মাশরাফি বিন মর্তুজা রাজনীতি ও নির্বাচনে: পক্ষে বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী

  •  
  •  
  •  
  •  

ফড়িং ক্যামেলিয়ার চোখে মাশরাফি

প্রশান্তিকা রিপোর্ট: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রাণপুরুষ মাশরাফি বিন মর্তুজা এবার জাতীয় নির্বাচনে তাঁর জন্মভূমি নড়াইল থেকে লড়ছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে। এ খবরটা নিশ্চিত হওয়ার পর দেশ ও দেশের বাইরে সর্বত্র মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝর উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, মাশরাফি সারা বাংলাদেশের মানুষের আপনজন, তাকে শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের গন্ডির মধ্যে বেঁধে ফেলা ঠিক নয়। আবার অনেকেই বলছেন, দেশ সেবা করতে হলে কোন না কোন ব্যানারে তাঁকে আসতেই হবে। সুতারাং সে হিসেবে মাশরাফি আওয়ামীলীগের মতো প্রগতিশীল দলের সাথে ভিড়ে ঠিক কাজটি করেছেন।

মাশরাফিকে নিয়ে এরকম তর্কবিতর্ক দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতেও চলছে। বিদেশে বাংলাদেশী অধ্যুসিত এলাকাগুলোতে টক অব দ্য টাউন এই মাশরাফিকে নিয়ে। সঙ্গতকারণেই আমরা প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে প্রবাসীদের কাছে মাশরাফির রাজনীতিতে আসার বিষয়ে নিচের দুটি প্রশ্ন রেখেছিলাম।

প্রশ্ন: মাশরাফি মুর্তজার নির্বাচনে বা রাজনীতিতে আসার বিষয়টা আপনি সমর্থন করেন কিনা? আপনার সমর্থনের পক্ষাবলম্বনের কারন কি ?

প্রশ্ন: তিনি আওয়ামীলীগে যোগ দেয়ায় আওয়ামীলীগ লাভবান হয়েছে কিন্তু ব্যক্তি মাশরাফি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন- এরকম মন্তব্য সমর্থন করেন কি ? 

উপরের প্রশ্নদুটির উত্তরে প্রবাসীরা অনেকেই সাড়া দিয়েছেন। সেখান থেকে বাছাইকৃত কিছু উত্তর এখানে দেয়া হলো:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাশরাফি

এনায়েতুর রহিম বেলাল, মুক্তিযাদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সিডনি:

মাশরাফি বিন মুর্তজা শুধু কেনো ওর মতো অনেক সফল ক্রীড়াবিদ রাজনীতিতে আসবে। আর আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধকে ধারন করে। সুতারাং মাশরাফি আওয়ামীলীগে যোগ দেবেন এটাই স্বাভাবিক। আমি স্বাধীনতার পক্ষের পার্টি থেকে মাশরাফিকে স্বাগত জানাই এতো সুন্দর একটি সিদ্ধান্ত নেবার জন্য। মাশরাফি অবশ্যই নির্বাচিত হয়ে আসবেন। তারপর আওয়ামীলীগ সরকার আবার ক্ষমতায় যেতে পারলে আমি বিশ্বাস করি মাশরাফি ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের হাল ধরবেন এবং আমাদের দেশকে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

মাশরাফি আওয়ামীলীগে যোগদান করায় আমার মতে মাশরাফি আর আওয়ামীলীগ উভয়ের লাভ হয়েছে। ওর মতো সফল ক্রীড়াবিদকে পেয়ে দেশ ও দশের অনেক উপকার হবে। এতোদিন সে নড়াইল বাসীর নয়নমনি ছিলো, এখন সে পুরো দেশের নয়নমনি হবে রাজনীতিবিদ হিসেবে।

হ্যাপি রহমান, লেখক ও সম্পাদক, সিডনি ট্রিবিউন:

হ্যাপি রহমানের সঙ্গে মাশরাফি

মাশরাফি বিন মর্তুজা—প্রথমত তিনি একজন সফল মানুষ। দ্বিতীয়ত তিনি সফল ক্রিকেটার। ক্রিকেট খেলে নিজ দেশকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্ব দরবারে। বৃষ্টিস্নাত, চাঁদোয়া আলোয় আলোকিত, শ্যামল-সবুজ ও নদী বিধৌত নরম মাটির দেশের জনগণ আমরা। প্রকৃতির মতই আমাদের মন। আমরা জাতি হিসেবে অতি আবেগপ্রবণ। অতিরঞ্জিত। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যমত গড়তে না পারলেও, সকল ইস্যুতেই চায়ের কাপে ঝড় তুলতে সিদ্ধহস্ত। ভিন্ন ইস্যু’তে জনমতের এ ধরনের বিভক্তি অভূতপূর্ব। উপভোগ্য।

এক্ষেত্রে একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে আমি সব সময় চলমান ঘটনা উপভোগ করি। ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে কে কি বললেন, কেন বললেন, তর্ক-যুক্তি, পাল্টা যুক্তি, ব্যক্তি ইমেজ সব কিছুতেই নজর রাখি। মাশরাফি বিন মর্তুজা; সহজাত স্বভাবের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন একজন বাংলাদেশী নাগরিক। তিনি তাঁর মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। রাজনীতিতে আসা বা না আসা মাশরাফি বিন মর্তুজার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় বলে আমি মনে করি। কিন্তু এরই মধ্যে রাজনীতিতে তাঁর অন্তর্ভূক্তি নিয়ে সরগরম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল মিডিয়া অঙ্গন l আসন্ন নির্বাচনের ডামাডোলে তিনি এখন টক অব দ্য টাউন। আচার-সংস্কৃতি, রাজনীতি সব কিছুতে বৈচিত্র্যে ঘেরা দেশ আমাদের। ব্যতিক্রম ঘটেনি এখনও! নির্বাচনকে সামনে রেখে এ যেন মহোৎসবের রব ! এ ছোঁয়া প্রশান্ত পাড়ে বাঙালি কমিউনিটি’তে ও লেগেছে। ঘরোয়া আডডা-দাওয়াত, রেস্টুরেন্টে একটাই আলোচনার ইস্যু—মাশরাফি মুর্তজা কেনো রাজনীতিতে ? এ নিয়ে তিনি তাঁর ভেরিফাইড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন সম্প্রতি। পক্ষে বিক্ষপে প্রচুর মন্তব্যও পড়ে সেখানে। এছাড়াও দেশের প্রথম সারির একটি দৈনিকে দেখলাম—মাশরাফি বলেছেন, “ক্রিকেট খেলার মধ্য দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে যতটুকু সামাজিক কাজ করেছি; আমার মনে হয়েছে, সেটুকুই যথেষ্ট নয়। আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ খুঁজেছি সবসময় এবং রাজনীতি আমাকে সেই সুযোগটা করে দিচ্ছে।”

ভিন্ন এক প্রশ্নোত্তরে তিনি আরও বলেন— “দুটি বল করে, আপনাদের কয়েকটি আনন্দের মূহুর্ত উপহার দিয়ে, দু’জনকে জড়িয়ে ধরেই যদি ভালো মানুষ হওয়া যায়, তাহলে স্রেফ এরকম ভালো মানুষ হওয়ার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না।” তাঁর ভাষায়, যেহেতু খেলোয়াড়ি জীবনও প্রায় শেষের দিকে এবং পরবর্তী নির্বাচন আসতে আরো ৪-৫ বছর সময় অপেক্ষা করতে হতো সেক্ষেত্রে এবার না হলে রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়তে হবে তাঁকে।

মাশরাফি ভক্ত-অনুরাগীদের বলতে চাই—ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষটিকে শৃঙ্খলে বাঁধতে যাবেন না। এটা দাসত্ব! আমরা মাশরাফি কে ভালোবাসি। তাঁকে দাস বানাতে চাই না। ক্রিকেটার মাশরাফি আমাদের গর্ব। অহংকার। তাঁর নেতৃত্বে দল যখন খেলে, সমগ্র দেশ তখন ঈশ্বর বন্দনা করে। দেশের জনগনের এই যে নি:স্বার্থ ভালোবাসা-প্রীতি এটা অবশ্যই আশীর্বাদ। পাশাপাশি এটাও মনে রাখা উচিত – ব্যক্তি মাশরাফির ব্যক্তিগত মত-পথ থাকতে পারে। পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। সেসব মেনে-বুঝেই আমাদের সীমারেখা টানতে হবে।

মাশরাফি মর্তুজা লীগে যোগ দেয়ায় আওয়ামীলীগ লাভবান হয়েছে কিন্তু ব্যক্তি মাশরাফি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—এমনটা আমি মনে করি না। বরং তাঁকে সমর্থন করি। তাঁর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। মাশরাফি বুদ্ধিমান। তিনি জানেন তিনি ফর্মে না থাকলে কি হতে পারে। এব্যাপারে তিনি নিজেই গণমাধ্যমে পরিষ্কার বলেছেন—”না আমি শচিন টেন্ডুলকার, না ম্যাকগ্রা, যে আমার কথা মানুষ স্মরণ রাখবে। আমি আমার মত করেই ক্রিকেটটা খেলেছি। আমার স্ট্রাগলিং লাইফে যতটুক পেরেছি খেলেছি”।

হ্যাঁ, এটা ঠিক যে ভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসীরা প্রশ্ন তুলতেই পারেন। মাশরাফি ভক্তরা প্রশ্ন করতেই পারেন – যে অন্য আরও অনেক কিছু করা যেতো। ভিন্ন পরিকল্পনা হতে পারতো। মাশরাফির মত স্বচ্ছ ইমেজের ব্যক্তির কেন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মই লাগবে!

আমি নিজে কোন ঘরনার রাজনৈতিক সমর্থক নই। কিন্তু স্বাধীনতার স্বপক্ষে। বাংলাদেশের পক্ষে। একজন লেখক হিসেবে আমার মতামত – সৃষ্টলগ্ন থেকেই রাজনীতি কন্টকযুক্ত । এখানে সৌহার্দ্য আর সৌম্যের বন্ধন বড় আলগা। স্বার্থে টান পড়লে তাদের নৃশংসতা দেখে ভয়ে আঁতকে উঠতে হয়। অর্থাৎ এর মানে এই নয় যে প্রত্যেক রাজনীতিবিদ মানেই ধান্দাবাজ-ধূর্ত। রাজনীতি মানেই ভন্ড, কপট, লোভী বা হিংস্রের আয়নাবাজী। আমাদের ভুললে চলবে না, রাজনীতির মঞ্চ থেকেই আমরা পেয়েছি একজন তাজ উদ্দিন, সৈয়দ আশরাফ বা জিল্লুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুর মত হাজার বছরের শ্রেষ্ট রাস্ট্রনায়ককে।

বিবেকের আয়নায় মাশরাফি হয়তো স্বচ্ছ l তাঁর মধ্যে মানসিক শক্তি আছে। যিনি ভবিষ্যতে রাজনীতির প্রাণ হয়ে উঠতে পারবেন। বর্তমান কদর্যপূর্ন রাজনীতিতে তরুনরা হতাশ । রাজনীতি মানেই ভোগ। দুর্বৃত্তদের দখলদারিত্ব। জোর-জবরদস্তি। সেসব ভেবে দূরে সরে আছে এপ্রজন্ম । মাশরাফি তাঁদের অনুপ্রাণিত করতে পারবেন।

আমরা জাতিগতভাবে এতটাই আবেগপ্রবন ক্রিকেটের প্রেমে পড়ে খেলোয়ারকে নিজস্ব সম্পত্তি ভাবছি। দখল হয়ে যাবার ভয়ে শংকিত হচ্ছি। ক্রিকেট প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ক্রিকেটার/তারকাদের ব্যক্তি মতাদর্শ গ্রহণ করতে পারছি না। অস্বীকার করবার জো নেই যে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ নাজুক। তাই বলে পিছিয়ে থাকতে হবে! দেশের ভবিষ্যত কি! হুমায়ুন আজাদ বলে গিয়েছেন—’সব কিছু আজ নষ্টদের অধিকারে’।

ছেড়ে দেয়াটা কোন কাজের কথা নয়। অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে পারাটাই নেতৃত্ব। সত্যিকারের নেতার পরিচয়। সামাজিক-রাস্ট্রীয় অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন হয় সমষ্টিগত প্রজ্ঞা। রাজনীতিতে অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, পজেটিভিটি রয়েছে। তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এক্ষেত্রে মাশরাফির রাজনীতিতে আসাটা প্রত্যাশিত।  ব্যক্তি মাশরাফি মানবিক। সহজ জীবন যাপনে অভ্যস্ত, যা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আদর্শ গুণ। আর নেতৃত্ব! সে তো মাশরাফির গত দেড় যুগের ধারাবাহিক ক্রিকেট সাফল্য ই সব’চে বড় সনদ; ম্যাশ-ভক্তদের জন্য।

রাজনীতি করতে হলে কোন না কোন দলে ভিড়তে হবেই। এককভাবে ইচ্ছে করলেই বড় পরিসরে দেশ ও জনগনের জন্য কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠে না । সচেতন, যোগ্য ও ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসাটা অস্বাভাবিক নয়। বরং স্বাভাবিক। এটাই কাম্য ! এখানে বিতর্কের কিছু নেই। মানুষ ভুলের উর্দ্ধে না। সব দলেই ভাল-মন্দ দিক আছে। গুটিকয়েকের ব্যক্তি ইমেজ দিয়ে দলের ভাবমূর্তি যাচাই করা যাবে না।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে ইতিমধ্যে অনেকেই খেলোয়াড়ি জীবন থেকে রাজনীতিতে যোগদান করেছেন এবং সফল হয়েছেন। অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার রাজনীতি করার আগে তিনি বিশ্বের সেরা বডিবিল্ডার ছিলেন। সিনেমা করেছেন। শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা। কেবিনেট মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি জুনিয়র পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। ভিটালি ক্লিটস্কো বক্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন। বর্তমানে কিয়েভের মেয়র পদে উপবিষ্ট। সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা জর্জ উইয়াহ ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট পদে ভোটে হেরে যান, পরবর্তীতে জয় লাভ করেন। ম্যানি প্যাকিয়া ফিলিপিনসের অন্যতম আইকন বক্সার। ২০১৬ সালে সিনেটে নির্বাচিত হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হোন। আশি-নব্বই দশকের বিশ্ব সেরা ক্রিকেটার ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। শুধুমাত্র খেলোয়ারগণই নন,রাজনীতির মাঠে বিভিন্ন অঙ্গনের তারকাদের আনাগোনা সব সময় ছিলো। আমাদের দেশেও এটি নতুন কিছু নয়। তাহলে একজন মাশরাফি মর্তুজা কেন নয়!? প্রত্যেকেই ভাবা উচিত আমরা আসলে কতটুকু ভালোবাসি দেশকে ! কতটুকু দিতে পারছি নিজ নিজ অবস্থান থেকে ! নেতৃত্ব যোগ্য লোকের হাতে গেলেই দেশ ভালো থাকবে। দেশের মানুষ ভালো থাকবে। আজকের অবস্থানের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী দশ বা আরও পরে দেশের নেতৃত্ব কে বা কারা দিবেন। দেশসেরা অধিনায়ক মুর্তজা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন । তাই একজন খেলোয়ার রাজনীতিতে আসতে পারবেন না—এমনটা ভাবা কখনোই উচিত নয়। সবশেষে রবীন্দ্র ভাষায় মাশরাফি মুর্তজাকে বলতে চাই,

“দুলবে রে বুক, জাগবে হাহাকার !

হালের কাছে মাঝি আছে, করবে তরী পার”।

এ কে এম শফিক, সংগঠক ও রাজনীতিবিদ, সিডনি:

মাশরাফির এই মুহুর্তে রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্তটা আমি মেনে নিতে পারছিনা। তিনি এখনও জাতীয় দলে খেলছেন। আসছে বিশ্বকাপেও খেলবেন। খেলার সাথে রাজনীতি মিশিয়ে আমরা আর তাকে স্বাভাবিক ফর্মে নাও পেতে পারি। ক্রিকেট দিয়ে দেশ বিশ্ব যাত্রায় নাম করছিলো, মাশরাফির এই সিদ্ধান্তে সেটা স্থবির হয়ে পড়বে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। মাশরাফি এতোদিন ছিলেন সারা বাংলাদেশের প্রিয়জন। আওয়ামীলীগে যোগদান করায় দেশের অর্ধেক মানুষের সমর্থন হারালেন তিনি। বিএনপি সহ বিরোধীদলগুলো তাকে হয়তো আর সমর্থন দেবেনা। এতে মাশরাফির ব্যক্তি ইমেজ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তবে এটুকু বলতে পারি আওয়ামীলীগ লাভবান হয়েছে মাশরাফির মতো সফল এক ক্রীড়াবিদকে পেয়ে। এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আওয়ামীলীগ জিতে আসতে পারবেনা। কিন্তু মাশরাফি অবশ্যই জিতবেন। সেক্ষেত্রে মাশরাফির ভবিষ্যত কর্মপন্থা কি হবে- সেটাই ভাবছি।

নাদিরা সুলতানা নদী, সহযোগী সম্পাদক, প্রশান্তিকা, মেলবোর্ন:

নদীর ছেলে নভো’র সঙ্গে মাশরাফি

একজন মাশরাফি বিন মুর্তজা, ক্রিকেটের বর পুত্র, বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত জনপ্রিয়তম নামের একটি। মাশরাফির সরাসরি রাজনীতিতে আসা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তিনি ‘’মাশরাফি’’ বলেই। অন্য হাজারো মানুষের এভাবে রাজনীতিতে আসা না আসায় সাধারণ মানুষের খুব বেশী কিছু যায় আসেনা। আমি এর উত্তর যদি হুট করে দেই, তবে বলবো না এলেই কী ভালো হতোনা। কিন্তু একটু ভেবে নিয়ে বললে বলবো… মাশরাফী আপাদমস্তক একজন ভালো মানুষের ইমেজ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আগলে আছেন লম্বা সময় নিয়ে। তিনি দেশপ্রেমিক এবং জনসেবায় নিয়োজিত আছেন সবসময়ই। এখন সেটিকেই চাইছেন জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করতে। আওয়ামীলীগ নানান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আজ প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তারা একটা রাজনৈতিক দল। মাশরাফি জনগনের প্রতিনিধি হতে চাইলে তাঁর সামনেও হয়তো এর বাইরের কোন অপশন নেই স্ট্রংলি। তাই তাঁর ইচ্ছেটাকে শ্রদ্ধা জানাতে বলতেই হয়, হয়তো সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন তিনি। তবে ব্যক্তি আমি আজকের আওয়ামী রাজনৈতিক দলের অনেক চর্চার সাথেই আমার আদর্শকে মেলাতে পারিনা। হতাশ হই, তাই আমার আশংকা থেকেই যায়, এই ভালো মানুষটির ভবিষ্যত নিয়ে। সময়ই হয়তো দেবে এর প্রতিউত্তর। তবে তাঁর জন্যে শুভকামনা আমার সবটুকু।

হুম আমার মনে হয় যোগ হলে আওয়ামীলীগের ইমেজেই কিছু যোগ হবে, মাশরাফি তো নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান, তাঁর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ছিলোই বরং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অসচেতন মানুষদের কাছে তাঁর সেই জনপ্রিয়তায় অনেকটাই ভাটা পড়েছে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নাম লেখানোতে। তারপরও আমি চাই জনগণ মাশরাফির ইচ্ছেকে সম্মান করুক, মাশরাফি আসুক জনপ্রতিনিধি হয়ে। তাঁকে ঘিরে অটুট থাকুক আস্থা এবং গণ মানুষের ভালোবাসা।

আলম নূর টিপু, বিজনেস ম্যানেজার সেল্স, সিডনি:

রাজনীতিতে মাশরাফি আসতে পারেন কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি করে নয়। কারন তার মতো খেলোয়াড়কে খেলোয়াড় হিসেবেই আরো বহুদিন দেখতে চাই। কারন তিনি এই হিসেবেই বাংলাদেশের একজন আইডল হিসেবে হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। সামনে তাকে দিয়ে খেলার জগতেই আরো অর্জন সম্ভব ছিলো। একজন মাশরাফির বিকল্প দেশের মাটিতে খুঁজে পাওয়া এতো সহজতর নয়।

আওয়ামীলীগ অবশ্যই লাভবান হয়েছে মাশরাফিকে পেয়ে। কারন এই আসনটা আওয়ামীলীগ মাশরাফির গুণেই জয়লাভ করবে। মাশরাফির ব্যক্তি ইমেজ কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমি মনে করি।

মিতা চৌধুরী, চিত্র শিল্পী,মেলবোর্ন:

হ্যা, আমি মাশরাফি বিন মর্তুজার রাজিনীতেতে আগমন জোড়ালোভাবে সমর্থন করি।কারন আমি ব্যাক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসি এবং আমি মনে করি প্রতিটা ব্যক্তি মাত্রইস্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার  রাখেন।আর যদি আমরা একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথাই বলি তবে রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহনও প্রতিটি      নাগরিকের অধিকার।না আমি মনে করি না এবং বিশ্বাসও করিনা এই লাভ লোকসানের হিসাবটা সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত। কারন আমি বিশ্বাস করি জনগনের জন্য এবং গনমানুষের জন্যরাজনীতি, তাই এখানে আওয়ামিলীগ লাভবান বা মাশরাফি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভিকটিম এটা ভাবাটা নিছকই একপেশে।হ্যা অনেকই হয়তো বলছেন রাজনীতির মতো কদর্যজায়গা তাঁর জন্য না, এখানেও আমার কথা হলো, রাজনীতিব্যক্তিকে কদর্য করে না বরং ব্যক্তিই তার ব্যক্তিস্বার্থ রাজনীতিকে কদর্যপূর্ন করে।

সাকিনা আক্তার, সংগঠক, শিল্পী, সিডনি : 

আমার বিশ্বাস, শুধুমাত্র সচেতন, যোগ্য ও ভালো মানুষের রাজনীতিতে আসা উচিত। নেতৃত্ব, দৃষ্টান্ত, অনুপ্রেরণা, শ্রদ্ধা, সাহসী, দৃঢ়চেতা , দেশপ্রেমের অপর নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা; বাংলাদেশের অহংকার।

জনগণের সমর্থন ছাড়া রাজনীতিতে সফল হওয়া যায় না। আনিসুল হক আমাদের পথিকৃৎ। গতানুগতিক রাজনীতিবিদরা দেশের সাধারণ মানুষের চিন্তাকে বোঝার চেষ্টা করেন না অথবা বোঝেন না৷ সত্যিকারের নায়ক চাই আমাদের। বিশ্বের ক্রীড়াবিদদের রাজনীতিতে পদার্পন নতুন নয়, আমি পূর্ণ সমর্থন করি মাশরাফি বিন মর্তুজার এই যোগদান।

মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন; “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পারিবারিকভাবেই আমার অস্থি-মজ্জায়, মননে-মগজে”।

মাশরাফি মানে অন্য রকম মুহূর্ত রচনার নিশ্চয়তা! তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পেস বলার ও সেরা অধিনায়ক।

উন্নয়ন আর ভালোবাসা দিয়ে রাজনৈতিক মাঠেও সমপরিমাণ আপন তিনি ইতিমধ্যে।

মাশরাফির আওয়ামীলীগে যোগদান, তার অন্তরের ডাকে সাড়া দেয়া মনে হয়েছে আমার।

ব্যক্তি মাশরাফি ক্ষতিগ্রস্ত হবার প্রশ্ন অবান্তর। আত্ম তৃপ্তি সফলতার মূল মন্ত্র যেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাণীর মতো;

তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা,

এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা।

 

লিংকন শফিকুল্লাহ, প্রফেশনাল একাউন্টেন্ট, সংগঠক:

To answer the first question I must say No, not at all. Because, it will affect the mentality of the other players of the national team. When someone playing 2nd division, his goal is to play in 1st division, vice-versa, Mash has shown the path way of the dream, now the national players will put their name before they retired. The aim of a national star will be question marked.

I have no intention to answer this question, as my family background is sports. Definitely he will have to compromise with his honesty and ethics due to bad practice of the politics regardless of Awami League/BNP or Jamat. There is no moral point when I ask to bash or kill someone as a politician, same for Mash.

মামুন রহমান, ক্রীড়া সংগঠক, ব্যবসায়ী, সিডনি:

সিডনিতে ঘরোয়া আড্ডায় মামুন রহমানের সাথে মাশরাফি

২০১৯ সালে বিশ্বকাপ আসছে। আর মাত্র একবছর। এরপর তিনি অবসরে যাবেন এমনটাই শুনেছি। অবসরের পরে মাশরাফি কি করবেন, কতটুকু করবেন আর আমরাইবা কতটুকু স্মরণে রাখবো তাঁকে। ক্রিকেট থেকে অনেকেই অবসর নিয়েছেন, যেমন ধরেন শান্ত বা সুমন। তাদের কোন খবর জানিনা আমরা। সুতরাং সিজন শেষ হলে মাশরাফিকে আমরা রাজনীতিতে পাবো এটা অনেক ভালো। তাঁর মতো সৎ ও সাহসী মানুষদেরই রাজনীতিতে আসা উচিত। মাশরাফির এই অভিপ্রায়কে আমি স্বাগত জানাই।

আওয়ামীলীগ না মাশরাফি কে জয়ী হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলব জনগনের লাভ হয়েছে।

আরিফুর রহমান, বার্তা সম্পাদক, প্রশান্তিকা:

হ্যা, মাশরাফি নির্বাচনে আসাটা আমি সমর্থন করি।কারনটা স্বাভাবিক ভাবেই দেখি। সমাজের যারা ভালো মানুষ আছে বা যাদের মনের ভেতরে কোন লুকোচুরি নেই। তাদের রাজনীতি তে আসা বিশেষ ভাবে জরুরী।আমি মনে করি মাশরাফির সকল গুণই আছে।যার সহজ সরল কথাবার্তা শুনলেই বুঝা যায়।এখনকার সময়ে যারা রাজনীতিতে জড়িত তারা নানান রকমের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন বা বড় বড় কথা বলে থাকেন।নির্বাচিত হলে তারা কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন না। আমি মনে করি যারা বেশি কথা বলে তারা কাজ ততটাই কম করে থাকেন।

অন্যদিকে মাশরাফি কে এরকম প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, বঙ্গবন্ধু মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন নিয়েই দেশটা স্বাধীন হয়েছে।আপনি তরুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়ে রাজনীতিতে আসছেন, আপনি বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মকে কি স্বপ্ন দেখাতে চান? তার চমৎকার উত্তর ছিল। সে কোন গতানুগতিক স্বপ্ন দেখাতে রাজনীতিতে আসেননি।তিনি বলেছিলেন, ‘এখন তো নির্বাচিত হইনি, হ্যা যদি নির্বাচিত হই তখন আমি অবশ্যই ভালো কিছু করার চেস্টা করব,ওই সময় আমার কাজ গুলো রিভিউ করবেন। তখন আমাকে এধরনের প্রশ্ন করবেন আমি কি করব বা করলাম।’

কি সুন্দর সাবলীল কথা। এরকম মানুষ কেন রাজনীতি তে আসবেনা তা হতে পারেনা।

মাশরাফি রাজনীতিতে আসার ফলে আওয়ামীলীগ না মাশরাফি লাভবান হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তর জটিল মনে করি। আওয়ামীলীগ কিন্তু আজকের দল নয়।এটা কিন্তু বঙ্গবন্ধুর গড়া দল, স্বাধীনতা নেতৃত্বকারী দল এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা।তাই এ দলে বহু বিখ্যাত বিখ্যাত মানুষ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং দিচ্ছে। অন্যদিকে মাশরাফির মতো একজন প্রতিভাবান খেলোয়ার বা ভালোমানুষ এই দলের হয়ে নির্বাচন করছেন। তাই আমি মনে করি এ দল তো মাশরাফির মতো মানুষদের জন্যই। অতএব কে লাভবান হলো আমি সে উত্তর টা সেভাবে বলতেও চাচ্ছিনা।

পরিশেষে মাশরাফির জন্য শুভ কামনা রইল।

রেজা আরেফিন, সিনিয়র সাংবাদিক, সিডনি:

শুধু মাশরাফি কেনো যেকোন সুস্থ মানুষ রাজনীতিতে আসতে পারেন। এটা গনতান্ত্রিক অধিকার। মাশরাফি রাজনীতিতে এসেছেন, নির্বাচন করছেন এবং আমার বিশ্বাস তিনি জয়ীও হবেন। সেক্ষেত্রে মাশরাফির মতো একজন সৎ মানুষ সংসদে আসবেন। জনগনের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন। শুধু নড়াইল বাসী নয় সারা বাংলাদেশ সেবা করার সুযোগ পাবেন। মাশরাফি খেলা থেকে অবসর নিলে হয়তো সেভাবে দেশ সেবা করার সুযোগ পেতোনা। আমি বলতে চাই মাশরাফির মতো দেশ নায়কেরা একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাল ধরবেন।

মাশরাফি না আওয়ামীলীগ কে লাভবান হয়েছে এখনো বলতে চাইছিনা। মাশরাফি জয়ী হলে লাভ হারলে ক্ষতি এটাও বলা যাবেনা। আমি মাশরাফির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।

এস এম আমিনুল রুবেল, সংগঠক, সম্পাদক প্রবাস বাংলা নিউজ, সিডনি:

এস এম আমিনুল রুবেল সাথে মাশরাফি ও তার বন্ধুরা

বাংলাদেশে সেবার পাকিস্তান আর ইন্ডিয়াকে ঢাকার মাঠে সিরিজে হারিয়ে সাউথ আফ্রিকার সাথে প্রথম দুই ওয়ান ডে তে ১-১ এ আছে, পরের দিন সকালে অকথিত ফাইনাল।
সন্ধ্যায় এফ ডি সির একটি প্রোগ্রাম শেষে কিছু মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব আর সাংবাদিক গেলাম সোনার গাঁ হোটেলে আড্ডা দিতে। দেখা হয়ে গেলো পুরো বাংলাদেশ টিম এর সাথে। মধ্যমণি যথা রীতি ক্যাপ্টেন ম্যাশ।
কয়েকটা টেবিল গোল করে বসলাম, রাত তখন এগারো টা ছুঁই ছুঁই। কথা হচ্ছিল পরের দিনের খেলা নিয়েই। আমি মাশরাফির সামনে বসা ছিলাম, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে কিছুটা সুযোগ পেয়েছিলাম বাংলাদেশ দলের সান্নিধ্যে আসার।
হঠাৎ আমাকে হাসতে হাসতে মিরপুরের টানে মাশরাফি বললো,” ভাই, আমাকে নিয়ে বিশ্বকাপের সময় ওইটা কি স্ট্যাটাস দিছেন? মিয়া, আমাকে হুদাই হিরো বানায় দিসেন পাব্লিকের কাছে, আমার আব্বা তো তার ছেলেকে ভালবেসে অনেক কিছু বলবেই, আমি তো ভাই খুবই সাধারণ মানুষ, এখন এমন অবস্থা,কোন দিন কেউ সিগ্রেট খেতে দেখলেও কষ্ট পাবে, ভাববে, ছেলেটা কত ভালো ছিল, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে……। ”
কথা গড়ালো অনেক দূর পর্যন্ত, মাশরাফি দেশের কথা বলে যাচ্ছে, মুখে ফেনা তুলে বলে যাচ্ছে গরীব, নির্যাতিত মানুষের কথা, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদের কথা।
অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে, গলার রগ ফুলে ফুলে যাচ্ছে, দেশের জন্য কি তার আবেগ, মানুষের জন্য কি তার মায়া, আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কি তার রাগ। ” বুঝলেন, রিটায়ার্ডের পর আমাকে যদি বি সি বি তে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ করে দেয়া হয়, সবার আগে দুর্নীতির পিছে লাগমু,ট্যালেন্টেড খেলোয়াড় খুঁজে বের করমু, তখন আপনারা কিন্তু পাশে থাইকেন …”
সেই দিন থেকে আমি মানুষটাকে আরও আরও বেশি ভালবেসে ফেলেছিলাম।
বাংলাদেশের ৯৯ ভাগ মানুষ পলিটিশিয়ানদের গালি দেয়, কারণ প্রায় সবাই দুর্নীতির দায় আর অনেক ভুক্তভোগী মানুষের অভিশাপ নিয়ে বেঁচে থাকে। আমরাই পরিবর্তনের কথা বলি।
কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষ টা যখন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নিজ এলাকার গরীব সাধারণ মানুষের জনপ্রতিনিধি হয়ে তাদের সেবা করতে চায়, তখন বাংলাদেশ, স্বাধীনতা বিরোধী একটি অংশ এতে নারাজ।
কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, মাশরাফি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের আদর্শ মনে করে আর বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করছে।
ভালবাসা কি এতটাই ঠুনকো ? যে মাশরাফি আহত বাঘের মত এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশকে ক্রিকেটের মাধ্যমে এত এত সন্মান আর ভালবাসা এনে দিচ্ছে, যার জন্য আনন্দে আর দুঃখে আপনি অন্তত দশ বার চোখের পানি মুছেছেন এত দিনে, হঠাৎ তার আদর্শের জায়গা টা কারও কারও সাথে মিলল না বলে ভালবাসা ঘৃণায় পরিণত হোল? ভাই, মাশরাফিকে ভালবাসেন না??? আপনি আসলে বাংলাদেশকেই ভালো বাসেন না।
শেষ করি ছোট্ট একটি ঘটনা দিয়ে।
মাশরাফি তখন আরও ছোট, ভারতের বিদ্রোহী লীগ আই সি এল খেলার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রায় সব তারকা খেলোয়াড় রুপি দিয়ে কিনে নিল তারা। জাতীয় দল আর দেশকে একে বারে বিদায় জানিয়ে। মাশরাফিকেও সাধা হোল অনেক অনেক টাকা, মাশরাফি তাদেরকে অপমান করে বিদায় দিয়ে বাবার কাছে এলেন, বাবা বললেন, ” কি বলছিস ওদের কে? ভয় নাই তোর? ”
মাশরাফিঃ ” বলেছি, মাশরাফিকে টাকা দিয়ে কেনা যায় না, মাশরাফি দেশের জন্য খেলে, মানুষের ভালবাসাই আমার সম্পদ…আমি সবার মত গরীবই থাকতে চাই” ( কথা গুলি আঙ্কেলের মুখ থেকে শোনা ) বাংলার ঘরে ঘরে অসংখ্য মাশরাফির জন্ম হোক।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments