মালিহা মেহনাজ শায়েরী: পাখির চোখে দেখাচ্ছেন অপরূপ বাংলাদেশ

  •  
  •  
  •  
  •  

আতিকুর রহমান শুভ: আদিগন্ত বিস্তৃত সবুজ বাংলাদেশ বা দূরের কোন নগরী কিংবা দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া’র না দেখা পাশের গ্রামের রূপ- কিছুই দেখা হয়নি। সমস্যা নেই। পাখির চোখ নিয়ে পাহাড়, সমুদ্র, নদী কিংবা অচেনা বন্দরে হেঁটে বেড়াচ্ছেন আমাদের অপরূপা মালিহা মেহনাজ শায়েরী। শুধু দেখাতেই নয় সেই জনপদের গল্প নিপুণভাবে তুলে আনছেন আমাদের জন্য। করোনার এই ঘরবন্দী জীবনে অপরূপ সুন্দর বাংলাদেশের রূপ দেখছি দেশের সবচেয় পুরনো ( প্রায় ৩০ বছরের) প্রামান্যচিত্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান প্যানোরমা ক্রিয়েটরস’র ভিডিওগুলোতে। কোটি কোটি ভিউ হওয়া ভিডিওগুলোর সঞ্চালনা এবং উপাস্থাপনায় রয়েছেন মালিহা। তাদের হিসেব মতে কেবল অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতিদিন এই প্রামান্যচিত্রগুলোর ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভিউ হয়। প্যানোরমার ব্যানারে মালিহা টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলে প্রায় দুই হাজার ভিডিও ও ট্রাভেল শো করেছেন। সবগুলো অনুষ্ঠানই প্যানোরমা ক্রিয়েটরস’র প্লাটফর্ম থেকে করা। তাদের মধ্যে ‘ইতিহাসের পথ ধরে’ টিভিতে প্রচারিত তাঁর প্রথম ধারাবাহিক প্রামান্য অনুষ্ঠান।

অভিনয়ের অফার পেয়েছেন প্রচুর। কিন্তু সে পথে তিনি পা বাড়াননি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতাও করেছেন। তিনি সরকারের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের রিসোর্স পার্সন হিসেবে কাজ করছেন এখন।
প্রশান্তিকার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মালিহা জানালেন তাঁর জানা অজানা অনেক কথা। প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে সম্প্রতি তাঁর এই সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। পাঠকদের জন্য তার চুম্বক অংশ এখানে দেয়া হলো।

টেকনাফের শেষ প্রান্ত পাটুয়ারটেক নামক জায়গায় শুটিং এর ফাঁকে মালিহা।

প্রশান্তিকা: আপনার জন্ম, বেড়ে উঠা এবং শিক্ষা সম্পর্কে প্রথমেই জানতে চাই।

মালিহা: শুরুতেই প্রশান্তিকাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, আমাকে এই আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্য।
আমার বাবা সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। জামালপুর জেলা শহরে একবার তাঁর পোস্টিং হয়। জামালপুর শহরের প্রথম কিন্ডারগার্টেন স্কুল “কিশলয় আদর্শ শিশু বিদ্যালয়” এর প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষিকা ছিলেন আমার মা। সেখানেই আমার মায়ের সাথে তাঁর পরিচয়, প্রেম, পরিণয় এবং সংসার শুরু। সেই ধারাবাহিকতায় তাঁদের প্রথম সন্তান হিসেবে আমার জন্ম হয় জামালপুর শহরেই। শৈশব, বেড়ে ওঠা, স্কুল জীবন সবই আমার সেখানেই। কিশলয়ে নার্সারী থেকে প্রাইমারী তারপর জামালপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করি ১৯৯৭ সালে। এইচ এসসি সম্পন্ন হয় ময়মনসিংহ শহরের মুমিনুন্নিসা সরকারী মহিলা কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে। ১৯৯৯-২০০০ সেশনেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে। ২০০৩ এ এলএল.বি.(অনার্স) এবং ২০০৪ এলএল.এম.(মাস্টার্স) শেষ করি। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই সংস্কৃতিচর্চার সাথে যুক্ত ছিলাম। ছবি আঁকা, আবৃত্তি, গান, বিতর্ক, বক্তৃতা, সাধারণ জ্ঞান, প্রবন্ধ লেখা এসবের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা ও জয়ী হওয়া তীব্র নেশার মতো ছিল। সংস্কৃতিচর্চায় সবসময়ই আমার অনুপ্রেরণা ছিলেন আমার আব্বু-আম্মা। আমার আব্বুর সঙ্গীত, অভিনয়, লেখালেখি, বিশেষ করে বক্তৃতায় ভীষণ দক্ষতা ছিল। কথা বলে মানুষকে মুগ্ধ করে ফেলতেন। নিজেকে তৈরি করায় আমার মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন আমার ছোট্টবেলার কিশলয় স্কুলের প্রয়াত প্রিন্সিপাল আমার শিক্ষাগুরু কণিকা চক্রবর্তী গোপা। আরও ছিলেন একই স্কুলের প্রিয় শিক্ষক ভানু স্যার যার কাছে আমার জাতীয় সংগীত শেখা। কিশলয়ের মমতা আপা – আমার মা, তিনি তো সার্বক্ষণিক ছিলেনই। সবকিছুর হাতেখড়ি আম্মুর কাছেই। কিশলয়ের দিনগুলোর Cultural Grooming না পেলে আজ আমি এই মালিহা মেহনাজ শায়েরী হতে পারতাম না। হাইস্কুল পর্যায়ে বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা পেয়েছি শ্রদ্ধেয় আসাদুল্লাহ স্যার, বিশ্বজিত সোম স্যার এবং মোজাম্মেল হাসান স্যারের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ দিতেন আমার ল’ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক হাসিবুল আলম প্রধান স্যার এবং বিপ্লব কুমার সাহা স্যার যিনি এখন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। আমার শিক্ষকদের কথা আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার সুযোগ পেয়েছি, গর্বে আমার বুকটা ভরে যাচ্ছে।
২০০৪ এ মাস্টার্স শেষ করে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভূক্ত আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত হই। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আইন বিষয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভাগীয় প্রধানেরও দায়িত্ব পালন করি। সরকারের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের রিসোর্স পার্সন হিসেবেও কাজ করছি। দেশে ও বিদেশে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনারে/ কনফারেন্সে বক্তা ও মডারেটর হয়ে আমন্ত্রিত হই। জন্ম, বেড়ে উঠা এবং শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন- পেশাগত জীবন সহই বলে ফেললাম! তবে আমার কাছে একাডেমিক সার্টিফিকেট অর্জন করা আর শিক্ষার্জন করাটা মোটেই এক নয়। শিক্ষার্জন- সে তো জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান প্রক্রিয়া, যা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ থেকেই অর্জন করতে হয়। তাই নয় কি!

প্রশান্তিকা: সত্যি তাই। আপনার একটি লেখায় জেনেছি বড় হয়ে মাদার তেরেসা হতে চেয়েছিলেন। প্যানোরমা’র ভিডিওতে আমরা দেখি যখনই শিশু কিংবা বৃদ্ধ দেখেন তখন সকল কিছু বাদ দিয়ে তাদের বেশি গুরুত্ব দেন। মনে কি হয়না- তেরেসার পথেই হাঁটার চেষ্টা করছেন?

মালিহা: শিশু এবং বৃদ্ধ- জীবনের শুরু এবং শেষ। আমি এখন যে বয়সে আছি, সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে শিশু ও বৃদ্ধ গোষ্ঠীর কাছে গিয়ে তাদের মন ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে নিজেকে যতো সম্পৃক্ত করি, মনে হয়.. যেনো জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জানা হয়ে গেলো। তাছাড়া শৈশব আর বার্ধক্যেই মানুষকে পাশে প্রয়োজন হয় সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের কাছে যাবার চেষ্টা করি। শিশুদের সাথে বরাবরই আমার জমে ভাল! আর বৃদ্ধদের কাছে গেলে তাঁদের জীবনে সঞ্চিত সুখ-দুঃখের কথা শুনে সমৃদ্ধ হই। তাঁদের জন্য কিছু করার থাকলে সেটা নিজের জায়গা থেকে বা আমাদের টিমের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পূরণ করা হয়। এ তো আমার ভাবনা আর অভিজ্ঞতার কথা বললাম। এবার আপনার প্রশ্নের উত্তর দিই – মাদার তেরেসা হবার স্বপ্ন লালন করি ঠিকই, তাঁর আদর্শে গোপনে কাজও করি। কিন্তু তাঁর ধারে কাছেও এখনো যেতে পারিনি। পথ এখনও বাকি! অনে…..ক দূর যেতে হবে।

মাদার তেরেসা হবার স্বপ্ন লালন করি ঠিকই, তাঁর আদর্শে গোপনে কাজও করি- মালিহা।

প্রশান্তিকা: আমার দেখা প্যানোরমা’র অসংখ্য পর্বের দুটি অংশ এখনও মনে পড়ে। একটি হলো টেকনাফে লাল কাঁকড়ার সাথে আপনার খেলা ও দৌঁড় আরেকটি বোধ হয় টাঙ্গাইলের কোন নদী বরাবর একটি গ্রামে বাঁশি এবং গান শোনা কিংবা চলনবিলে হঠাৎ এক বিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়া- আপনার কাছে কোনটি প্রিয়?

মালিহা: আনপেরালাল। বাংলাদেশের প্রতিটি সৌন্দর্য, প্রতিটি জায়গা, প্রতিটি ঐতিহ্য, প্রতিটি জীবন, জীবনের প্রতিটি গল্প, কাজের মাঝে খুঁজে পাওয়া প্রতিটি অভিজ্ঞতা আমার কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। একটি আরেকটির সাথে তুলনাহীন। আমি প্রতিটি বিষয়ের স্বাদ আলাদাভাবে আস্বাদন করার চেষ্টা করি। নিঃসন্দেহে প্রতিটি বিষয়, প্রতিটি মুহূর্তই আমার কাছে ভীষণ প্রিয়।

প্রশান্তিকা: প্যানোরমার ভিডিওগুলো আকারে ২০/২৫ মিনিট দৈর্ঘের। চমৎকার এই ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট এলাকা বা জনপদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য তুলে ধরেন আপনি। এটির গ্রন্থনা বা স্ক্রিপ্টেও কি আপনার হাত রয়েছে? আপনাদের টিমওয়ার্কটা আসলে কেমন?

মালিহা: বাংলাদেশে আদর্শ টিমওয়ার্কের প্রকৃষ্ট উদাহরণ ‘প্যানোরমা ক্রিয়েটরস’ টিম। আজ থেকে নয়, যখন শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল বিটিভি ছিল, যখন বাংলাদেশে কোন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের যাত্রা শুরু হয়নি, তখন থেকে। বর্ষীয়ান প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা জনাব এ মাসুদ চৌধুরী পিটু টিমওয়ার্কের এই ঐতিহ্য গড়ে তুলেছেন। তিনিই আমাদের প্রতিটি প্রোগ্রামের ডিরেক্টর এবং ডিওপি। তিনিই আমাদের ‘প্যানোরমা ক্রিয়েটরস’ এর কর্ণধার। তাঁর হাতেই বাংলাদেশকে নিয়ে অসংখ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রচারের অদম্য যাত্রা শুরু এবং প্রায় ৩০ বছর ধরে সেই যাত্রা এখনও চলমান। বাংলাদেশকে তুলে ধরাই যাঁর স্বপ্ন, আমাদের সেই পিটু ভাই শুধু একজন নির্মাতা নন, তিনি প্যানোরমা টিমের প্রতিটি সদস্যের অভিভাবকও বটে। যে ধারাবর্ণনা শুনে দর্শকবৃন্দ মুগ্ধ হন, সেই লেখাগুলোর সিংহভাগ লেখেন আমাদের রিসার্চার ও চীফ স্ক্রিপ্ট রাইটার সুমন শিকদার, যাকে আমরা ‘সুমন দা’ বলে ডাকি। চুপচাপ কিন্তু আন্তরিক এই মানুষটিকে আমরা বলি প্যানোরমার ‘হার্ট’! আরও আছেন ভীষণ ক্রিয়েটিভ মহিউদ্দিন টিপু ভাই, যিনি সারাক্ষন টিমের সবাইকে পজিটিভলি মটিভেইট করেন। প্রসঙ্গত বলতে চাই – পিটু ভাই, সুমন দা আর টিপু ভাই এই ৩ জন মানুষই এই সেক্টরে আমার Mentor. Documentary বা Professional Video Production নিয়ে আজ পর্যন্ত আমার যা কিছু শেখা, তাঁদের কাছেই। বেশ কিছু প্রোগ্রামের গ্রন্থণা আর স্ক্রিপ্ট আমারও করা। প্রজেক্টভেদে ক্যামেরার পেছনে আমি কাজ করি ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, আর্ট ডিরেক্টর, এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবেও। ধারাবর্ণনার কাজ তো করছিই। তাছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার জন্য তৈরি আমাদের বেশিরভাগ প্রমোশনাল ফিল্মগুলোর চিত্রনাট্য, গ্রন্থনা ও স্ক্রিপ্ট (বাংলা ও ইংরেজি) মহিউদ্দিন টিপু ভাই এবং আমার করা। বেশ কিছু ভয়েস ওভারও আমারই দেয়া। উল্লেখ্য,  বাংলাদেশ নিয়ে Bangladesh Tourism Board (BTB) এর চলমান বাংলাদেশ ব্রান্ডিং ক্যাম্পেইন এর ২০২০ এর প্রমোশনাল ফিল্ম Beautiful Bangladesh – A Land of Love (https://www.youtube.com/watch?v=K6aVpDxrhgE ) নির্মাণ করেছে প্যানরমা ক্রিয়েটরস এবং এর স্ক্রিপ্ট ও ভয়েস ওভার আমারই করা। তবে যে যাই করি, আমাদের প্রতিটি প্রোডাকশনের ক্ষেত্রেই ফাইনাল আউটপুটের আগে টিমের প্রতিটি সদস্যের মতামত নেয়া হয় অন্তত ২ টি পয়েন্টে – “কোন্ জায়গাটা সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে এবং কেন” আর “কোন্ জায়গাটা সবচেয়ে খারাপ লেগেছে এবং কেন ?” আসলে আমরা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ টিম। রিসোর্স পারসন থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল সেটআপ, সবকিছুই এক ছাদের নীচে। তাই ডেডিকেইটেডলি সবাই কাজ করতে পারি। টিমের সবার মতামতে ও অবদানেই প্রতিটি অনুষ্ঠান হৃদয়গ্রাহী হয়ে ওঠে।

শিশুদের নিয়ে চড়ুইভাতির একটি শুটিং শেষে।

প্রশান্তিকা: একটি ভিডিওতে দেখলাম চলনবিলের একটি পর্বে আপনারা হঠাৎ এক বিয়ের নৌকা অনুসরণ করলেন। বিয়ে বাড়িতেও হাজির হলেন- নিমন্ত্রণ ছাড়া বৈকি! পুরো ছবিটা একটুও সাজানো মনে হয়নি আমার কাছে। ওরা কিভাবে গ্রহণ করলেন আপনাকে এবং আপনাদের টিমকে?

মালিহা: বাংলাদেশ নিয়ে আমার হাজারো প্রোগ্রামের মাঝে বর্ষায় চলনবিলের এক বরযাত্রীর নৌকার পিঁছু নেয়া এবং বিয়ে বাড়িতে হানা দেয়াটা আমার জীবনের এক মজার স্মৃতি বৈকি! যে প্রশ্নটি করেছেন, তার উত্তর কিন্তু আমাদের সবারই জানা। বাংলাদেশের মানুষ যে আতিথেয়তায় সারা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, তার প্রকৃত রূপটি ফুটে ওঠে আমাদের গ্রামবাংলার এই সহজ সরল মানুষগুলোর কাছে গেলে। তার ব্যত্যয় ঘটেনি সেই বিয়ে বাড়িতেও। আমাকে তারা টিভিতে দেখে। টিভির আপা শুটিং টিমসহ তাদের বাড়িতে হাজির! আনন্দে আত্মহারা! আমি স্বভাবসুলভ মিশুক প্রকৃতির। গ্রাম-গঞ্জে যখন যেখানে যাই, মানুষের খুব কাছে গিয়ে সহজ ভাবে মিশি, তাদের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করি, যাতে তারা আমাকে দূরের কেউ মনে না করেন, যেনো মনে করেন আমি তাদের পরিবারের বা পাড়ারই একজন। গ্রামের মানুষের ধারণা, যাদেরকে টিভিতে দেখা যায় তারা তো অধরা। চাইলেই তাদের দেখা যায়না, কথা বলা তো দূরে থাক। সেখানে আমাকে এতো সহজভাবে তাদের মাঝে পেয়ে তারা কি যে খুশী হন.. তাদের চোখে-মুখের চরম তৃপ্তির হাসি দেখেই তা বোঝা যায়। সেই বিয়ে বাড়িতেও একই অভিব্যক্তি। আমাদের পরম যত্নে বিয়ের খাওয়া খাইয়ে দিলেন। মজার ব্যাপার ছিল- আমি বরপক্ষের না কনে পক্ষের.. তাই নিয়ে দু’পক্ষে টানাটানি বেঁধে গেলো। কাজের মধ্য দিয়ে পাওয়া সহজ সরল মানুষের এই পরম ভালবাসাগুলো আমার বেঁচে থাকার অনেক বড় অনুপ্রেরণা।

প্রশান্তিকা: খাবার কিংবা জনসংস্কৃতি সবকিছু দেখতে আপনার রয়েছে সুক্ষ্ন দৃষ্টি। অভিনয় শিল্পীদেরও এত গভীর ভাবে মিশে যেতে দেখিনি। কখনও কি মনে হয়নি আপনি ভালো অভিনেত্রী হতে পারতেন?

মালিহা: অভিনয় শিল্পটির শেকড়ই তো রিয়েল লাইফ স্টোরি। বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা বা অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলো থেকেই তো নাটক-সিনেমার কাহিনী তৈরি হয়। আর অভিনয়শিল্পীরা সে কাহিনী ফুটিয়ে তোলেন। হয়তো পারতাম অভিনয়শিল্পী হতে। টিভিতে আমার প্রথম ধারাবাহিক প্রামাণ্যচিত্র “ইতিহাসের পথ ধরে” প্রচারের সাথে সাথে নাটকে অভিনয়ের জন্য অনেক প্রস্তাব আসে। অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সেই প্রস্তাব গুলো ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ যে বাস্তব জীবনকে উপজীব্য করে নাটকের কাহিনী তৈরি হয়, সেই বাস্তবতায় বিচরণ করার সুযোগ পাচ্ছি আমি। নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে জীবনকাহিনী দেখানো নয়, বরং মানুষের রিয়েল লাইফটাই তুলে ধরতে পাচ্ছি আমি। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তির জায়গা কি আছে !

বর্ষীয়ান প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা “এ মাসুদ চৌধুরী পিটু” ৩০ বছর ধরে প্রামাণ্যচিত্র নিয়েই আছেন। প্যানোরমা ক্রিয়েটরস এর কর্ণধার। আমাদের ডিরেক্টর ও ডিওপি। আমাদের মেনটর। অভিভাবক। পাশের জন এসিস্ট্যান্ট ক্যামেরা পারসন।

প্রশান্তিকা: শত শত ভিডিওগুলোর মধ্যে আপনাকে যদি বলি সেরা ১০টির তালিকা করবেন। কোন ১০টি হবে?

মালিহা: খুব কঠিন প্রশ্ন। আগের একটি প্রশ্নের উত্তরে প্রাসঙ্গিকভাবে বলেছি যে, বাংলাদেশের প্রতিটি বিষয় আমার কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। প্রতিটি বিষয়ই আমার কাছে প্রিয়। প্রতিটি বিষয় নিয়ে কাজ করার সময় প্রতিবারই আলাদা করে অনেক কিছু শিখেছি, প্রতিবারই নিজেকে অনেক সমৃদ্ধ মনে হয়েছে। প্রতিটা প্রোগ্রাম আমার সন্তানের মতো। মা কি কখনো তার সন্তানদের মাঝে কে সেরা সেই হিসেব করতে পারে বলুন? সব সন্তানই তার মায়ের কাছে সেরা। তাই সেরা ১০ এর তালিকা আমার পক্ষে করা সম্ভব নয়। ভালমন্দের বিবেচনায় আপনারাই না হয় সেই তালিকাটি করুন।

প্রশান্তিকা: ভিডিও নির্মাণের স্বার্থে দেশে, বিদেশে, পাহাড়ে কিংবা নদীতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কখনই ভীতি কিংবা শঙ্কা লাগেনি? দিনশেষে আমাদের মেয়েরা বাইরে গেলে দুশ্চিন্তা হয়কি! এরকম কোন বিরম্বনা বা শঙ্কার অভিজ্ঞতা হয়েছে কি?

মালিহা: কতো যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তার হিসেব নেই! ভীতিকর বা আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি হয়েছে অনেক কিন্তু ভীত বা শঙ্কিত হওয়ার কোন সুযোগ আমি পাইনি। কারণ আমাদের টিমের সকল সদস্য অত্যন্ত কো-অপারেটিভ। বিপদ আপদ আসার আগেই ডিফেন্স তৈরি করে রাখে একে অপরের জন্য। তাছাড়া প্রশাসনিক সহযোগিতা সবসময়ই আমরা পেয়ে থাকি। আর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো – প্যানোরমা টিম কোন এলাকায় শুটিংয়ে এসেছে শুনলেই সে এলাকার স্থানীয় মানুষজন ছুটে আসে আমাদের কাছে, কিভাবে একটু সহযোগিতা করতে পারে আমাদের..সেজন্য! কখনো কোন প্রতিকূল পরিস্থিতে পড়লে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষজনেরাই সমস্যার সমাধান করেছেন। এটা যে কি অদ্ভুত এক ভালবাসা!

ঢাকায় স্কাউটদের নিয়ে একটা শুটিং শেষে প্যানোরমা টিম।

প্রশান্তিকা: বাহ্ খুব সুন্দর বললেন। আপনি প্যানোরমার সাথে কত বছর হলো রয়েছেন?

মালিহা: আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তখন থেকেই প্যানোরমার সাথে যুক্ত। ২০০৪ এর সেপ্টেম্বর থেকে আমি কাজ শুরু করি। সেই হিসেবে সময় প্রায় ১৭ বছর। তবে কাজ করতে গিয়ে পরিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক অনেক প্রতিকূলতা আমাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মেয়েকেই যার যার সেক্টরে সফল হতে গেলে করতে হয়। আমরা যখন দর্শক হয়ে নাটক-সিনেমায় দেখি যে একটা মেয়ে অনেক স্ট্রাগল করে সামনে এগিয়ে যায়, তখন টিভি স্ক্রিনের সামনে বসে সবাই তাকে বাহবা দেই, সাপোর্ট করি, প্রত্যাশা করি – “ইশ মেয়েটা যেন সব বাঁধা মোকাবেলা করে সফল হয়!” অথচ এই আমরাই দর্শক থেকে যখন বাস্তব জীবনে ফিরে আসি তখন ঠিক এমন একটা মেয়েকেই উৎসাহ দেয়া তো দুরের কথা, উল্টো তার কাজ নিয়ে সমালোচনায় মুখর হই! তাকে মানসিক শক্তি যোগানোর পরিবর্তে তাকে মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত করে ফেলি। তাকে সাফল্যে পৌঁছুতে না দিয়ে কিভাবে তাকে টেনেহিঁচড়ে নীচে নামানো যায় সে চেষ্টাতেই তৎপর থাকি। এই মানসিকতা আমাদের সমাজের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের নারীপুরুষ সবার মধ্যেই বিরাজমান, বরং নিম্নবিত্তের মানুষজনের মধ্যেই এই হীন মানসিকতা কম দেখা যায়। এই মানসিকতা থেকে কি কোনদিনই বেরোতে পারবোনা আমরা? যাই হোক, আমাকেও অনেক মানসিক কষ্টের মধ্যে অনেক চ্যালেন্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। কষ্ট না করলে সৃষ্টিকর্তাও কোন সাফল্য এনে দেননা। ধৈর্য ধরে কষ্ট করতে পেরেছি বলে আমি গর্বিত। তবে আমার কষ্টের চেয়ে প্রাপ্তির জায়গাটাও কম নয়। যখন জানতে পারি, কোন বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের বলেন – “তাড়াতাড়ি পড়া শেষ করো, শায়েরী’র অনুষ্ঠান শুরু হবে…” তখন মনে হয় কষ্ট স্বার্থক। যখন দেখি আমার ভক্ত কোন দম্পতি তাঁদের ঘরে আসা প্রথম কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন “মালিহা মেহনাজ শায়েরী”… মনে হয় আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান ব্যক্তি। যখন দেখি আমার আব্বুকে কেউ আমার কাজের প্রশংসা করে ফোন দেয় আর আব্বু মনে মনে তৃপ্তির হাসি হাসেন… মনে হয় আমি আমার বাবা-মায়ের কিছুটা যোগ্য সন্তান হতে পেরেছি। টেলিভিশন প্রোগ্রাম ছাড়াও প্রতিদিন ইউটিউব ও ফেইসবুকে বিশ্বের ৬০ থেকে ৭০ টি দেশের মানুষ আমার অনুষ্ঠান দেখেন, আমাকে শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালবাসা জানিয়ে হাজার হাজার কমেন্টস করেন, লক্ষ লক্ষ ভিউ হয়! এটা অনেক বড় আত্মতৃপ্তির জায়গা! সবচেয়ে বড় কথা, আমি আমার বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছি, এ সুযোগ সবাই পায়না। আমি মনে করি এটা আমার জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি এবং গর্বের বিষয়।

মলন নিয়ে করা একটা শুটিংয়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের পুল্লা গ্রামে।

প্রশান্তিকা: এই মুহূর্তে কি নিয়ে সময় কাটছে আপনার?

মালিহা: বাংলাদেশ সরকারের বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের গবেষণা ও প্রমোশনাল ফিল্ম নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। যেহেতু প্যানোরমায় আমি “প্রোগ্রাম ম্যানেজার” হিসেবে কর্মরত আছি, তাই এই প্রজেক্টগুলোর সার্বিক মনিটরিং এর জন্য সরকারী বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে আমাকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। তাছাড়া প্রমোশনাল ফিল্মগুলোর প্রোডাকশনে আমি ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত থাকি। এই মূহুর্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের BEPZA ও BEZA এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ টুরিজ্যম বোর্ড এর মোট ৩ টি প্রজেক্ট এর কাজ চলছে যেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের বাইরে পাঠানো হবে। বলা বাহুল্য, টেলিভিশন, ইউটিউব ও ফেইসবুকের প্রোডাকশনও চলমান আছে, যা সারা বছরই থাকে।

আমি পড়তে খুব ভালবাসি! আমার কাজের জন্য এমনিতেই আমাকে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভূগোল, অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্য, জীবনসংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নিয়মিত স্টাডি করতে হয়। এছাড়াও দিনের নির্ধারিত একটি সময় পছন্দের কিছু সেক্টর যেমন মেডিক্যাল সায়েন্স, এস্ট্রোনমি, আরকিওলজি এসব নিয়ে স্টাডি করে সময় কাটে। বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, কপিরাইট ল’ এবং ভিডিও প্রোডাকশন নিয়ে পড়াই, সপ্তাহে ১/২ দিন এই ক্লাসগুলো থাকে। টুকটাক লেখালেখিও করি। এসবকিছুর বাইরে আমার সবচেয়ে বেশি সময় কাটে পরিবার নিয়ে। পরিবারে আমার করণীয়গুলো আমি সর্বাগ্রে করি, তারপর অন্যান্য কাজ করি। এমন কখনও হয়নি যে কাজের ব্যস্ততায় পরিবারের দায়িত্ব পালনে আমি পিছপা হয়েছি। বরং পরিবারিক দায়িত্ব প্রাধান্য দিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজও আমি ছেড়ে দিয়েছি। আরও একটা কাজ নিয়ে দৌড়াতে ভাল লাগে। যখন শুনি কেউ অসুস্থ, কোন কাজেই মন বসাতে পারিনা, সব ফেলে ছুটে যাই সেই অসুস্থ মানুষটির কাছে, যদি তার কোন কাজে আসি সেই আশায়! হয়তো ভাবছেন.. এতো সময় আমি ম্যানেজ করি কিভাবে..?! আমি পরিশ্রম করতে পারদর্শী। মাঝে মাঝে ২৪ ঘন্টায় ৪৮ ঘন্টার কাজ করে ফেলি!

প্রশান্তিকা: আমার কি মনে হয় জানেন- প্যানারোমার ভিডিওগুলো যেভাবে তৈরি হয়েছে তার চেয়ে একটু বেশি মুনশিয়ানা মেশালে কিংবা তার চেয়ে আরেকটু কম যত্ন করলেও ভিডিওগুলো সব শ্রেণীর মানুষ হয়তো দেখতনা। একেকটা শ্রেণীর কাছে জনপ্রিয়তা পেতো। এই মুহূর্তে ভিডিওগুলোর সার্বজনীনতার জন্য আপনাকে এবং পুরো টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এ প্রসঙ্গে আপনার কোন মতামত বলবেন কি?

সিরাজগঞ্জে টুরিজ্যম বোর্ডের ফিল্মের শুটিং এ, ক্যামেরার পেছনে ছিলেন মালিহা, মুড়ি ভাজা হয়েছিল, মায়ের জন্য মুড়ি নিয়েছেন বস্তা ভরে।


মালিহা: আসলে একেক শ্রেণীর মানুষের কাছে একেক ধরনের অনুষ্ঠান বা বিষয় প্রিয়। কেউ গবেষণাধর্মী প্রোগ্রাম ভালবাসেন তো কেউ ট্রাভেল শো, কেউ প্রত্নতত্ত্ব পছন্দ করেন তো কেউ প্রকৃতি, কেউ জমকালো শহুরে জীবন খুঁজে বেড়ান তো কেউ নির্মল গ্রামীণ জীবন! তবে আমাদের “প্যানোরমা ক্রিয়েটরস” এর নির্মিত ডকুমেন্টারি গুলোর কিছু সার্বজনীনতার কথা না বললেই নয়। তা হলো –
➢ আমরা আমাদের ঐতিহ্যের জীবনসংস্কৃতি দেখানোর চেষ্টা করি যাতে নতুন প্রজন্ম তাদের শেকড় সম্মন্ধে জানতে পারে।

➢ বাবা-মা-ভাই-বোন পরিবারের সবাই মিলে একসাথে বসে আমাদের অনুষ্ঠান উপভোগ করা যায়, যা হয়তো নাটক-সিনেমা বা অন্য  অনেক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনেকসময় সম্ভব হয়না।

➢ আমরা অনেক অদেখা বিষয় দেখানোর চেষ্টা করি, এবং ইনডেপথ দেখানোর চেষ্টা করি, তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রামাণ্যচিত্রগুলো দেখলে অনেক কিছু শেখা যায়, জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হয়।
নতুন প্রজন্মকে প্রিয় বাংলাদেশটাকে বিস্তারিতভাবে দেখাবার জন্য, সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশ নিয়ে তাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য আমাদের পথ চলা! আমার পথ চলা!

প্রশান্তিকা: অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?

মালিহা: অস্ট্রেলিয়া আমার কাছে পৃথিবীর একপ্রান্তে থাকা নির্মল প্রকৃতির দেশ, চির শান্তির দেশ, মানে পুরো ওশেনিয়াকে আমার কাছে রূপকথার এক রাজ্য মনে হয়। যেহেতু বাংলাদেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশে কাজ করেছি, ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রকৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করার। আমার মেজ মামা, কাজিন, শিক্ষক, বন্ধু অনেকেই সপরিবারে থাকেন সেখানে। অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের দর্শকও আছেন অনেক ! প্রতিদিন শুধু অস্ট্রেলিয়া থেকে গড়ে ৪০,০০০- ৪৫,০০০ ভিউ হয় আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে আর ফেইসবুক পেইজে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি পর্ব দেখেছি। আমাদের মেয়ে কিশওয়ার চৌধুরী তো বাংলাদেশের গ্রেইট ব্র্যান্ডিং করেছে! সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত! সামনে পেলে ওকে স্যালুট করতাম।

বান্দরবানে হাতিভাঙা টিপরা পাড়ায়, টিপরা মেয়েদের সাথে মালিহা।

প্রশান্তিকা: আগে যে দেখিনি তা নয় কিন্তু কোভিড প্রকোপ শুরু হওয়ায় গত দুই বছরে অধিকাংশই ঘরবন্দী জীবন কাটছে আমার মতো অনেকের। এই দীর্ঘ অবসরে আপনাদের প্রামান্যচিত্র দেখে আমরা প্রবাসে থেকেও যেনো আদিগন্ত বিস্তৃত সবুজের দেশ- আমার বাংলাদেশে চলে যাই। আপনার ব্যস্ত কর্মময় সময় থেকে আমাদের এই সময় দিলেন। সেজন্য অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

মালিহা: বাংলাদেশ, বাংলা, আর বাঙালিকে অস্ট্রেলিয়া তথা বিশ্বসভায় তুলে ধরার চলমান কর্মযজ্ঞের জন্য আপনাকে এবং প্রশান্তিকাকে আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা আর কৃতজ্ঞতা। প্রশান্তিকার সম্মানিত পাঠকদেরও আন্তরিক ভালবাসা। আসুন, সবাই মিলে মাতৃভূমি- প্রিয় বাংলাদেশকে ছড়িয়ে দেই বিশ্বের বায়ুমণ্ডলে।

প্রশান্তিকা: সেই সঙ্গে আমাদের প্রত্যাশা- করোনাকাল শেষে একদিন পৃথিবী যখন শান্ত হবে, আপনি অস্ট্রেলিয়ায় আসবেন এবং আপনার চোখে এদেশের মানুষ, প্রবাসী বাঙালি এবং প্রকৃতিও তুলে ধরবেন। প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে আপনার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।

মালিহা: মানুষের অনুভূতির লেনদেনের আদর্শ প্লাটফর্ম হলো প্রশান্তিকা’র মতো পোর্টালগুলো. বিশ্বকে জানতে এবং বিশ্বকে অনেক কিছু জানাতে প্রশান্তিকা’র জুড়ি নেই। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, বিশ্বের আরও অনেক দেশের প্রবাসী বাঙালী’র প্রাণের প্লাটফর্ম “প্রশান্তিকা”! যা প্রত্যাশা করছেন আমাকে নিয়ে, সেটি তো আমার স্বপ্নের তালিকায়ই আছে। মহান সৃষ্টিকর্তা যদি ইচ্ছা করেন.. পৃথিবী শান্ত হলে অবশ্যই আসবো অস্ট্রেলিয়া, তুলে ধরবো ভূ-প্রকৃতি, ঐতিহ্য আর প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুখ-দুঃখ আর সাফল্যের গল্প। প্রশান্তিকার গঠনমূলক নিউজ-ভিউজ এর সাথে সম্পৃক্ত আছেন যাঁরা, নিয়মিত পাঠক যাঁরা, শুভানুধ্যায়ী যাঁরা… সবাইকে আমার হৃদয় নিংড়ানো শ্রদ্ধা, ভালবাসা, শুভকামনা। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই প্রশান্তিকা’র সম্মানিত সম্পাদককে যিনি প্রশান্তিকার মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের সাফল্যগাঁথা।

অলংকরণ: হৃদয় চৌধুরী , ছবি কৃতজ্ঞতা: মালিহা মেহনাজ শায়েরী

 

1 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Ziaun Nahar
Ziaun Nahar
1 month ago

আমি উনার করা অনেকগুলো ভিডিও দেখেছি। উনাকে দেখে মনে হয় ঠিক যেন পাশের বাড়ির মেয়েটি; অনেক কাছের, অনেক আপন। ঝরঝরে প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর চমৎকার বাচনভঙ্গি উনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে দিয়েছে। চমৎকার প্রতিবেদন। শুভ কামনা।