে। জ্বী, সালামালাইকুম।

মা ফোন রেখে সাথে সাথে খবিশকে ফোন। শোনো, বাসাবো থানার ওসি ফোন করেছিল। সে তোমাকে ধন্যবাদদিয়েছে যে পুলিশের কর্তব্যের কোনো অবহেলা তুমি তদন্তে পাওনি দেখে। উনি তোমাকে ফোন করতে বলেছে। ফোনরাখার সাথে সাথে আরো একটা ফোন আসলো। হ্যাঁ, এবারের ফোন সাদিয়া আন্টির এবং মা যথারীতি বললো যেখবিশ ফোন করেছিল যাবে মেডিকেলে। গতকাল যে ছ্ত্রারা প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস করেছে তাদের সিডিউল দেখে চেষ্টাকরবে লাশ পাওয়া যায় কিনা। সেটা কাঁটাছেড়া হলেও অসুবিধা নাই। আমি বললাম, যা খুশি করো।

মা কি আর খবিশের কথা বিশ্বাস করে? আবার না করেইবা কী করবে? খবিশ নাকি বলেছিল মা যাবে কিনা। মানাকরে দিয়েছে।হ্যাঁবলার উপায় কই?

সাদিয়া আন্টির ফোনের পর সুমি আন্টির ফোন। মা একই কথা বললো সুমি আন্টিকে। সুমি আন্টির ফোন রেখেইফোন করলো খুলনায়। খালাকে বললো গত দুইদিনের নাটকীয় সব ঘটনা। খালার সাথে কথা বলতে গিয়েকেঁদেকেটে একাকার। মুন্নিকে নাকি মা নিজের সন্তানের মতোই দেখতো। গরীবের ঘরে এমন সুন্দর মিষ্টি চেহারারমেয়ে নাকি মা আর কোথায়ও দেখে নাই। বুদ্ধিসুদ্ধিতেও ছিল তেমনই প্রখর।

মা বলে আর কাঁদে। আমার কাছে একটু অবাকই লাগছে। মাকে তো কখনও মুন্নির সাথে হেসে কথা বলতে দেখিনি। এখন মরে যাওয়ার পর দেখি সব প্রেম উতলায়ে উঠছে। মানুষের ভালবাসা কি মরার পর শুরু হয়? তাও তো পুরোপুরি ঠিক বলে মনে হয় না। খবিশ তো মরার আগেই ভালবাসতো! এখন ওর ভালবাসা বাড়ছে না কমছে জানতে পারলে ভাল হতো। কিন্তু তা তো জানার আর উপায় নাই। দুইজনই এখন চোখের আড়ালে। ওদেরকে দেখার বা শোনার আর কোনো উপায় দেখছি না। তবে খবিশ খুব চেষ্টা করছে মুন্নিকে খুঁজে বাইর করার। খবিশকে বোঝা অবশ্য আমার সাধ্যের বাইরে। ও যে কী কারণে কী করে তা বলা এত সহজ না। দুনিয়ার সকল মানুষ যদি খবিশের মতো হইতো তাহলে এই দুনিয়ায় কোনকিছুই আগেভাগে বোঝার উপায় থাকতো না।

মা কথায় কথায় পুলিশের কথাও বললো। বললো, পুলিশ খারাপ কিছু বলে নাই। কিন্তু পুলিশ আশেপাশে আছে তা মনে হলেই ভয়ে গা কাঁপতে থাকে। আর যদি হয় পুলিশের বড়কর্তা তাহলে বোঝো কী ভয়ঙ্কর! আমি তো সাহস করে দুই-একটা কথা ঠিক ঠিকই বলছি। তা পারছি কারণ আমি তো সারা দুনিয়ার মানুষ চরায়ে খাই। দেশী-বিদেশী কতরকম লোকের সাথে সারাদিন উঠবস করি। সেই আমারই প্রাণে পানি থাকে না, যখন শুনি পুলিশ আছে আশেপাশে।
পুলিশের গল্প করার সময় মার কান্না ভাব কমে গেছে। ভয়ে মনে হয় কাঁদতে পারছে না। আমার নিজেরও পুলিশকে ভয় লাগে। যদিও আমি এখনও কাছ থেকে ওদের দেখিনি। দূর থেকে দেখছি। হাতে বন্দুক নিয়ে ঘোরাফেরা করে সবসময়, আবার পোশাকটাতেও কেমন যেন ভয়ঙ্কর-ভয়ঙ্কর একটা ভাব আছে। আমার মনে হয় ওরা কাছে আসলে আমি ভয়ে মরেই যাব। অনেকক্ষণ মা কলবল করে কথা বললেও হঠাৎ করেই মা শুনছে আর খালা বলছে। কী বলছে তা শোনার ব্যবস্থাটা হঠাৎ করেই মা অফ করে দিয়ে কানে ফোন নিয়ে কথা বলছে। মা আজকাল স্পিকারে দিয়েই কথা বলে বেশী। পত্রিকায় পড়েছি ফোন বেশী সময় ধরে কানে ইউজ করলে কান এবং ব্রেন দুইটারই ক্ষতি হয়। তাই মা ইদানীং বেশী সময় কথা বললে স্পিকারে দিয়েই বলে। এতক্ষণও স্পিকারেই ছিল ফোনটা, হঠাৎ করেই মা গম্ভীর হয়ে ফোনের স্পিকার অফ করে দিয়ে কানে নিয়ে কথা বলা শুরু করলো। এতক্ষণ মা বলছিল, এখন প্রায় কিছুই বলছে না, শুধু হাঁ-না করছে, হুম-হুম করছে। মাকে বেশ রাগান্বিতও মনে হচ্ছে। খালাকে বলছে, আর যা-ই করিস বাচ্চাটা নষ্ট করা ঠিক হবে না। আমি বুঝি তোর অবস্থা, আমার কপালে যে কী আছে তা তো বুঝতাছি না। না-হয় বলতাম ঢাকায় চলে আসতে। তারপরও বলি, দেখি এই দিকের অবস্থার কী হয়, তারপর না-হয় ঠিক করা যাবে কী করবি। আর আম্মার কথাও তো মাথায় রাখতে হবে। এখন তো মাসে অন্তত একবার হইলেও গিয়া বাড়ি ঘুরে আসতে পারিস। তুই ঢাকায় চলে আসলে আম্মা তো এক মাসও টিকবে না। প্রেসার হাই, ডায়াবেটিস হাই, কিডনি যায় যায় অবস্থা। এর মধ্যে তো তুইই ভরসা। আমি তো কিছু টাকা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারতেছি না। আপাতত এতকিছু চিন্তা না করে ধৈর্য ধর। এদিকের ঝামেলাটা আমাকে একটু ম্যানেজ করতে দে। তারপর না হয় সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে কী করবি।
মা ফোন রেখে রাগে কেমন যেন গরগর করছে। গরগর করতে করতেই ফোন করে সাদিয়া আন্টিকে। বলে মানিয়া প্রেগনেন্ট, এরই মধ্যে ওর হাজবেন্ড পালায়ছে। ক’তো দেখি কেমন লাগে! কত দিক তুই সামলাবি! এই হারামির বাচ্চা ঘরে যা টাকা-পয়সা ছিল তাও নিয়ে গেছে। আমি মানিয়ারে আগেই বলছিলাম এইসব বেয়াত্তে লোকজনদের একদম বিশ্বাস করবি না। আগের বউয়ের সাথে যে বেঈমানী করছে সে তর সাথেও বেঈমানী