সিডনিতে গায়ত্রী সন্ধ্যায় যাপিত জীবনের গল্প বললেন সেলিনা হোসেন

  •  
  •  
  •  
  •  

শাখাওয়াৎ নয়ন: গত শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া ইনক এর আয়োজনে সিডনির হার্টসভিল সিভিক সেন্টারে, সন্ধ্যায় ডক্টর শাখাওয়াৎ নয়নের সঞ্চালনায় ‘গায়ত্রী সন্ধ্যায় যাপিত জীবনের গল্প’ শোনালেন, প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অফুরান মুগ্ধতা, পিনপতন নিরবতায় একটানা দুই ঘন্টা ধরে দর্শক ও পাঠকেরা  সাহিত্য আলোচনাটি উপভোগ করেন।

কথা বলছেন সেলিনা হোসেন, গ্রন্থনা ও উপাস্থাপনায় ড. শাখাওয়াৎ নয়ন

উক্ত অনুষ্ঠানে সেলিনা হোসেনকে ‘একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া সম্মাননা- ২০১৯’ প্রদান করা হয়। সেলিনা হোসেন এবং তাঁর জীবনসঙ্গী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠিত ‘ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন’কে ১৬৮০ ডলার অনুদান প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ফারিয়া হোসেন লারা বাংলাদেশের প্রথম প্রশিক্ষক নারী বৈমানিক ছিলেন। যিনি ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলা কথাসাহিত্যে শুধু নারী লেখক নয়, বরং যে কোনো বিচারেই সেলিনা হোসেনের নাম সমসাময়িককালে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কারে তিনি ভূষিত এবং সম্মানিত হয়েছেন। ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট (অনারারি) ডিগ্রিতে ভূষিত করেছে। পৈতৃক সূত্রে তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায় হলেও, বাবার কর্মসুত্রে রাজশাহীতে তাঁর জন্ম ১৪ জুন, ১৯৪৭।

সেলিনা হোসেনকে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া কর্তৃক সম্মাননা

একদিকে বঞ্চিত, অবহেলিত এবং দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকা, মানবসত্তা নিয়ে যেমন তিনি লিখেছেন, অন্যদিকে তিনি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক জীবনের এমন কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা নেই, যে বিষয়কে উপজীব্য করে তিনি গল্প, উপন্যাস লেখেন নাই। ছিটমহল থেকে জলমহাল, চা বাগানের শ্রমিক থেকে নাগরিক জীবন, নারী নির্যাতন এবং উন্নয়ন, কোনো অনুষঙ্গকেই তিনি বাদ দেন নি। এত বিচিত্র বিষয়ে বাংলা ভাষার আর কোনো কথাসাহিত্যক লেখেননি। ইংরেজী, ফরাসি, রুশ, ইতালিনো, জাপানী, আরবি, উর্দু, অহমিয়া, তেলেগু, তামিল, মারাঠি, মালায়লাম, কন্নড় ভাষায় তাঁর রচনা অনূদিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, ভারত এবং বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তাঁর উপন্যাস পাঠ্য পুস্তক হিসেবে পড়ানো হয়।
দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছরের সাহিত্যচর্চার জীবনে তিনি বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্যও লিখেছেন ছত্রিশটি বই। ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের পটুভুমিকায় তিনিই এখন পর্যন্ত সর্বাধিক সংখ্যক উপন্যাস রচনা করেছেন।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খান

উল্লেখ্য, মেলবোর্নের বাংলা সাহিত্য সংসদের বিশেষ সহযোগিতায় একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া ইনক উক্ত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ডক্টর স্বপন পাল অনুষ্ঠানের প্রধান সহযোগী ‘প্রভাত ফেরী’ এবং অন্যান্য সহযোগী ‘মুক্তমঞ্চ’, ‘রয়াল সিটি সলিসিটরস’, ‘ফার্স্ট একাউন্ট্যান্ট, টপআপ প্লাজা এবং বাংলা সাহিত্য সংসদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments