মিষ্টার গেল এবং পাজি – নামিদ ফারহান

  •  
  •  
  •  
  •  

মিষ্টার গেল এবং পাজি
নামিদ ফারহান

মিষ্টার গেলের কথা মনে আছে তো? মনে না থাকলেও সমস্যা নাই, পরিচয়টা দিয়া দেই আবার।

কাহিনীর পটভূমি বছর দশেক আগের। সিডনীর লাকেম্বাতে। আমার বোইন আর দুলাভাই এর নতুন সংসার। চার বছরের একটা কইন্যা সন্তান । দুলাভাইয়ের স্ট্রাগলিং লাইফ। সকাল বিকাল কামলা মারতে হয়। আর বোইনে ভাগনিরে দেহাশুনা করে টুকটাক কামলাও মারে। এখানের বাসা গুলা বেশীরভাগই ইউনিট সিস্টেম। ৪/৬ কিংবা আটটা ফ্ল্যাট নিয়ে একটা বাড়ী।

তো দুলাভাইরা থাকতো নীচের তলার একটা ফ্ল্যাটে। উনাদের ইমিডিয়েট প্রতিবেশী ছিলো এক বয়স্ক দম্পতি। খুব সম্ভবত গ্রীক কিংবা অযি হবে, যারে কয় ভিন্ন ভাষাভাষীর। প্রায় প্রতিদিন দুপুরের দিকে আফায় আমাগো ভাগনীরে গোসল মোসল করাইয়া ব্যালকনিতে বইসা মাইয়ারে ভাত খাওয়াইতো। ছুডু মাইয়া, স্বভাবতই খাইবার চাইতোনা। আর তহনই প্যাদানীর লগে আফার ঝারি, ঐ খা, গেল গেল, ভাত গেল।

এরুম কয়দিন যাওয়ার পর একদিন বিকালে দুলাভাই বাসায় ঢুকবার যাইবো তহন পাশের বাড়ীর বুড়ি দুলাভাইরে কয় “ মিষ্টার গেল, ইউর ওয়াইফ শাউট টু মাচ উইথ ইউর ডটার, ইট শুডন্ট বি লাইক দ্যাট”। মিষ্টার গেল নামডা হুইন্নাই দুলাভাই বুইঝ্ঝা হালাইছে ঘটনা কি।

এই হইলো আমাদের মিষ্টার গেল। নানাবিধ সমস্যা নিয়া যার জীবন, এর মাঝেও বৈচিত্রময় সকল ঘটনার জন্ম দেয়। এর মধ্যে দুইটা ঘটনা প্রশান্তিকার ঈদ আয়োজনে।

ঘটনা এক:
মিষ্টার গেল আর উনার বড় ভাই। বাপ-মায়ের দুই সন্তান। বাবা কর্মসূত্রে থাকতেন আবুধাবী, পরিবার সহ। তো এরকম এক সময়ে বাৎসরিক ছুটিতে স্বপরিবারে গেলেন উনারা উমরা হ্বজ করতে। প্ল্যানটা ছিলো এরকম, বিমান থেকে নেমেই যাবেন সাফা মারওয়ার মরুভুমিতে সাত চক্কর দিতে। মিষ্টার গেলের বাবার হিসাবে ছিলো সাফা মারওয়ার দুই পর্বত একবার প্রদক্ষিন করলে হয় এক চক্কর। মানে সাফা থেকে মারওয়া এবং আবার মারওয়া থেকে সাফায় ফেরত আসলে হবে এক চক্কর। আদতে সাফা থেকে মারওয়ায় একবার গেলেই হয় চক্কর। তাহলে উনাদের জন্য ব্যাপারটা হয়ে যাচ্ছে ডাবল খাটনি। যাক সেই কথা, পুরা পরিবার মাত্র জার্নি কইরা আইছে আর সন্তান দুইটাও ছোট, পুরা চৌদ্দবার চক্কর দেওয়ার পর পোলা দুইটার আর শক্তি নাই নড়াচড়া করার। এমতাবস্থায় মিষ্টার গেলের বাবা তার পোলাগো কইলো তোমরা এইখানে একটু জিরায় নেও আমি সামনে থিকা একটু ঘুইরা কিছু খাবার নিয়া আসি। খাইয়া চাইয়া চাংগা হইয়া আমরা অন্য দিকে রওনা দিবোনে। যেই কথা সেই কাজ। মিষ্টার গেল আর তার বড় ভাই জিরাইতে জিরাইতে দিছে ঘুম। একে কে জার্নি কইরা আইছে তারপরে ডাবল চক্কর। ঘুম থিকা কিছুক্ষন পর হঠাৎ উইঠা দেখে দুই ভাইয়ের সামনে স্তুপ কইরা অনেকগুলা পয়সা পইরা আছে। ঘটনাটা কি ঘটছে বুঝবার পারছেন?

ঘটনা দুই:

এইটা সম্প্রতি ঘটছে। দুলাভাই মিষ্টার গেল কর্মসূত্রে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সংগে উঠাবসা। তো এরকম একদিন উনার সাথে দেখা হইলে নিউজিল্যান্ডের কিছু লোকের সংগে। কথা প্রসংগে জানা গেলো যে উনারা নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দা। উনাদের ভিতর কথোপকথনটা ছিলো এরকম-

মিষ্টার গেল:তোমাদের তো কিউয়ি কিংবা মৌজিও বলা হয়।

কিউয়ি:: হ্যা, যেমন অষ্ট্রেলিয়ানদের অযি বলা হয়।

মিষ্টার গেল:: ও তাইলে তো যারা বাংলাদেশ থিকা মাইগ্রেন্ট কইরা আইছে তাগো বাজি, শ্রীলংকা থিকা যারা আইছে তাগো শ্রীজি, ইন্ডিয়া থিকা যারা আইছে তাগো ইজি।

কিউয়ি:: হ তাইতো, ইন্টারেস্টিং।

এইসব কথোপকথনের পরেই মিষ্টার গেল দিলো আমারে ফোন দিয়া কয় নামিদ তাইলে পাকিস্তান থিকা যারা মাইগ্রেন্ট হইয়া আইছে ওগো কি কইবো রে ?