করবো। তুই বরং আর একটু অপেক্ষা কর, একটা ভাল ছেলে দেখে প্রেম-টেম কর। না, উনার তর সইলো না। বেয়াত্তে বুইড়ার প্রেমে উনি মশগুল! ছয়মাস যাইতে-না-যাইতেই প্রেগনেন্ট কইরা পালায়ছে। এখন আমি কী করি বল? আমি কি রাগ করবো, না কষ্ট পাবো বুঝতেছি না। একদিকে মার অবস্থাও ভাল না। উনার তো প্রেসার বরাবরই হাই ছিল, তার সাথে আছে ডায়াবেটিস আর বাতের ব্যথা। এতকিছুর মধ্যে মানুষ কেমনে বাঁচে, কোন আশায় বাঁচে ক’ তো? আমার মনে হচ্ছে সত্যি এই জীবন বয়ে বেড়ানোর আর কোনো মানে নাই। অসু্েখ-ছেলেটা যদি না থাকতো আমি নির্ঘাত মরে যেতাম। আমি আর পারি না সদিয়া।
মা আবারও কান্না শুরু করে। সাদিয়া আন্টি কী বলছে বুঝতে পারছি না। তবে এখন মা আর কথা বলছে না, সাদিয়া আন্টি যে কথা বলছে তা বোঝা যায়। সাদিয়া আন্টির সাথে কথা বলার পর একটার পর একটা ফোন পেয়েই যাচ্ছে। কিন্তু ধরছে না। কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর থেমে যাচ্ছে, আবার হচ্ছে। আমার মনেহয়, খালা মনেহয় কথা বলতে চাচ্ছে, কিন্তু মা পাত্তা দিচ্ছে না। কিছুক্ষণ এইভাবে ভেজা চোখ নিয়ে বসে থেকে মা এবার বাথরুম থেকে মুখ ধুয়ে আসে। কিন্তু ফোন থামছে না। এবার মা ফোন ধরা শুরু করে। কথা বলে। কারো সাথে খুব মিষ্টি করে মৃদু স্বরে কথা বলছে, কারো সাথে বলছে কলবলিয়ে। কারো সাথে খুবই ফরমাল। দু-একটি কথা বলে সৌজন্য দেখিয়ে রেখে দিচ্ছে। মাকে মনে হচ্ছে টিভি নাটকের ব্যস্ত ব্যবসায়ী। একটা পর একটা ফোন করেই যাচ্ছে আর একই কথা বলছে। কথা শেষ না করেই আর-একটা ফোন করছে। তারপর আর-একটা, তারপর আর-একটা, চলতেই আছে।
মুন্নির উপর আমার খুব রাগ হচ্ছে। আমি ঠিক করেছি ওর সাথে দেখা হলে আর কথা বলবো না। ও কেন মাকে এত ঝামেলার মধ্যে ফেললো? ছেলেটাকে বিয়ে করে বাসায় থাকতি! আমরা কি মানা করতাম? মা কী করতো তা অবশ্য আমি বলতে পারছি না। কিন্তু বলে তো দেখতে পারতি! না করলে না-হয় পালাতি। না বলে-কয়ে কেউ পালায়? শয়তানের বাচ্চা একটা! এখন মা যদি বাসায় না থাকে তো আমাকে হুইস্কি দেবে কে? আমি এতদিন তোর জন্যে মাকে কিছু বললাম না! এইটুকু মনে করতেই আমার বুক ভেঙ্গে কান্না পাচ্ছে। আমি ডুকরে কেঁদে উঠতেই মা ফোন-টোন রেখে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে। জিজ্ঞেস করে, কী হয়েছে সোনা? ক্ষিধা লেগেছে? আমি বলি, না। মন খারাপ লাগছে? আমি বলি, না। মা যা-ই জিজ্ঞেস করে, আমি বলি, না। শেষ পর্যন্ত মা উঠে গিয়ে আমার জন্যে এক পেগ নিয়ে আসে। আমি কখন কান্না থামিয়ে দেই টের পাই না। মা আমাকে গেলাস ধরিয়ে দিয়ে আবার ফোনালাপে ফিরে যায়। আমি খোশমোজাজে আবারো টিভি দেখতে শুরু করি।
চলবে।

অলংকরণ: আসমা সুলতানা মিতা 

 

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments