সিডনিতে বাংলাদেশী উবারচালক দোষী সাব্যস্ত: সাহায্যার্থে ফান্ড গঠনে কম্যুনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া 

414

প্রশান্তিকা রিপোর্ট: সিডনিতে জনপ্রিয় উবার সার্ভিসের গাড়ি চালানোর সময় দূর্ঘটনায় কবলিত যাত্রীর মৃত্যুতে দোষী সাব্যস্ত হলেন এক বাংলাদেশী। গত ২৬ নভেম্বর সোমবার সিডনির ডাউনিং সেন্টারের লোকাল কোর্ট  বাংলাদেশী উবারচালক নজরুল ইসলাম কে ঘটনার জন্য দায়ী করে এ আদেশ দেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারীতে তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে বলে বিচারক জানান।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ হতে থাকে। তারা মনে করে, দূর্ঘটনায় নজরুল ইসলামের কিছু করার ছিলো না এবং তাকে নির্দোষ হিসেবে রায় দেয়ার কথা ছিলো। আগামীতে উচ্চ আদালতে নজরুলকে আইনি সহায়তার লক্ষ্যে কম্যুনিটিতে বেশ ক’টি ডোনেশন ফান্ড খুলে সহযোগিতার ঘোষণা দেয়া হয়।

উবারচালক নজরুল ইসলামকে অর্থ সাহায্যের একটি উদ্যোগ

জানা গেছে, নজরুল ইসলাম (৩২) ২০১৭ সালের ১৭ জুন উবারে তিনজন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় সিডনি সিবিডির এলিজাবেথ স্ট্রিটে দুর্ঘটনায় পড়েন। সেদিন রাত তিনটার সময় লাল বাতিতে গাড়ি থামিয়েছিলেন নজরুল। সবুজ বাতি জ্বলে ওঠার কয়েক সেকেন্ড আগে পেছনের আসনে থাকা যাত্রী স্যামুয়েল থমাস গাড়ির দরজা খুলে বাইরে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাতি সবুজ হওয়ায় নজরুল গাড়ির গতি বাড়ালে থমাস রাস্তায় পড়ে যান এবং অপর পাশ থেকে আসা একটি বাসের চাপায় দুর্ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নজরুল ইসলাম আদালতে বলেন, ‘আমি না কোনো শব্দ পেয়েছি, না কিছু দেখেছি। আমি শুধু শুনলাম যাত্রীরা থামাও থামাও বলে চিৎকার করছে আর আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক চাপি। সবকিছু পাঁচ মিটার জায়গার মধ্যেই ঘটে গেল। তারপর আমরা বাইরে গেলাম আর একটা মৃতদেহ দেখলাম। আমি পুলিশে ফোন করলাম।’ আদালতের বিচারপতি তার বয়ানে বলেন, “একজন চালককে যে সতর্কতা মেনে গাড়ি চালাতে হয়, নজরুল সেটি অনুসরণ করেননি। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, থমাস পেছনের দরজার খোলার পর নজরুলের গাড়িতে ৬ সেকেন্ড সতর্ক বাতি জ্বলে। এরপরও নজরুল গাড়ি চালু করে দেন, যার ফলে থমাস পড়ে যান। একজন সতর্ক চালকের জন্য এই ৬ সেকেন্ডই যথেষ্ট। তাই চালক হিসেবে যথেষ্ট সতর্ক না থাকায় নজরুলকে অভিযুক্ত করা হলো।” আগামী জানুয়ারী মাসে নজরুলের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে বলে বিচারক  জানান।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা অনেকেই নজরুল কে এভাবে দোষী সাব্যস্ত করাকে মেনে নিতে পারেননি। গত সোমবার থেকে সিডনি তথা বাঙ্গালী অধ্যুসিত সকল এলাকার টক অব দ্য টাউন ছিলো নজরুলের এই বিষয়টা।
প্রশান্তিকা থেকে নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে গতকাল তিনি জানান, “ আমি মানষিক ও শারীরিক ভাবে ভালো নই। বিভিন্ন জন বিভিন্ন কিছু জানতে চেয়েছেন। কখন কোনটা বলে সমস্যায় পড়ি বলা যায়না। তাই আমার আইনজীবি মামলার বিষয়ে কিছু বলতে না করেছেন।”
আপনাকে আইনি সহায়তার নামে বেশ কয়জন অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করছেন এ ব্যাপারে কিছু জানেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে নজরুল বলেন, “ ফাতিমা নামে যে অর্থ সংগ্রহ করছে তাদের সাথে আমার যোগাযোগ হয়েছে। রাশেদ নামে একজন ফান্ড কালেক্ট করছেন, সেটাও শুনেছি বন্ধুর মাধ্যমে। কিন্তু এখন পর্যন্ত (২৯/১১/১৮) তার সাথে কথা হয়নি।”
আপিল কবে করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন বলতে পারবো না কবে, তবে শিগগির জানাতে পারবো।”

বাংলাদেশী কম্যুনিটির অনেকেই বলছেন নজরুল ইসলামের এই বিপদে তারা পাশে দাঁড়াতে চান। কিন্তু এতগুলো ফান্ড কালেকশন দেখে তারা অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত। তারা মনে করেন, নজরুলের উপকারে আসে এমন প্রচেষ্টা সম্মিলিত ভাবেই করা উচিত।

প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সিডনিবাসী কয়েকজন বাঙ্গালী আইনজীবির সাথে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টিকে এভাবে তাড়াহুড়ো করে নজরুলের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবি বলেন, “আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে মাত্র। এখনও রায় হয়নি। রায়ের আগ পর্যন্ত এই সময়কে আইনের ভাষায় ‘প্রি সেন্টেসিং রিপোর্ট’ বলা হয়। এর মধ্যে দোষী ব্যক্তির আর্থ সামাজিক অবস্থা সহ বিভিন্ন পর্যায় দেখা হয়। তারপর রায়ের দিন চূড়ান্ত রায় হয়।”  তিনি আরো বলেন, “কেবল দোষী সাব্যস্ত হলেই আপিল করা যায়না। রায় হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সুতরাং এখনি তাকে সাহায্য করার জন্য ফান্ড খোলার বিষয়টা অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে।”