রেমিয়ানস অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক পুনর্মিলনী ২০১৯

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রশান্তিকা ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরাত ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন রেমিয়ানস অস্ট্রেলিয়া ৮ম বছরের মতন তাঁদের বার্ষিক পুনর্মিলনী আয়োজন করেছিল গত ১ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার। বরাবরের মতই উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল এই সংগঠন এবারের আয়োজনে নতুনত্ব এনে তাঁদের সাফল্যের পাতায় আরেকটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। রেমিয়ানস পরিবারের জন্য তাঁদের এবারের আয়োজন ছিল নৌ-বিহার। সচরাচর সিডনি হারবারকে ঘিরে যে বাণিজ্যিক নৌ-বিহার প্রচলিত আছে তন্মধ্যে না গিয়ে তারা নিউ সাউথ ওয়েলসের নিপেন রিভার ভ্রমণ করেছে। অপূর্ব নদীর কূল ঘেঁষে নীল পাহাড়কে (BLUE MOUNTAIN) সাথে নিয়ে স্মৃতির দোলায় ভেসে তাঁদের পুনর্মিলনীকে করেছে স্বার্থক। দিনের আলোয় শুরু করে রাতের আঁধারির রহস্যময় আকাশ ভরা তারার সাথে মিতালি করে আতশবাজিতে মিলেমিশে শেষ করেছে এ যাবৎকালের সবচেয়ে আনন্দদায়ী আয়োজনকে। অস্ট্রেলিয়ার অন্য শহরে বসবাসকারী রেমিয়ানরা এসে এই আয়োজনকে রাঙিয়ে দিয়েছিল।

অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে বেশির ভাগ সদস্য নিপেন নদী সংলগ্ন পার্কে জমায়েত হয় বিকাল ৪টার পর থেকেই। সেখানে চা-চক্র ও প্রাণ খোলা আড্ডার পর তাঁদের নৌ-বিহার শুরু হয় বিকেল ৬ ঘটিকায়। প্রেসিডেন্ট ডাঃ একরাম চৌধুরী শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে সবাইকে স্বাগত জানান। তিনি পৃষ্ঠপোষক, আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এমন একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মার্জিত আয়োজনের জন্য। রেমিয়ান পরিবারের জন্য আগামীতে আরো বড় আকারের আয়োজনের ঘোষণাও তিনি দিয়ে রাখেন উপস্থিত সকলের সামনে। বক্তব্য শেষে রেমিয়ানস অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক ম্যাগাজিন “সন্দীপ্ত” বন্টন করে দেন উপস্থিত রেমিয়ানদের। সেক্রেটারি জেনারেল পলাশ বসাক তাঁর বক্তব্যে সার্বিক আয়োজনকে সাফল্যমন্ডিত করায় নেপথ্যের কুশীলবদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি আগের রাতে বাংলাদেশে অপঘাতে নিহত সতীর্থ রেমিয়ান আবরারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং এই অকাল মৃত্যুর সুষ্ঠূ তদন্ত দাবী করে দোষীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানান। এরপর জ্যেষ্ঠ রেমিয়ান ও সংগঠনের ভূত-পূর্ব প্রেসিডেন্ট ডাঃ হালিম চৌধুরী রেমিয়ানস অস্ট্রেলিয়ার অফিসিয়াল ওয়েব সাইট উম্মুক্ত করেন সকলের তরে।

ডিনারের পর রেমিয়ানদের আনন্দ সংগীত পরিবেশনায় সন্ধ্যাটি হয়ে উঠেছিল আকর্ষণীয়। রেমিয়ান পলাশ, রাশেদ, তমাল, মাসুম, মুন, শুভজিৎ ও নাহিদ কামাল রূপসা সুরের মূর্ছনায় আবিষ্ট করে রাখেন সকলকে। নেচে গেয়ে হৈ হুল্লোড়ে কখন যে সময় গড়িয়ে গভীর রাত হয়ে গিয়েছিল তা রেমিয়ানরা ঠাহর করে উঠতে পারেনি। এক পর্যায়ে নিপেন বেল্লা ক্রুজ ঘাটে নোঙর ফেলে। সাঙ্গ হয় উদ্দাম ৮ ঘন্টার মহাযজ্ঞ। শিস দিতে দিতে রেমিয়ানরা ফিরে যায় আপন ডেরায় আবার মিলবে এই প্রতিশ্রূতি রেখে। ভাতৃত্ব আর সৌহার্দ্যের অনন্য নিদর্শন স্থাপন করার শপথ উচ্চারিত হয় সকলের চোখের তারায়। একবারে শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট সাজ্জাদ সিদ্দিকী সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ও অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা করেন সিডনির প্রখ্যাত ব্যবস্থাপক রেমিয়ান ফয়সাল হোসাইন আর উপস্থাপনা করেন সপ্রতিভ রেমিয়ান শুভজিৎ ভৌমিক।