নুসরাত হত্যার মামলায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ

  •  
  •  
  •  
  •  

 75 views

বাংলাদেশে ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত বিষয়ক পরিচালক আল মাহমুদ ফয়েজুল কবির বলেছেন, নুসরাত হত্যা মামলার মাস্টারমাইন্ড হলো সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। এবং তার সহযোগী ও দোসররা ঘটনা ঘটিয়েছে তার।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর একটি মাদ্রাসায় নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত খুনিরা ছাড় পাবে না। তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়া একজন মাদ্রাসা ছাত্রীকে একজন অধ্যক্ষের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার মতো জঘন্য ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই।’

৬ই এপ্রিল শনিবার সকালে পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসা ভবনে যায় নুসরাত। বোরকা পরিহিত কয়েকজন নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নুসরাত জাহানের ভাই অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছিলেন নুসরাত এবং সেই ঘটনার জেরে ওই অধ্যক্ষের পক্ষের শিক্ষার্থীরা তার বোনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলছেন, নুসরাত হত্যার সুষ্ঠু বিচারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উপজেলার এক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি সেই শ্লীলতাহানির ঘটনার পর এলাকায় প্রতিবাদ ঠেকাতে সক্রিয় ছিলেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। শুক্রবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে দুটি ইসলামী ছাত্র সংগঠন।

 

 

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments