সঙ্গীতের দার্শনিক সুমন চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে । এইচ. এ ববি

  •  
  •  
  •  
  •  

কবে থেকে যে “জননী” ডাকি গানের কোকিল সাবিনা ইয়াসমিনকে। ঠিক মনে নেই। বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের জীবন্ত এ কিংবদন্তী শিল্পীর সাথে সুর তাল লয় ছন্দ মাত্রার বাইরে আমাদের পারস্পরিক গভীর এক বোঝাপড়ার জীবন। শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে দর্শক শ্রোতা যেভাবে চিনেন, আমি তাকে সেই আটপৌরে ধারা থেকে একটু ভিন্ন রকম ভাবে চিনি আজীবনের এক শিশু হিসেবে। আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ আগে যখন তিনি অস্ট্রেলিয়া এলেন আমার কাছে। তখন আমি সিডনি’র প্যারামাটা’তে থাকি। নদীর ধার ঘেঁষেই আমার দুই বেডরুমের এপার্টমেন্ট। বেশ প্রসস্থ লিভিং, বারান্দা সহ গোছানো আমার এপার্টমেন্ট সুখানন্দ ভালোবাসায় উদ্ভাসিত থাকতো মাখামাখি জননী ও আমাদের।

University of Western Sydney,parramatta (Jamesruse drive, victoria road)র ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা,গানে, সুরে পরিচয় হলো আরেক প্রথা ভাঙা গানের দার্শনিক,গীতি কবি, দরাজ কন্ঠের আরেক কিংবদন্তী কলকাতার শিল্পী সুমন চট্টোপাধ্যায়ের সাথে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতার ফাঁকেই গ্রীন রুমে বেশ জমে উঠেছিল আমাদের প্রাণবন্ত আড্ডা। মারাত্মক যুক্তিবাদী, তুখোড় তার্কিক এবং অসম্ভব মানবতাবাদী  জ্ঞান ভাণ্ডার সুমন চট্টোপাধ্যায়ের ভরাট গাম্ভীর্যপুর্ণ কন্ঠের ভক্ত ছিলাম আমি আগে থেকেই। তাঁর কন্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান ভালো লাগতো আলাদা রকম। আর জননী তো সুরের জননীই। আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে সাবিনা ইয়াসমিন ও সুমন চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সম্পুর্ণ আলাদা ঘরানার শিল্পী। তবুও কী জানি, কোন এক অজ্ঞাত দৈব আকর্ষণে সেদিন আনুষ্ঠানিকতার বাইরে ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপনে উদগ্রীব হয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলেন সুমন’জি। জননীও খুব বেশি না ভেবেই সম্মতির কাঁধ ঝাঁকালেন। আয়োজিত সব জন লৌকিকতার বাইরে দু’জনেরই একান্তে বসতে চাইবার আগ্রহ দেখে আমিও বৃদ্ধাঙ্গুল দেখালাম। এই আঙুল অবশ্য ছিল সম্মতি, খুশি ও ইতিবাচক ইঙ্গিতের সাড়া।

প্রখ্যাত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও কবির সুমন।

সেদিনই অনুষ্ঠান শেষে সরাসরি ফেরা আমার বাসায়। চা চক্রের একান্ত আড্ডায় প্রচুর কথা,ভাব বিনিময় হলেও গানের জগতের প্রাণ, এ দুইয়ের মধ্যে গান নিয়ে একটি কথাও আলোচিত হয়নি সেদিন। মধ্যরাত অব্দি চলা গল্প, হাসির আড্ডা শেষে সুমন’জি জানতে চাইলেন, তিনি পরের দিনও আসতে চাইলে আমার কোন অসুবিধা হবে কিনা? আড়চোখে জননীর দিকে তাকালাম। তাঁর শিশুসুলভ হাসির ইশারায় আমিও খুশির ফোয়ারা ছড়িয়ে সুমন’জিকে স্বাগতম ইংগিত দিলাম। বিদায় নিলেন সেবারের মতো।
পরদিন তিনি আমায় কল দিয়ে জানালেন,
“চলো দূরে কোথাও ঘুরে আসি। তবে বাইরের লোকজন যেন না জানতে পায়। অযথা সব ভীড় আর পাবলিক ফটোসেশান এড়িয়ে শুধু তুমি,আমি আর বোষ্টবী। যাবোও কিন্তু তোমার পছন্দের কোন জায়গায়। ঠিক?” হুম..বলে সম্মতি জানালাম।

জননী ও সুমন’জির এমন হঠাৎ পরিকল্পনায় সেদিন কাজে আমাকে sick call দিতে হলো। মনে মনে জায়গা ঠিক করে গাড়ি ভরে গুছিয়ে নিলাম প্রয়োজনীয় সব কিন্তু তাঁদের দু’জনের কাউকেই এ বিষয়ে জানালাম না কিছুই। বহু দেশ ঘোরা এবং দীর্ঘদিন জার্মানির কোলন সিটিতে বসোবাসের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সুমন’জি মোটেই খাবার দাবার নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না। তবে গোপনে আমি সব প্যাক করে গুছিয়ে তাঁদের নিয়ে রওয়ানা দিলাম পাম বীচের উদ্দেশ্যে। সেখানে পৌঁছানোর প্রাক্কালে প্রায় তখন সন্ধ্যা। প্রকৃতির অপার দয়ায় সেদিন ছিল ভরা পুর্ণিমা।প্রশান্ত মহাসাগরের পুর্বাকাশ জুড়ে বিশাল আকৃতির এক অজাগতিক চাঁদের উদয় দেখে আমি তো শুধু বিস্মিতই না, ছিলাম উচ্ছ্বাসে বিহবলও!
এ বীচে প্রবেশের রাস্তাটি ভূখন্ড থেকে সমুদ্র মুখী একেবারে সোজা সাপ্টা লম্বা। দু’পাশে শুধু অথৈ জল। হেলিকপ্টার বা পাখির চোখে দেখলে এ রাস্তার শেষের গোলাকৃতি অংশটি তাল গাছের মতো দেখায়, তাই হয়তো এ বীচের নাম করণ হয়েছে পাম বীচ।
গাড়ির ড্রাইভিং সীটে আমি। পিছনে জননী আর সুমন’জি। চলতি পথে ঝরছিল হাজার কথার ফুলঝুরি। বীচের খুব ঘনিষ্ঠ হতেই হঠাৎ যেন স্তব্ধতা নেমে এলো গাড়ির ভেতরে। কিছুক্ষণ পিছনের সীটে আওয়াজ না পেয়ে, গাড়ির গতি ধীর করে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি, দু’জনেই অবাক স্তব্ধতায় হা.. হয়ে আছেন জল আর আকাশের মাঝে সদ্য ভূমিষ্ঠ চাঁদের যাদুকরী এ ত্রয়ী সম্মিলনের স্বর্গীয় সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে..। আহা কী.. নৈসর্গিক রুপ প্রকৃতির!

পাম বীচের মাথাটি গোলাকৃতির হলেও আকারে কিন্তু মোটেই ছোট না। বেশ কিছু গাড়ি পার্ক করার পরেও অনেকটা জায়গা রয়েছে হাটাহাটি করবার মতো। বৃত্তাকারের এ বীচের প্রান্তসীমা ঘিরে একটি করে গাছ কাঠের বেড়া। তা ডিঙোলেই অসংখ্য পাথরের স্তুপে জলের আছড়ে পড়া উচ্ছলতা।
চারিদিকে কেমন অদ্ভুত স্নিগ্ধতা মাখা, ফুরফুরে বাসন্তি মিষ্টি হাওয়া আর মিহীন ঢেউয়ের এক মাত্রার তালে জলীয় এক স্বর্গীয় শব্দ। একেই বোধয় বলে জলের কলতান। ভুমির সংস্পর্শ হীন চৌ সীমার এই জলের মাঝখান দিয়ে সরু টানা সোজা রাস্তার দু’পাশের সাগর আজ অকারণেই বেশ শান্ত। দিগন্ত জোড়া ছল ছলাৎ জলের উপর লক্ষ কোটি রুপোর কণা ছড়িয়ে দিয়ে এমন বিশাল আকৃতির চাঁদের উদয় আমি এর আগে কখনোই দেখিনি।
গাড়ি থেকে নেমেই তাঁরা দু’জন বেশ আহলাদি শিশুর মতো জলকেলি খেলার উচ্ছাসি ভঙ্গিতে এগিয়ে গেলো সমুদ্র ধারে,জল ছুঁতে। সেই ফাঁকে আমি গাড়ির পিছনের বুট’বনেট খুলে ভেতর থেকে বের করে এনে সাজালাম ফোল্ডিং চেয়ার টেবিল। হালকা কিছু finger food,  দুটো মাত্র flute glass আর আইস বাকেটে খানিক কাঁত করে রাখলাম french Champagne এর বোতল। তাদের জন্য আমার পুর্ব পরিকল্পনার সব আয়োজন শেষ করে দূর থেকে দেখছিলাম এক জোড়া অবোধ কিশোর কিশোরীর অনুসন্ধিৎসু প্রকৃতি আবিষ্কারের দুরন্ত কৌতূহল। খানিক গলা চড়িয়ে ডেকে তাঁদেরকে জানান দিলাম..
“জননী…এই যে রইলো প্রয়োজনীয় সব কিছু। আশপাশে আপাতত কোন জন কোলাহল নেই। ছেড়ে দিয়ে গেলাম আপনাদের। উপভোগ করুন, এই নির্জনতা আর প্রকৃতির রুপ। আমি কিন্তু ফিরবো ঘন্টা দুয়েক পর। প্রয়োজনে কল করবেন,প্লিজ।”
বলেই জনমানবহীন সমুদ্র বক্ষের সেই খাঁচায় দুই শিশুকে ছেড়ে দিয়ে আমি পিছু চললাম।
এখানে প্রবেশ ও বের হবার যেহেতু একটাই রাস্তা,তাই প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে এসে পাহারায় থাকলাম বহিরাগত কোন লোক এ পথে ঢুকে কিনা।
নাহ, তেমন কেউ এলোনা।
বিয়ের প্রথম ফুলসজ্জার রাতের মতো আজও যেন তাঁদের প্রথম অভিসারের এই ক্ষণটিকেও রাঙিয়ে তুলেছে প্রকৃতি তাঁর অপুর্ব রুপের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মোহময়তায়!

আড়াই ঘন্টা কেটে গেলো। কোন সাড়া না পেয়ে কল দিয়ে জানতে চাই,তারা ঠিক আছে কিনা? জননী’ শিশু সুলভ উচ্ছাসে আনন্দ আবেগে প্রায় যেন চিৎকারের স্বরে বললেন, “ওরে বাপ’রে…! এই মুহুর্তে আমার কিচ্ছু বলার নেই। এই নে,  সুমনের সাথে কথা বল”।
সুমন’জি ভারি কন্ঠের আওয়াজ ছেড়ে বললেন।
“একি অপরুপ এক জায়গায় এনে ছেড়ে দিলি রে বাপ, লা জাওয়াব”! জিজ্ঞেস করলাম, আজ কি তাহলে থেকে যাবেন এখানে? থাকুন। আমি আছি আশপাশেই। কিছু খাবার আর পানীয় রেখে এসেছিলাম। খেয়েছেন তো? উত্তরে তিনি বললেন।
“ওহ..হো. তোমার তো দেখি একেবারে রাজকীয় আয়োজন। আমি তো এমন কিছু আশাই করিনি। হুম.. তোমার জননী ও আমি, আমরা খেয়ে নিয়েছি। সত্যিই, সম্ভব হলে এখানে থেকেই যেতাম। লোকালয়ে ফেরার একদম ইচ্ছে জাগে না, রে। আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি ঘন্টা দেড়েক পরে আসো।”
কল দিয়েন প্লিজ, বলে রেখে দিলাম।

যখন তাদের তুলতে আসা। ততক্ষণে বিশাল রুপোর থালা পুর্ণিমার চাঁদ প্রায় মধ্যাকাশ ছোঁয় ছোঁয়।জোছনা প্লাবিত এ জলদির বুকে নিশ্চুপ,রোমাঞ্চ আর প্রকৃতির উন্মাদনায় তন্ময় এক জোড়া শিশুকে আবিস্কার করলাম খানিক অচেনা দেবশিশুর মতো। কী..নিবিড় শান্ত সুখী, আহলাদি মুগ্ধতায় তৃপ্ত দু’জন চুপচাপ বসে ছিলেন গাছের গুঁড়ির অনুচ্চ বেঁড়িতে। আমাকে দেখে এক সঙ্গেই যেন বলে উঠলেন,
“দেখো.. এতো বড় চাঁদ এর আগে,দেখেছো কখনো? এমন ভরা জোছনায় জলের সাথে হাওয়াও কেমন খেলছে,বাসন্তি উৎসবি সৌরভে! অপার্থিব,তাই না?”

গোছগাছ করে তাঁদের নিয়ে এবার রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। পথে কথাপাগল সুমন’জি কেমন চুপচাপ মন রাখাপ করা শিশুর মতো অভিমানী নিরবতায় যেন ডুবে রইলেন বুঁদ হয়ে।
বাসায় এসে সেদিন আর তিনি ফিরলেন না এবং পরদিন তার আমন্ত্রকদের’কে জানিয়ে দিলেন,
“ভাই,তোমাদের অনুষ্ঠানাদি তো প্রায় শেষই। এখন এই ক’টা দিন যদি আমি আমার মতো করে থাকি, তোমাদের তো কোন ক্ষতি নেই,কি বলো?
পরদিন বিকেলে গিয়ে তার নিজস্ব ব্যাগ স্যুটকেস গুছিয়ে চলে এলেন আমার এখানে। দুই বেড রুমের এপার্টমেন্টে আমরা বেশ আরাম বিলাসেই কাটিয়ে দিচ্ছি সময় গুলো। প্রচুর কল আসতে লাগলো সুমন চট্টোপাধ্যায়কে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াবার। তিনি বিনয়ের সাথেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন সব। নিজেকে আপাতত বৈষ্ণব ভেবে আদর করে সাবিনা ইয়াসমিনকে নাম দিলেন “বোষ্টবী”! পরবর্তীতে এ নামটাই তাঁর কাছে ডাক নামের খেতাম পেয়ে যায়।

এ সময় কালের মধ্যেই পর পর তেরোটি গানের জন্ম হলো আমার বিছানায়। সুমন’জি প্রায়ই বিছানায় শুয়ে-বসে লিখতেন বেশিরভাগ সময়। কখনোই তাকে চেয়ার টেবিল আঁকড়ে বসে লিখতে দেখিনি।
এই তেরোটি গান শুধু মাত্র সাবিনা ইয়াসমিনকে ভেবে এবং তাঁর উপযোগী করে সুর বাঁধলেন সুমন চট্টোপাধ্যায়। যেগুলো কলকাতা ফিরে গিয়ে তিনি নিজেই কম্পোজ করলেন নিজের স্টুডিওতে।
সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গীত জীবনের বেশ বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ জুড়েই দুলাভাই খাঁন আতাউর প্রভাব। সম্পুর্ণ নতুন আঙ্গিকে, নতুন ঘরানায় এবার সংযোজন হলো সুমন চট্টোপাধ্যায়ের।
প্রথম সেই তেরোটি গান নিয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের একক এলবাম ক্যাসেট রুপে প্রকাশিত হলো “খুঁজেছি তোমায়” নামে। যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার খালিদ মাহমুদ মিঠু’র ক্যামেরায় “সুরের কবিতা” সশিরোনামে মিউজিক ভিডিও হয়ে ডিভিডিতে প্রকাশিত হয়েছিল।

বাসায় এক বিকেলের অলস আড্ডায় কথা হচ্ছিল এ সম্পর্কের শেষ গন্তব্য নিয়ে। এ কি শুধুই কৌতূহল নাকি পরিনত ভালোবাসার পুর্ণ প্রকাশ? এখান থেকে বের হলেই তো মিডিয়ায় চাউর হবে সুমন-সাবিনা’র গোপন অভিসারের রসাক্ত রসায়ন গল্প। তখন কিভাবে সামাল দেয়া হবে? এ প্রশ্নে সুমন’জির সাফ জবাব। নিকুচি করি! এখানে লুকোচুরির কি আছে?  সরাসরি বিয়ে করবো। কী বলিস.. বোষ্টবী, তুই রাজি না?
লাজুক কিশোরীর মতো দাঁতে জিব কেটে সাবিনা ইয়াসমিন বললেন, হায় আল্লাহ! বলে কি,এই বয়সে আবার বিয়ে? এক ঝটকায় সে কথা উড়িয়ে দিয়ে সুমন’জি বোঝালেন,
“শোন, দেখ.. আমাদের এই পরিনত বয়সের প্রণয় যদি পরিণয় পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে ঈশ্বরের কাছ থেকে আমরা একেবারে রেডিমেড পরিনত বয়সের একটা বাচ্চাও উপহার পাচ্ছি। আর সে হলো আমাদের বাবু।”
সেই থেকেই আমি সুমন’জিকে “বাবাই” বলে ডেকে অভ্যস্ত। অদৃশ্য সম্পর্কের মায়াবী সুঁতোয় বাঁধা সেই আমাদের সরল সমিকরণে আঁকা অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প,অনেক অভিজ্ঞতা জমাট বেঁধে আছে সময়ের পরতে।
আজ আমার বাবাই’র জন্মদিন।

চলবে…

এইচ.এ ববি
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।
১৬ মার্চ ২০২১।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments