মেলবোর্ণে কথকের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা

1078

রাফিয়া হাসিন যুঁই, মেলবোর্ণ থেকে: 

‘একে একে পড়ে দাগ জীবনের ঘরে
মেঘে মেঘে ভেসে যায় হেসে খেলে দিন
চলে যায় জীবনের দিনগুলি ঝরে
ডানা ঝাপটায় বসে পাখি সে অচিন,
স্মৃতির বাক্স খুলে নিয়ে বসি আজ
অতলে লুকানো যত পুরাতন কথা
চোখের পাতায় ভরা সনাতন সাজ
ফেলে আসা সময়ের যত নিরবতা। 

আনন্দ – হাসি, কভু কান্নায় ভরা
মনে হয় এ-তো সব সেদিনের ছবি!
পাতায় পাতায় তার ছায়া আছে ধরা
আনবো ফিরিয়ে তার একে একে সবই,
আবৃত্তি, গান আর কবিতার মেলা
আড্ডা-কথায় ফেরে, মোর ছেলেবেলা।’ 

এই কথাগুলোকে সামনে রেখে, ফেলে আসা শৈশবের স্মৃতির বাক্স খুলে, আবার যেন একটু ছুঁয়ে আসা হলো সেই ভালোবাসাময় দিনগুলোকে ‘কথক’ এর অনবদ্য এক উপস্থাপনার মাধ্যমে। ‘কথক’ মেলবোর্ণের বাংলা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক অন্যতম সংগঠন। নিয়মিত বিরতিতে তারা বাংলা ভাষায় উপহার দিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের উপস্থাপনা। এবারেও ছিল না তার ব্যতিক্রম। গতো  ২৯ সেপ্টেম্বর শণিবার বিকেল টি তে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমস্ত দর্শক ফিরে গিয়েছিলেন আরো একটিবার তাদের ফেলে আসা ছেলেবেলায়। স্থান ছিল বরাবরের মতো চেণ্ডলার কম্যুনিটি সেন্টার।
কথকের নিয়মিত শিল্পীদের সাথে সাথে, পরিবেশনা ছিল ছোট ছোট শিশুদের যারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী হিমানী মজুমদারের তত্ত্বাবধানে এইসব ছোট ছোট শিশুদের বাংলায় বিভিন্ন ধরণের উপস্থাপনা ছিল মনোমুগ্ধকর।
অনুষ্ঠানে আরো অংশ নিয়েছেন জাকিরুল হায়দার, হিমানী মজুমদার, রাজিবুল ইসলাম, সাদ গনি , ওয়াজিহ রাজিব, এনি আজিম, মৃণাল কান্তি দাস, ফারাহ রাশিদ, চঞ্চল মন্ডল, আনিকা বিনতে কাশেম, জাহরিন মোর্শেদ, মৌপিয়া ভাদুড়ি , অবন্তী মন্ডল।
যন্ত্রে ছিলেন শাহরিয়ার হাসান, পলাশ দত্ত, মায়াজ রহমান, সাদ গনি, নটরাজ বাবজী।

কথকের এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় আবারো আশা জাগিয়ে রাখলো, বাংলা ভাষা কে হারিয়ে যেতে না দেবার।