সময় । এস এম জাকির হোসেন

  •  
  •  
  •  
  •  

ওইখানে ছিল তাঁর ঘর; হ্যা, ওইখানেই।
মাত্র কিছুকাল আগে- কতই বা হবে আর!
এক যুগ কিংবা আরও কিছুটা বেশি;
কিছুই নেই এখন আর- স্রোত আর ঘূর্ণি ছাড়া।
হারিয়েছে যা সময়ের গর্ভে; মনে পড়ে- সব।
ভাঙ্গনের খেলা দেখেছে কত- এ দু’টি চোখ!
একদিন যৌবন ছিল, অমিত শক্তির আধার,
লড়েছে কত! বানের সাথে, ঝড়ের সাথে;
সবকিছুই শুধু স্মৃতি এখন, আরও কত কী!
ওইখানে একটা ঘর ছিল, এক টুকরো খোলা চাতাল-
কচি লাউ-শশা আর গোহালে দুধেল গাই;
বকুল-হাস্নাহেনায় দোলা লাগা সন্ধ্যা প্রহরে
নিতাই গায়েনের দেহতত্বের গান, আহা!
হেলে পড়া নারকেল গাছটায় তরতর করে উঠে যেত
ছেলের ঘরের নাতিটা, এখন সে সাহসী জোয়ান,
তারও নতুন ঘর হয়েছে, অবশ্য এই ভাঙ্গনের কূলে নয়।
ক্ষণে ক্ষণে বুকের ভিতরে টের পায় ঢেউয়ের শব্দ,
কাঁপা কাঁপা পায়ে এসে দাঁড়ায়- ভাঙা পাড়ে।
ওইখানে, ঠিক ওইখানেই ছিল তাঁর ঘর,
ছানি পড়া দু’চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে।
কিছুই নেই এখন আর- ঘর, যৌবন কিংবা সময়!
একদা কেটেছে দিন- সবুজ বৃক্ষের ডালে ডালে,
পাতায় কিংবা ফুলে, ধূসর দৃষ্টি মেলে তাকায়-
পার হয়ে গেছে কত সুদীর্ঘ কাল, একটা জীবন,
এই অন্তিম বেলায়, সময় কেবলই ফুরিয়ে যায়,
সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা করে রাত্রি গড়ায়- নিষ্ঠুর নিয়তি।
কুঁচকে যাওয়া চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে ফেরে-
ফেলে আসা দিন, হারিয়েছে কত সাথীরে!
কেউ কেউ প্রহর গুনছে আজ-  তারই মত;
আলো খোঁজে- উজ্জ্বল আলো; ওখানে তো আলো নেই!
সবকিছু ঝাপসা লাগে, ফ্যাকাসে, থমথমে।
রাত জাগা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো বুঝতে পারে না,
হুক্কা হুয়া শিয়াল ডাকে- দূরে কোথাও,
জানান দেয়- গভীর হয়েছে রাত।
বসন্ত আসে, আবার চলেও যায়, অগোচরে,
বৃষ্টি পড়ার শব্দ কান পেতে শোনে,
আহা! কি সময় ছিল! ভাঁজ পড়া কপালে চিন্তার রেখা-
কখন ডুববে চাঁদ, ফুরাবে সময়, শেষ হবে খেলা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments