মাতাল শিশু (অষ্টম পর্ব/ধারাবাহিক উপন্যাস)- মোয়াজ্জেম আজিম

  •  
  •  
  •  
  •  
মোয়াজ্জেম আজিম

অষ্টম পর্ব:
আমার মা সব বিষয়েই বাড়াবাড়ি রকমের চিন্তা করতে পারে। আমাকে স্কুলে দেওয়া নিয়ে এখন উনার ঘুম হারাম। কোন স্কুলে দেবে; স্কুল আমাকে নিতে রাজি হবে কি না; ভালো স্কুল কী আছে, কোথায় আছে, যাওয়া-আসায় সময় কত লাগবে, স্কুলের ফি কত, ইত্যকার নানা বিষয় নিয়ে উনার গবেষণা আর খবিশের সাথে পরামর্শ করে-করে পাগলপ্রায় দশা! আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না স্কুলের আবার ভালো-মন্দ কী! স্কুল তো স্কুল, যেখানে সবাই পড়তে যায়। আমিও যাবো। স্কুলেও কেন ভালো-মন্দ থাকতে হবে আমি বুঝি না। পড়াশোনার আবার রকমফের কী! সবাই তো বই-ই পড়বে নাকি? মা আর খবিশের কথাবার্তা শুনে মনে হয় কোনো স্কুল ডাকাত বানায়, কোনো স্কুল বানায় ডাক্তার, কোনো স্কুল মোক্তার বানায়, কোনো স্কুল মার্ডারার, কোনো স্কুল বানায় সাংবাদিক আর কোনো স্কুল সাংঘাতিক! কিন্তু কে যে কী বানায় তা বোঝার কোনো উপায় নাই। মা বলে, কী যে দুনিয়া পড়লো। আমাদের সময় তো সারা গ্রামে একটাই প্রাইমারী স্কুল ছিল। সবাই লাইন ধরে গিয়ে স্কুলে যেতো, লাইন ধরে পড়া মুখস্ত করতো, আবার লাইন ধরে বাড়ি ফিরে আসতো। আর এখন কত রকমের যে নকরা দেখতেছি, আরো কত রকম দেখবো আল্লা জানে। মার এই হাহুতাশের সময় খবিশ কেমন যেন পুলকিত ভাব নিয়ে এদিক-সেদিক তাকায়। ওর মনে নিশ্চয় কোনো ধান্ধা উঁকিঝুঁকি মারছে। মা তো আমার কথা বিশ্বাস করবে না। না হয় বলে দিতাম ও যে কত বড় ধান্ধাবাজ। মা তো এখনও ওর প্রেমে একেবারে গদগদ। মহিলা দুনিয়ার ভাবগতিক আমার চাইতেও কম বোঝে। যাগগে, আমার কী বাবা? তোমাদের খেলা তোমরা খেলে যাও, আমার দায়িত্ব শুধু বসে বসে দেখা! আমি তা-ই করবো। তোমরা স্কুলের ভর্তি নিয়ে চুল ছিঁড়ে মাথা ন্যাড়া করে ফেলো।
কথা শেষ না করেই খবিশ একফাঁকে মাকে জানিয়ে দিলো, ভালো স্কুলে ভর্তি এখন অনেক টাকাপয়সার ব্যাপার। মা জানতে চাইলো, ভালো স্কুল মানে কেমন স্কুল?
-ঐ ইংলিশ মিডিয়াম-ফিডিয়াম আর কি।
মা বলে, কেন বাংলা মিডিয়ামে কোনো ভালো স্কুল নাই? খবিশ বলে, বাংলা মিডিয়ামে এখন আর কোনো বড়লোকের ছেলেমেয়ে পড়ে নাকি? মা বলে, আমি তো বড়লোক না। খবিশ বলে, গরীবের আবার স্কুল কী? গরীবের তো স্কুলই নাই, গরীব তো বস্তিতে থাকবে, রাস্তায় কাগজ কুড়াবে, আর মাজার বা দরগা শরীফে গিয়ে খিচুড়ি খাবে। গরিবের আবার পড়াশোনা আছে নাকি?
মা মনে হয় খবিশের সাথে আর কথা বাড়াতে চাচ্ছে না। মা কিছু না বলেই রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। ইদানীং খবিশ মার সাথে চ্যাটাং-চ্যাটাং কথা বলে। ওর মনে হয় টাকাপয়সা হাতে আসছে। খবিশ বসে বসে টিভি দেখে আর মনে মনে ফন্দি করে কিভাবে আমার স্কুলের নামে কিছু টাকা বাইর করে নেয়া যায়। আমার মনে হচ্ছে খবিশের তদবিরে ভর্তি হয়ে কোনো বান্দরের খোঁয়াড়ে না যাওয়াই ভালো। আমি দুই-একটা স্কুল টিভির খবরে দেখেছি। একটাকেও আমার স্কুল মনে হয়নি। মনে হয়েছে লোহার গারদে কতগুলো নীল সার্ট পরা ছেলেমেয়েকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। একদিন দেখলাম অনেক উঁচু একটা দালান। জানালায় মোটামোটা লোহার শিক আটকানো। প্রথমে মনে হয়েছিল ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সেই শিকের সাথে তার দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রেখেছে। তারপর দেখি না, ওরা একজনের উপর আরেকজন দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর টিভি নীচের দিকে যখন দেখানো শুরু করলো তখন দেখি হাজার হাজার মানুষ আর পিঁপড়ার মতো ছুটেচলা গাড়িগুলোকে। মনে হলো তারা  অপেক্ষা করছে কখন ওদের মা-বাবা এসে ওদেরকে এই জেলখানা থেকে বাইর করবে। এমন স্কুলে পড়তে যাওয়া কি ঠিক হবে? তার চেয়ে বরং ডাক্তারদের স্কুলে চলে যাই। কিন্তু ডাক্তার হওয়া কি ঠিক হবে? ডাকাত হলে কেমন হয়, ডাকাত আমি এখনও দেখি নাই। ডাক্তার দেখেছি। তাতে মনে হয়েছে ডাক্তার হওয়ার জন্যে স্কুলে না গিয়ে বরং ঘরে বসে দা-কুড়াল নিয়ে একটু পশু-পাখি, মাছ-মাংস কাটাকাটি করলেই ডাক্তার হতে পারা উচিত। আর প্রেসক্রিপশন আমি এখনই লিখতে পারবো। প্রেসক্রিপশন লেখার জন্যে লিখতে পারলেই বরং অসুবিধা। মাকে বলবো আমাকে ডাকাত-বানানো স্কুলে পাঠাও। ডাক্তার অত্যন্ত খারাপ মানুষ। আমি ডাক্তার হতে চাই না। সাংবাদিকও হতে চাই না। সাংবাদিক হিসাবে তো খবিশ কে দেখলাম। তার চেয়ে খারাপ আর কী বা হতে পারে।

অলংকরণ: আসমা সুলতানা মিতা

কিন্তু ডাকাত-বানানো স্কুলে চান্স পাওয়া মনে হয় এত সোজা হবে না। মা তো চেষ্টা করছে। দেখা যাক কী হয়। অবশ্য খবিশ যা বললো তাতে আশা করা যায়। ওর কে যেন একজন পরিচিত মাস্তান আছে সে বললে হবে না এমন কোনো কাজ নাই। মা অবশ্য খবিশকে বলেছিল কোনো এমপি মা মন্ত্রী দিয়ে তদবির করালে নাকি কাজ হয়। খবিশের মুখে শুনলাম অন্য কথা। মন্ত্রী-এমপির কথা নাকি বাল বরাবরও দাম নাই! তাদের মুখ আর পুটকি নাকি একই কথা! এক মুখে যে ওরা কত কথা কয়! তার চেয়ে যদি কোনো মাস্তান দিয়ে বলাতে পারো তো কাজ হবে সুরসুর করে। তাই লোকজন মন্ত্রীদের কথার কোনো মূল্য দেয় না। কিন্তু মাস্তান। ওরা খারাপ মানুষ হতে পারে কিন্তু যদি এক কথা মুখ দিয়ে বাইর করছে তো তা হতেই হবে। যদি না হয়, খুনখারাপি হয়ে যাবে। দেখো না মাস্তানরা কিন্তু তাদের ওস্তাদরে খুব মানে। ওস্তাদের জন্যে এখনও যদি কেউ জান দেয় তো সে মাস্তান। আর কারো এই সাহস আছে দেশে, তুমিই কও? মাস্তানদের নেতা জেলে বসে চাঁদাবাজি করায় তার লোকজন দিয়ে। কোনো মিনিষ্টার পারবো? পারবো না।
খবিশের কথা শুনে মনে হচ্ছে মাস্তান হলেই ভালো করবো। মাকে বলতে হবে আমাকে একটা মাস্তান বানানোর স্কুলে ভর্তি করে দিতে। আমি মাস্তান হবো মা।
মাকে যখন আমি সত্যি সত্যি এসব কথা বললাম মা একেবারে থ। উনি আমার কথা মনে হচ্ছে বুঝছে না। গম্ভীর হয়ে গেল। একটু দম নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, এসব কথা তুমি কার কাছ থেকে শিখেছো? মুন্নি, না?
-না মা; আমি মু্িন্নর কাছ থেকে কেন কথা শিখতে যাবো! ওকেই তো আমি সারাক্ষণ শিখাই।
মা আর কিছু বলেনি। আমারও কেমন যেন বোকাবোকা লাগছে। কিন্তু আমি তো সত্যি কথাই বলেছি। যা দেখছি, যা মনে হয়েছে তা-ই বলেছি। তাহলে মা এত রাগ করে কেন! দুর, আর কিচ্ছু বলবো না! যা করার আমি নিজেই করবো। এখানে সবাই সত্য কথা বললে এমনি মুখগোমড়া করে ফেলে। তাহলে আমাকে মিথ্যা শিখাও, কিভাবে কথা বললে তোমরা খুশী হবে তা বলে দাও। আমি না হয় তোমাদের মতোই কথা বলবো। আমাকে তোমাদের স্কুলে পাঠিয়ে দাও। একজন খাঁটি মিথ্যুক হয়ে বের হয়ে আসি। তাতে সবাই  আমার কথা শুনে খুব হাততালি দেবে।
আমার কোনো ধারণা ছিল না তা না-হয় মানা গেল, কিন্তু খবিশ আর মা মিলে বেহুদায় কয়েকদিন দুনিয়ার মাটি এপাশ-ওপাশ করলো আমাকে স্কুলে ভর্তি করা নিয়ে। যতই আমি লিখতে পারি, পড়তে পারি, হাঁটাচলা করতে পারি; দেখতেও কিন্তু আমি ৫-৬ বছরের বালকের মতোই; কিন্তু আমার সত্যিকারের বয়সতো খুবই কম। আমার ১ বছর মানে হলো নরমাল মানুষের ১০ বছরের সমান। এখন আমার বয়স ৭ মাস, তার মানে হলো ৫ বছর ৮ মাস। কিন্তু তাহলে কী হবে, আমাকে কেউ ভর্তি নেবে না। কারণ আমার বয়স খুবই কম। মা আর আমি ইন্টারনেটে টেস্ট করে দেখেছি আমার মেন্টাল এইজ ২৫। সেটা নিয়ে মার দুশ্চিন্তা বেড়ে গেলে মা ডাক্তারকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছে এটা হতে পারে কিনা। ডাক্তার বলেছে, হতে পারে। এই টেস্ট যেন মার দুশ্চিন্তার আগুনে একটু বাড়তি তেল ছিটিয়ে দিলো। তবে মার এই দুশ্চিন্তা বেশী স্থায়ী হয়নি। মা এখন সবকিছুই সহজভাবে মেনে নিয়ে পলিসি ঠিক করে ফেলে কী করতে হবে। তারই অংশ হিসাবে উনি খবিশকে বলে দিয়েছে যে এই তথ্য কাউকে বলা  যাবে না, সেটা বললে আবার নতুন সমস্যা দেখা দেবে। মাষ্টারগুলো ভয় পেয়ে যেতে পারে। যে কেউ আমার সাথে কথা বললে বুঝবে যে আমার স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়ছে। কিন্তু এই গাড়ল হেডমাষ্টারগুলো কিছুতেই মার কথা শুনবে না। ওরা ৭ মাসের কোনো বাচ্চাকে ওদের স্কুলে ভর্তি করবে না। খবিশ অবশ্য ওদেরকে কথার প্যাঁচে ফেলে ধরাশায়ী করে ফেলেছিল প্রায়। আইনত বাচ্চাকে ভর্তি করানোর কোনো বয়স নির্দিষ্ট করে বলা নাই। তবে মাষ্টার বলেছে সাধারণত তারা ৪-৫ বছরের আগে কোনো বাচ্চাকে প্রাইমারীতে ভর্তি করে না। কিন্তু পাঁচ বছর বয়সে তো আমি বুড়া হয়ে মরেই যাব! শেষ পর্যন্ত খবিশ মাকে বুদ্ধি দিয়েছিল একটা বয়সের সার্টিফিকেট বানানোর জন্যে। কোন মাষ্টার যেন খবিশকে বলেছে, এত চিন্তা না করে একটা সার্টিফিকেট বানিয়ে নিলেই তো হয়। যে কোনো মিউনিসিপ্যাল সেন্টারে গিয়ে ১০০ টাকা দিলেই একটা সার্টিফিকেট দেয়। কিন্তু মা আমতা আমতা করে, বলে এটা ঠিক হবে না। এমনিতেই আমার বাবুর সমস্যার শেষ নাই। তার উপর নতুন করে বয়েস নিয়ে জালিয়াতি করতে চাই না। মার এইসব সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরের মতো কথাবার্তা খবিশ একদম পছন্দ করে না। আমিও করি না। যখন যা দরকার, তাই করতে হবে। সেটা নিয়ে এত হিসেব-নিকেশের কী আছে বুঝি না! শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে আমার আর স্কুলেই ভর্তি হওয়া হবে না। বাসাতেই আমাকে পড়াশুনা করানো হবে। যাক বাবা, এবারের মতো মনে হয় স্কুল নামক জেলখানা থেকে রেহাই পাওয়া গেল।
কিন্তু পড়াশোনা করতে গিয়ে লাগলো বিপত্তি, কী পড়বো! মার তো দেখছি মহাসংকট। বাংলা-ইংরেজি পড়তে পারি, এখন অঙ্ক শিখতে হবে। কিন্তু মা অঙ্ক পারে না। তাই মনে হয় এই জায়গায় মার কোনো আগ্রহ নাই। আমারও নাই। মা বলেছে দুই আর দুই মিলে চার হয়, এটাকে বলে যোগ। আর দুই থেকে এক বাদ দিলে এক থাকে, তাকে বলে বিয়োগ। এরকম আরো আছে গুণ-ভাগ ইত্যাদি ইত্যাদি, বড় হলে আরো জানতে পারবো। তবে মা বলেছে একটা একটা করে শেষ করতে। প্রথমে বাংলা, শুধু রিডিং পড়তে পারলে হবে না, ক্লাস ওয়ান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত সব বাংলা বই পড়ে শেষ করতে হবে। তারপর ইংরেজি একই কায়দায় শেষ করতে হবে।
পড়াশোনা শুরুর আগেই যে ঝামেলা দেখছি তাতে তো মনে হয় পড়াশোনা শুরুর পর সেটা হবে মহাঝামেলা। তো মানুষ এত ঝামেলা করে পড়াশোনা করে কী করে? মা-ও তো নাকি অনেক পড়াশোনা করেছে। গ্রামের স্কুল পাশ করে থানা স্কুল, তারপর জেলা শহরের কলেজ, তারপর ঢাকা শহরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছে। তাই তো এখন চাকরি করতে পারে। আর খবিশ বেশী লেখাপড়া করেনি, থানা স্কুলে নাকি কয়েকদিন গেছিলো। মেট্রিক পাশ করতে পারেনি। পারবে কিভাবে, বাদরামী যার পেশা সে কি মেট্রিক পাশ করতে পারে নাকি! বেশী পড়াশোনা নাই বলে চাকরি না পেয়ে এখন সাংবাদিক হয়ে গেছে। খারাপ না কিন্ত। ওদের কথাবার্তা শুনে মনে হয় খবিশ ইদানীং মার চেয়েও বেশী টাকাপয়সা কামাচ্ছে। পড়াশোনা না করলে বেশী টাকা, নাকি করলে বেশী টাকা, তা-ই তো বুঝতাছি না! মাকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারি। কিন্তু না থাক, এখন জিজ্ঞেস করবো না, পরে করবো। খবিশের সামনে এখন জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করছে না। আমি টাকা কামানোর কথা ভাবছি শুনলেই খবিশ আবার ধান্ধায় থাকবে কিভাবে কিছু খসানো যায়। আচ্ছা, আমাদের বাড়িওয়ালা কি শিক্ষিত লোক? মনে হতেই মাকে ডাকি।
মা দৌড়ে আসে। কী হয়েছে সোনা?
-মা, বাড়িওয়ালা কি শিক্ষিত লোক?
-হ্যাঁ, কেন?
-তাহলে আমি পড়াশোনা করবো না।
-কেন কী হয়েছে? বাড়িওয়ালার সাথে পড়াশোনার কী সম্পর্ক!
-কেন, তুমি বোঝো না, পড়াশোনা করলে আমিও বাড়িওয়ালা হয়ে যাব?
-তো, অসুবিধা কোথায়? তুমি বাড়িওয়ালা হও, এটাই তো আমি চাই।
-তুমি তাই চাও?
আমি মার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। মা কেমন যেন বোকা-বোকা হাসি-হাসি মুখ করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। বুঝতে পারছে না, আমি কেন এই সব বলছি। কিন্তু বুঝতে না পারলেও আমাকে বোঝাতে চাচ্ছে মা খুব বুঝেছে। যা আমাকে বলেছে তা বুঝেশুনেই বলেছে। মাকেও আমি বোঝাতে পারলাম বলে মনে হচ্ছে না, আমি কেন বাড়িওয়ালার মতো দানব হতে চাই না, কেন আমি পড়াশোনা করতে চাই না, কেন আমি চাই না ডাক্তার হতে।
চলবে।