ল্যাকেম্বায় বাঙ্গালী রেঁস্তোরায় যোগ হলো রেইনফরেস্ট ফিউশন 

রেইনফরেস্টে ভোজন রসিকদের ভীড়

আরিফুর রহমান: শুধু বাঙ্গালী কেনো সব মানুষের চিরায়ত স্বভাব ফিউশন বা মিথস্ক্রিয়া। সেটা স্বভাবে, গানে, কবিতায়, গল্পে বা কোথায় নয়? আমাদের চালচলনে একটু সাহেবী চল না থাকলে যেমন চলেনা তেমনি খাদ্য খাবারে একটু মিশেল বা বৈচিত্র্য না হলে চলবে কেনো ! আর সেই বৈচিত্র্যের ফিউশন নিয়ে সিডনির বাঙ্গালী পাড়ায় সম্প্রতি চালু হয়েছে  রেইনফরেস্ট ফিউশন। সিডনিবাসির বাঙালিদের কাছে এখন বেড়ানো ও আড্ডার স্থান হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নজরকাড়া সব আধুনিক রেঁস্তোরা। সেই রকমই একটা দারুন রেঁস্তোরা গত ১৫ জানুয়ারীতে উদ্বোধন হলো। যার নাম Rain Forest Fusion; নামের মধ্যেই ফিউশন শব্দটি রয়েছে; খাবারের বৈচিত্র্যে যে ফিউশন থাকবে তা বলাবাহুল্য। আর সেকারনেই বোধহয় শুরু থেকেই প্রতিদিন এখানে ভোজন রসিকদের ভীর দেখা যাচ্ছে।

রেইনফরেস্টের সাজসজ্জা দেখে মনে হয়না এটি শুধু একটি রেস্টুরেন্ট।  এটা যেন প্রকৃতির ছোয়ায় অলংকৃত, যেনো খোলা আকাশের নিচে সবুজ পরিবেষ্ঠিত আড্ডার স্থল। মিরাজ হোসেন, তরুন মহান্তো, মুশফিকুল হাসান সুমন এই তিনজন মিলে শুরু করলেন রেইন ফরেস্ট ফিউশন। মিরাজ হোসেন বললেন, যখন তিনি রেইন ফরেস্ট নাম করণ করেন তখনই তার মাথায় আইডিয়া আসে বাঙালী খাবারের পাশাপাশি মেক্সিকান ফুড এবং তিনি মনে করেন, এর  ফলে বাঙালী কমিউনিটি অন্য টাইপের খাবারের স্বাদ পাবে। তাছাড়া এখানকার যে সব বাঙালী প্রজন্ম গড়ে উঠেছে যারা বাঙালী খাবার খেতে আপত্তি করে তাদেরকে নিয়ে যেতে হয় যেতে হয় লেবানিস বা মধ্য প্রাচ্যের খাবারের রেস্টুরেন্টে। তাদের কথা চিন্তা করেই রেইন ফরেস্টে মেক্সিকান ও ইন্ডিয়ান ফিউশনের আবির্ভাব হয়েছে।


মিরাজ হোসেন

মিরাজ হোসেন প্রশান্তিকাকে বলেন, তিনি রেঁস্তোরা ব্যবসায় নতুন নন। ২০১৫ সাল থেকে মিরানডা ওয়েস্টফিল্ডের ফুডকোর্টে লি-র্যাপ নামে একটি নামকরা ফ্রান্সাইস দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেন। ল্যাকেম্বায় গ্রামীন চটপটির জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের সাথেও তার অংশীদারিত্ব রয়েছে। ল্যাকেম্বার বাংলাদেশী পরিচালনাধীন রিয়েল এস্টেট রে হোয়াইটের সঙ্গেও তিনি রয়েছেন।

রেইন ফরেস্টের কো পার্টনার: মিরাজ, সুমন ও তরুণ

মিরাজ হোসেন তার গড়ে তোলা রেইনফরেস্টে মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পের মুসতাকিনের কাবাবের আদলে কাবাব চালু করে বাঙালিদের আরও একটা চমক দিতে যাচ্ছেন।পাশাপাশি ঘরোয়ার খিচুরী, নান্না মিয়ার মোরগ পোলাও এবং পুরানো ঢাকার বিরানী তো থাকছেই। রেইনফরেস্টের শেফকে বাংলাদেশ থেকে ট্রেনিং করিয়ে নিয়ে এসেছেন তিনি, এমনকি সকল স্পাইস উৎসস্থল বাংলাদেশ থেকে নিয়ে এসেছেন।

এক্সিকিউটিভ শেফ রনির সঙ্গে টিম

রেইনফরেস্টে সকালের ব্রেকফাস্ট, দুপুরের লান্স এবং ডিনারের ব্যবস্থা থাকছে। আর বিকেলের জন্য থাকবে স্পেশাল মুস্তাকিনের কাবাব।এছাড়া রয়েছে নানান স্বাদের মিষ্টি, পিঁয়াজো, চা ইত্যাদি। রেইনফরেস্ট ফিউশন বাঙ্গালী, অবাঙ্গালী, দেশী ও বিদেশী সকলের প্রিয় রেঁস্তোরা হয়ে উঠুক এই শুভ কামনা আমাদের।