রাহুল গোমেজ: সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী ও সুরকার

  •  
  •  
  •  
  •  

 500 views

প্রশান্তিকা রিপোর্ট: রাহুলের গানের সাথে উঠাবসা সেই ছোটকাল থেকেই। প্রথম হাতেখড়ি সঙ্গীত শিল্পী বাবা ও মায়ের কাছে তারপর ছায়ানটে। ‘যদি ডাকো আমায়’ মৌলিক গানের গানচিত্র প্রকাশের পরে আর পেঁছনে তাকাতে হয়নি। তারপরেই এই গানের শিল্পী ও সুরকারকে যেনো খুঁজছে সবাই। যারাই গানটি শুনেছেন তাঁরাই বলছেন- বহুদিন পরে বাংলা গানের যেনো নতুনত্ব পাওয়া গেলো। নিয়মিত ঢাকার একটি গীর্জায় গান করেছেন। কাজ করেছেন ঢাকার একটি এফএম রেডিওতে। নিজে গীটার বাজিয়ে ও গান গেয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও মঞ্চে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
প্রশান্তিকার সঙ্গে তাঁর গান নিয়ে আলাপচারিতায় রয়েছেন সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পী রাহুল গোমেজ।

রাহুল গোমেজ

প্রশান্তিকা: আপনাকে আমরা শিল্পী না সুরকার কোন ক্যাটাগরিতে ফেলবো?
রাহুল:
আমি সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি নিজের গান নিয়ে কাজ করছি। পরিবারের সকলেই গানের সাথে ৮০’র দশক থেকে রয়েছেন। ‘যদি ডাকো আমায়’ আমার গানের প্রথম ভিডিওচিত্র। এর আগেও আমার মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ভিডিওটি বের হওয়ার পরে দারূণ সাড়া পাচ্ছি। দর্শকেরা আমাকে শিল্পী হিসেবেই গ্রহণ করেছেন- আমার বিশ্বাস।

প্রশান্তিকা: গানের হাতেখড়ি কিভাবে হয়েছে?
রাহুল:
আমার মা স্নেহা রোজারিও বাংলাদেশ টেলিভিশনের নজরুল সংগীতের শিল্পী এবং বাবা পংকজ গোমেজ আধুনিক গানের শিল্পী। বাসায় গানের চর্চা দেখেছি সেই ছোটকাল থেকেই। তাই কানটা সেভাবেই তৈরি হয়েছে।
বাবা ও মা ছাড়াও আমার গুরু- মিতা হক, অনুপ বড়ুয়া (ক্লাসিক্যাল) ও দীপক বোস। তাদের কাছে আমার মূলত সংগীতের হাতেখড়ি। ২০০০ সাল থেকে ২০১১ এই ১১ বছর ছায়ানটে ছিলাম রবীন্দ্র সংগীত বিভাগে। রিসার্চ করেছি বহুকাল ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনে।

প্রশান্তিকা: যদি ডাকো আমায় গানটি শুনলেই মনে হয় অনেক যত্ন করে লেখা হয়েছে এবং তারপর সুরারোপ করেছেন। আর গায়কীও অসাধারণ। গানটি সম্পর্কে জানতে চাই।
রাহুল:
অশেষ ধন্যবাদ। জি গানটি তৈরিতে আমরা কোন তাড়াহুড়ো করিনি। গানটির কথা লিখেছেন পংকজ ও বাবলু। মাহমুদ সানীর সংগীতায়োজনে সুর করেছি আমি নিজেই।
রেকর্ডিংয়ের পরে গানটি শুনে সংশ্লিষ্ট সকলের খুব ভালো লেগেছিলো। এবং গানটি প্রকাশের পরে দর্শকদের প্রচুর ভালোবাসা পাচ্ছি। এর আগে ২০১৩ সালে একটি মিক্সড অ্যালবামে আমার প্রথম মৌলিক গান ‘নীল আঁচলে’ প্রকাশ পায়। ওই গানটিও শ্রোতাদের বেশ প্রশংসা পেয়েছিলো। আসলে দর্শক শ্রোতাদের অনুপ্রেরনায় নিয়মিত নতুন গান উপহার দেবার ইচ্ছে পোষণ করি।

প্রশান্তিকা: আপনি তো টেলিভিশনের গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন?
রাহুল:
জি। চ্যানেল নাইনের ‘পাওয়ার ভয়েজ’ প্রতিযোগিতার সেরা ১০-এ ছিলাম আমি। মূলত: সেখান থেকেই আমাকে শিল্পী হিসেবে অনেকেই চেনেন। আর এরকম প্লাটফর্মে থাকতে পারলে বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে গ্রুমিং হয়। তাতে গান গাওয়ার একটি ভ্যারিয়েশন তৈরি হয়, আমারও হয়েছে।

বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে রাহুল গোমেজের পরিবেশনা।

প্রশান্তিকা: ভবিষ্যতে কি আধুনিক গানই করতে চান নাকি অন্য ধারার কোন গানও ?
রাহুল:
ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে পঞ্চকবিদের গান নিয়ে কিছু করা। তাদের অসাধারণ গানগুলো নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরার একটা স্বপ্ন রয়েছে। তাছাড়া নিজের মৌলিক গানগুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

প্রশান্তিকা: আমাদের কে সময় দেবার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে আপনার সাফল্য কামনা করছি।
রাহুল:
প্রশান্তিকা অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত হলেও অনলাইন হওয়ায় আমরা বাংলাদেশ থেকেও নিয়মিত পড়ে থাকি। আমার প্রত্যাশা প্রশান্তিকার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সহ বহির্বিশ্বে বাঙালিরা আমার গানের সাথে পরিচিত হবেন এবং আরও উৎসাহ দিয়ে যাবেন। আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আমার জন্য দোয়া করবেন।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments