‘সঞ্জীবদা হিন্দু, না মুসলমান?’ -প্রতীক ইজাজ

  •  
  •  
  •  
  •  
প্রতীক ইজাজ

 

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার বাবরি মসজিদের কথা মনে আছে? ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও এর সহযোগী সংগঠনের হিন্দু কর্মীরা মসজিদটি ধ্বংস করেছিল। তাদের দাবি ছিল, বাবরি মসজিদ যেখানে, সেটা রামের জন্মভূমির মধ্যে পড়েছে। তারা সেখানে মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মান করতে চায়। সে জন্যেই সেদিন রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে সহিংস নেতাকর্মী হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ভারতের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধে। সে দাঙ্গা কয়েকমাস ধরে চলে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মানুষও।

আমরা শুধু তাকে ‘সঞ্জীবদাই’ বলে জানতাম

সে ঘটনার রেশ এসে পড়ে আমাদের মফস্বল শহরেও। বগুড়ার দক্ষিণ মালতীনগরে আমাদের বাসা। পাশে করতোয়া নদী। নদী ঘেষে বেশ পুরনো এক শ্মশান। শ্মশানে রাধা গোবিন্দ মন্দির, শিব মন্দির, কালি মন্দির, শীতলা মন্দির, ও লোকনাথ মন্দির। শবদেহ পোড়াতে বহু পুরাতন চুল্লি। শ্মশান থেকে লাল ইটের ঘাট নেমে গেছে করতোয়ার জলে। জলের নিচে সিড়ির কয়েক ধাপ। বর্ষায় যখন উথলে ওঠে নদী, তোর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে ঘাটের গোড়ায়। বিকেলে দুপুরে আমরা ওই সিঁড়িতে দল বেধে বসে থাকতাম। পায়ের সামনে খেলতো জল, চঞ্চল ঢেউ।

ওই শ্মশানে একটা বটগাছও ছিল। প্রাচীন বটগাছ। আমরা ছোটবেলায় শুনতাম, যে দেহ পাপের, পোড়ার সময় সে দেহ ওই গাছে লাফ দিয়ে ওঠে। ওই গাছে দুষ্ট জ্বীন ভুত আছে। বড় হয়ে ওই গাছের নিচে আমাদের বহু সময় কেটেছে আড্ডায়। ভর দূপুরে, পাশ দিয়েই বয়ে যাওয়া করতোয়া, চারপাশে সুনসান ধু ধু, আমরা ওই গাছের ছায়ায় শুয়ে বসে আছি। কাছে দূরে পাখি ডাকছে। ঝিম দুপুর। ভাবা যায়!

এই ঘাট, এই মন্দির, নানাভাবে প্রকরণে মিশে আছে আমাদের জীবনের সঙ্গে। ‘হরিবোল’ কীর্তনের ধ্বনি দিতে দিতে বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যখন হিন্দুরা এগিয়ে যেত, আমরা ছেলেপুলের দল বাসার গেট খুলে সড়কে গিয়ে দাঁড়াতাম। যতদুর চোখ যায়, দেখতাম। ছবি মিলিয়ে গেলে দুর থেকে কেবলই কানে আসতো কাসার শব্দ. হরিবোল ধ্বনি। আমরা মন খারাপ নিয়ে বাসায় ফিরতাম। বাসার দেয়ালের ওপর দিয়ে শ্মশান দেখা যায়। আমরা সেদিকে তাকিয়ে থাকতাম। শবদেহ পুড়ছে। আগুন জ্বলছে। কীর্তন হচ্ছে। শব্দ শোক আলোয় জাগছে রাত, চারপাশ, দূর লোকালয়, মানুষ।

উত্তপ্ত ভোলা

ভোলার ঘটনায় আমার কেবলই সেই শ্মশান, বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার কথা মনে পড়ছে। বগুড়া শহরেও এ নিয়ে তখন চরম উত্তেজনা। নানা গল্প গুজব। মুসলমানরা এখানেও মন্দির ভেঙ্গে ফেলবে। হিন্দুদের ওপর হামলা করবে। এমনতর নানা কথা ভাসছে বাতাসে। আমরা তখন তুখোড় সংস্কৃতিকর্মী। পাড়া থেকে শহর, সর্বত্র আমরা। অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে আমরা হিন্দুদের মন্দির শ্মশান পাহাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। বেশ মনে আছে, তখন পালাক্রমে বেশ কয়েকদিন ওই শ্মশান ঘাট পাহাড়া দিয়েছি। লোকজনকে বুঝিয়েছি। অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা প্রচার করেছি। শেষতক ওখানে, এমনকি বগুড়াতেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেনি। আমরা সংহিত ছিলাম। জাতিভেদে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট করতে পারেনি কেউ।

আমাদের মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ফেসবুকে এক কটুক্তিকে ঘিরে, গত ২০ অক্টোবর রোববার যে ঘটনা ভোলার বোরহানুদ্দিন উপজেলায় ঘটে গেল, সেটা অনাকাঙ্খিত, অনভিপ্রেত, দুঃখজনক। বারবার এসব ঘটনা সত্যিই বেদনার। কারণ সময় বদলেছে। তথ্যের দ্বার খুলে গেছে। শানিত মুক্ত হয়েছে মানুষের বোধ বিবেচনা। ধর্মের প্রতি মানুষের পড়ালেখা বেড়েছে। অন্ধকার কুসংস্কার কেটেছে। নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা সহানুভুতি জন্ম নিয়েছে। সামান্য কোন তথ্য বা গুজবে, কান দেওয়ার মতো সময় ও পরিস্থিতি এখন নেই।

তা হলে ভোলায় কেন এমনটা হলো?

গত কয়েকদিনে খোঁজ নিয়ে এর নেপথ্যে নানা কারণ ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে। এর সঙ্গে সাধারণ ধর্মপ্রিয় ও উগ্রপন্থি ধার্মিকদের অনুভুতির বিষয়টি যেমন জড়িত; তেমনি সরকার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির উস্কানির তথ্যও আসছে। এমনকি একই রাজনৈতিক দলের পক্ষ-বিপক্ষ অংশের উস্কানির কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে কে বা কারা সেদিনের সমাবেশে যোগ দিতে সাধারণ মুসলমানদের উদ্ধুদ্ধ করলো, মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় হাতে লেখা চিঠি পাঠালো, মুরব্বিদের সম্মিলিত সমাধান অবজ্ঞা করে পুলিশকে মারলো, পুলিশের সঙ্গে গায়ে পড়ে সংঘর্ষ বাঁধালো, নিহত চারজনের মধ্যে দু’জনের মাথা থেতলালো কেন- এসব প্রশ্নের সমাধান প্রয়োজন।

২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর- ২০ অক্টোবর ২০১৯। কক্সবাজারের রামু থেকে ভোলার বোরহানুদ্দিন। গত আট বছরে দেশে এমন বড় পাঁচটা ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার উৎস ফেসবুকে কোন মন্তব্য অথবা ছবি। পরে সেসব ছবি বা মন্তব্য মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেছে বড় ধরণের ক্ষতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছে অন্য কারো ফেসবুকের আইডি হ্যাক করে। এডিট করে ছবি দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা হয়েছে। সবগুলো ঘটনাই ঘটেছে একই পদ্ধতিতে ও ছকে। এসব ভুয়া খবরের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম, ইসলামের ধর্মগ্রন্থ কোরআন অথবা নবীকে অবমাননা করা হয়েছে। পোস্ট করা হয়েছে ইসলাম বিদ্বেষী ছবি।

ভোলায়ও তেমনটাই ঘটলো। ১৮ অক্টোবর রাতে শুভ নামের এক হিন্দু ছেলের ফেসবুক থেকে কে বা কারা মহানবীকে কটুক্তি করে একটি স্ট্যাটাস দেয়। পরে সেটির স্ক্রিন শট দ্রুত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তা দেখতে পেয়ে সে রাতেই স্থানীয় থানায় যায় ছেলেটি। পুলিশকে তার আইডি হ্যাক হয়েছে বলে জানান। জিডি করেন। পুলিশ অনুসন্ধানে নামে। পরে আইডি হ্যাক, ওই স্ট্যাটাস লিখা ও স্ক্রিণশট দিয়ে প্রচারের সন্দেহে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।

ততক্ষণে খবরটি কিছুটা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে বৈঠক করেন। আইডি হ্যাক করে কে বা কারা অশুভ লক্ষ্যে এসব ছড়াচ্ছেন, তাও বলে। এমনকি এ নিয়ে কোন সভা সমাবেশ না করার অনুরোধ জানান। সমাধানও হয়েছিল। শনিবার সভা সমাবেশ হয় না। কিন্তু পরদিন রোববার হঠাৎ সভা-সমাবেশ ডেকে বসে ‘তৌহিদী জনতা’ নামে একটি সংগঠন। স্থানীয় মসজিদের মুরব্বিদের নিয়ে সেটারও সমাধান করেছিল পুলিশ। সকাল সকাল দোয়া দরুদ পড়েই শেষ করেছিল কর্মসূচি।

তবুও শেষরক্ষা হলো না। কোত্থেকে কয়েকটা মিছিল এসে পন্ড করে দেয় সব। পুলিশের সঙ্গে গায়ে পড়ে সংঘর্ষ বাধায়। চারজনের প্রাণ যায়। সংঘর্ষ শেষে একদল লোক এসে ভাওয়াল বাড়িতে ও মন্দিরে হামলা চালায়। এসময় মন্দির সহ বেশ কয়েকটি ঘর ভাংচুর করে। উত্তেজনা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। মানুষ আতঙ্কিতবোধ করে।

ভোলার মতো বিগত বছরগুলোর অন্য ঘটনাগুলোও ছিল একই ছকে, একই পদ্ধতিতে। রামুর ঘটনায় যে বৌদ্ধ তরুণের ফেসবুক ব্যবহার করা হয়েছে, পরে ওই নামে কারো খোঁজই মেলেনি।
ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রসরাজ নামে যে ব্যক্তির ফেসবুক ব্যবহার করে ইসলাম বিদ্বেষী ছবি পোস্ট করা হয়েছিল, সে রসরাজ ফেইসবুক চালাতে জানতেন না। পাসওয়ার্ড কাকে বলে সে নিয়েও তার কোন ধারনা ছিল না। সাম্প্রদায়িক হামলার পর ওই পোষ্ট আর পাওয়া যায়নি।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহানবীকে অবমাননা করে যে ব্যক্তির ফেসবুক থেকে পোস্ট দেওয়া হয়েছিল, তার গঙ্গাচড়ায় বাড়ি হলেও তিনি থাকতেন নারায়নগঞ্জে এবং ওইদিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
আর সিলেটের ওসমানীনগরেও মূল সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস। সেখানে সনাতন ধর্মের এক নারীর মৃত্যুর পর সৎকার নিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের কয়েক ব্যক্তির মধ্যে মত বিরোধ হয়। পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির নামে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলে এমন কিছু পোস্ট দেয়া হয় যা নিয়ে মুসলিমদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ শুরু করে। এর জের ধরে ইদের নামাজের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে।

আমাদের উচিত ভোলার গুজবে কান না দেওয়া। কেননা কে বা কারা এক হিন্দু ছেলের আইডি হ্যাক করে উদ্দেশ্যমুলকভাবে সেখানে আমাদের মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটুক্তি করেছে। এর মধ্য দিয়ে ওই গোষ্ঠী শান্তির ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছে। আমাদের হিন্দু-মুসলমানের প্রাচীন ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছে।

আমি নিশ্চিত, এটা হিন্দুদের কেউ করেননি। করতে পারেন না। কারণ এখানে এদেশে এখনো হিন্দু মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি সংহতি রয়েছে। পরস্পর পরস্পরকে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে ভালবাসেন, শ্রদ্ধা করেন।

কোন প্রকৃত মুসলমানও করেননি। কোন ধর্মপ্রিয় মানুষ, যারা প্রকৃত আল্লাহকে ভালবাসেন, তার ইবাদত করেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নবী হিসেবে মানেন, তারা কখনোই এটা করবেন না। করতে পারেন না।

এটা করেছেন তারাই, যাদের কাছে ধর্ম উপলক্ষ্য মাত্র। যারা ধর্মকে ব্যবহার করেন রাজনীতির খুটি হিসেবে, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন, তারাই এটা করেছেন। ওদের আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধান মুখ্য নয়। ধর্মকে তারা সেভাবে মানেন না। এরা ধর্মকে ব্যবহার করে এখানে অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি সংহতি বিনষ্ট করতে। এরা খুন রক্ত ভালবাসে। মানুষ না, মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব ওদের কাম্য নয়।

মনে রাখবেন, রক্তপাত কোন সমাধান নয়। বিশ্বের বহু দেশে ধর্মে ধর্মে সংঘাতের কারণেই শান্তি নেই। সুখ নেই। চরম অনিরাপত্তা নিয়ে সেখানে জন্ম নিচ্ছে মানুষ। অসহায় বেঁচে থাকছে।

এখানে এই বাংলাদেশে আমাদের মধ্যে জাতপাতের ভেদ নেই। এখানে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। দূর্গাপূজায় যেমন আমরা মুসলমানরা আমন্ত্রিত হই, শারদীয় উৎসবে অংশ নেই; তেমনি ওরাও আমাদের ঈদ উৎসবে অংশ নেন। এখানে মানুষে মানুষে কল্যানই মুখ্য।

আমার একটা ঘটনার কথা মনে পড়ছে। সঞ্জীব’দা মারা গেছেন। সঞ্জীব চৌধুরী। সাংবাদিক, সঙ্গীতশিল্পী ও ব্যান্ডদল দলছুটের প্রতিষ্ঠাতা। আমরা ভোরের কাগজে একসাথে কাজ করেছি। সঞ্জীবদা ছিলেন ফিচার সম্পাদক। মেলা পাতা দেখতেন। আমি ছিলাম প্রদায়ক। মেলায় লিখতাম। কত আড্ডা, সময় সঞ্জীবদার সঙ্গে। কত স্মৃতি, গল্প। কত রাত তার সঙ্গে পথেঘাটে, কত হইহুল্লোড়।

শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনে সঞ্জীবদার মরদেহ আনা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে। আমি আর রাসেল ভাই (আবু হেনা রাসেল। আমরা ভোরের কাগজে একসাথে কাজ করতাম) যাচ্ছিলাম সঞ্জীবদাকে শেষবারের মতো দেখতে, রাসেল ভাইয়ের মোটর সাইকেলে। রাজারবাগ থানার সামনের রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ রাসেল ভাই প্রশ্ন করলেন: প্রতীক, সঞ্জীবদা হিন্দু, না মুসলমান?

এমন প্রশ্নে আমি হকচকিয়ে গেলাম। সব শুন্য শুন্য লাগলো। মাথায় কিছুই আসছে না। প্রশ্নটা দ্রিম দ্রিম করে পেটাতে লাগলো মস্কিষ্কে। রাস্তা পার হচ্ছি। সময় যাচ্ছে। উত্তর মিলছে না। উত্তরটা আমারও জানা নেই। কোনদিন দরকার পড়েনি। আজ এতবছর সঞ্জীবদার সঙ্গে এত গভীর সম্পর্কের পর এ কেমন প্রশ্ন, আমি যার উত্তর জানি না। কোনদিন এ প্রশ্ন আমাদের মাথায় আসেনি। আমরা শুধু তাকে ‘সঞ্জীবদাই’ বলে জানতাম। আমরা আমাদের স্বজনদের নামটাই শুধু জানি। জাতপাতের ঠিকুঞ্জি করিনি কোনদিন। মোটর সাইকেল তখন শাহবাগে। আমি বললাম: রাসেল ভাই, আমি জানি না। গিয়ে দেখি। মরদেহ কি করে? তখনই বোঝা যাবে।

আজ এতবছর পর, সেই একই উত্তর বারবার মনে পড়ছে, আসলেই আমি জানতাম না রাসেল ভাই, সঞ্জীবদা হিন্দু না মুসলমান ছিলেন। আমরা তো এভাবেই বেড়ে উঠেছি। সবাই একসাথে এক উঠোনে। এ দেশ আমার সবুজ সুখের ঘর। এর উঠোন সবার, সব ধর্মের বর্ণের মানুষের। এখানে এই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে, জাতপাতের ভেদ তুলে, আমাদের বিভাজিত করা যাবে না। আমরা এক, অভিন্ন।

২২ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০১৯
পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা।

প্রতীক ইজাজ
সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতিকর্মী।