সময় নয়, নিজেকে ম্যানেজ করুন

  •  
  •  
  •  
  •  

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে ম্যানেজ করাটাই আসল কথা। পুরো বিষয়টি সেলফ ম্যানেজমেন্ট ছাড়া কিছুই নয়। সময়মতো নিজেকে সামলাতে ২০ পরামর্শ।

১.     নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে। এটা প্রথম ও প্রধান শর্ত।

২.    সময় মেনে চলা শুধু অফিসেই নয়, সারা জীবনের সর্বত্র এর প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবে না। ফলে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া খুব জরুরি। একেবারে শুরুতেই প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা আর ঘুমানোর সময়টা বেঁধে ফেলুন। কোনোভাবেই এর ব্যতিক্রম করবেন না। দু-এক সপ্তাহে বা দু-এক মাসে এ অভ্যাস গড়ে ওঠে না। অবিরাম অনুশীলনে একসময় সফল হওয়া যায়।

৩.    তারপর একে একে খাবারের সময়, অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়, বেড়ানোর সময়, টিভি দেখার সময় ইত্যাদি নির্দিষ্ট করে ফেলুন। তা মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করুন।

৪.    আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ দশ সময় অপচয়কারী বিষয় বা ব্যক্তির নামের তালিকা করুন। এবার এদের নিয়ন্ত্রণ করার অনুশীলন শুরু করুন।

৫.    আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ দশ সময়ের সদ্ব্যবহারকারীর তালিকা করুন। এবার এদের কার্যক্রম খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করুন। এরা কিভাবে সফল হলো?

৬.    সময় উল্লেখ করে কাজের পরিকল্পনা করা একটা খুব ভালো গুণ। সব সময় হয়তো একেবারে ঠিক ঠিক মিলবে না। তবে আপনি আগের চেয়ে সহজেই অনেক সময়ানুবর্তী হতে পারবেন।

৭.    গড়িমসি এড়ানো খুব দরকার। ভালো অভ্যাস গড়ে ওঠার একটা বড় বাধা এই গড়িমসি। প্রথম প্রথম কয়েক দিন খুব রুটিন মেনে চলা, ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ইত্যাদি খুব হয়। তারপর শুরু হয় গড়িমসি। ফলে সাবধান।

৮.    মনোবল, আত্মবিশ্বাস কিংবা জেদ না থাকলে সময়ের কাজ সময়ে করা খুব কঠিন। মাঝে মাঝেই নানা কারণে হাল ছেড়ে দিতে মন চাইবে। কিন্তু মনোবল হারালে চলবে না।

৯.    সময় মেনে চলতে মানসিক শক্তির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাও দরকার। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। কাজে উদ্যম পাবেন।

১০.    ডায়েরি লেখার অভ্যাস থাকলে খুব ভালো। লিখে রাখুন সারা দিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো। কিছুদিন পরেই লিখে ফেলা পৃষ্ঠাগুলো গবেষণার উপাদান হয়ে দাঁড়াবে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে পারবেন, কোথায় কোথায় সময় মেনে চলতে পারেননি, কেন পারেননি?

১১.    গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে মোবাইলের অ্যালার্ম অপশন ব্যবহার করতে পারেন। এতে ভুলে যাওয়ার হাত থেকে যেমন রক্ষা পাবেন, তেমনি প্রস্তুতি নেওয়ারও সময় পাবেন।

১২.    খেয়াল রাখুন কোথায় সময় নষ্ট হয়, হোক অল্প সময়, কিন্তু নষ্ট হয়। যেমন—ট্রাফিক জ্যাম, অন্যান্য যাতায়াত, কারো জন্য অপেক্ষা, লিফটের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, ডাক্তারের চেম্বারে সিরিয়াল ধরা ইত্যাদি নানা স্থানে অনেক সময় আমাদের নষ্ট হয়। ভাবুন, এই সময়ে কী করলে সময়টার ভালো ব্যবহার হবে। হতে পারে বই পড়া, দ্রুত মেইল চেক করা, কিছু ফোন দেওয়ার কাজ সেরে ফেলা ইত্যাদি নানা কাজ। এভাবে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

১৩.   একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ক্ষেত্রে বাছাই করুন। ধরুন, আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গেলেন, পাশেই শপিংমল বা বাজার। ফলে ফেরার সময় বাসার জন্য টুকিটাকি বাজারটাও একবারে সেরে ফেললেন।

১৪.   সব কাজ আপনি কখনো শেষ করতে পারবেন না। তাই গুরুত্ব অনুযায়ী কাজ সাজাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সবার আগে শেষ করতে হবে। নইলে বিপদ।

১৫.    সব কাজ নিজে করতে যাবেন না। সময়মতো সামলাতে পারবেন কী পরিমাণ কাজ, তার হিসাব নিজেকে বুঝতে হবে।

১৬.    প্রতি কাজের জন্যই সময় নির্ধারণ করুন। এই সময় মেনে চলার চেষ্টা করুন। প্রাথমিক দিনগুলোতে নোট নিন—কোথায় মেনে চলতে পারলেন আর কোথায় পারলেন না। আপনার অগ্রগতি বুঝতে পারবেন।

১৭.    প্রতিদিন সকালে অথবা আগের দিন রাতে ৩০ মিনিট সময় ব্যয় করুন দৈনিক কাজের রুটিন ফাইনাল করতে।

১৮.    হঠাত্ উত্সাহের বশে আপনার নির্ধারিত রুটিন পরিবর্তন করবেন না। রুটিন পরিকল্পনা করার সময় যতটা সম্ভব ভাবুন। কিন্তু একবার রুটিন ফাইনাল করে ফেললে শিগগিরই পাল্টানোর চেষ্টা না করা ভালো।

১৯.    গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট রাখুন। যথাসময়ে কাজ শেষ করতে কাজে বিঘ্নকারী বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখুন।

২০.   মাঝে মাঝে (বছরে অন্তত একবার) পজিটিভ অ্যাটিচ্যুড কিংবা উত্সাহ-উদ্দীপনা বিষয়ক (মোটিভেশনাল) প্রশিক্ষণে অংশ নিন। ভালো অভ্যাস ধরে রাখতে চাই নিরলস পরিচর্যা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments