সিডনির ক্রসরোডস হোটেলে করোনা সংক্রমণ: উদ্বেগে রয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা

  •  
  •  
  •  
  •  

 10 views

প্রশান্তিকা ডেস্ক: সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত ক্যাসুলার নামকরা একটি পানশালা এবং খাবারের হোটেলের নাম ‘স্ক্রসরোডস হোটেল’। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে যারা সরাসরি এই হোটেলের সাথে জড়িত ছিলেন। হোটেলটির চারিদিকে রয়েছে লিভারপুল, ক্যাসুলা, ইঙ্গেলবার্ন, মিন্টু, গ্লেনফিল্ড, ম্যাকুয়ারি ফিল্ডস, বার্ডিয়া এবং ক্যাম্বেলটাউন সাবার্ব। এসব সাবার্বে অসংখ্য বাংলাদেশী এবং মাল্টিকালচারাল প্রবাসী বাস করেন। তারাও উদ্বেগে রয়েছেন।

ক্রসরোডস হোটেল লকডাউন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই হোটেলে কিচেনে এবং ফ্লোরে বেশ ক’জন বাংলাদেশী কাজ করেন। এমনকি কুকও বাংলাদেশী বলে জানা গেছে। করোনা প্রাদুর্ভাবের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই হোটেলটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সকল স্টাফ এবং কাস্টমারকে করোনা টেস্টের পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে। অত্র এলাকায় বিশেষ করে গ্লেনফিল্ড, ম্যাকুয়ারি ফিল্ডস, ইঙ্গেলবার্ন, মিন্টো, ল্যুমিয়া, বার্ডিয়া, লিভারপুল, ক্যাসুলা এবং ক্যাম্বেলটাউন সাবার্বে অসংখ্য বাংলাদেশী বসবাস করেন। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার এই হোটেলকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গতকাল প্রিমিয়ার গ্লাডিস বেরিজিকলিন বলেন, এই মুহূর্তে এলাকায় লকডাউন করার কোন ইচ্ছে নেই কিন্তু অবস্থা আরও খারাপ হলে নতুন করে লকডাউনের কথা আসতে পারে। অত্র এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীরা উদ্বেগে রয়েছেন। ইঙ্গেলবার্ন বাসী আনোয়ার হোসেন প্রশান্তিকাকে বলেন, “হোটেলটিতে বাংলাদেশী কাজ করেছে শুনে একটু আতঙ্কে আছি। কেননা, তারা হয়তো এই এলাকাতেই বাস করেন। আর বাঙালিরা যে কোন ভাবেই একজন আরেকজনের সাথে কানেকটেড। তাই আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সাবধানে থাকতে হবে।” বার্ডিয়া বাসী আরেক প্রবাসী জানান, “ক্রসরোডস হোটেলে এই প্রাদুর্ভাবের কারণেই আসছে উইকেন্ডে আমার বাসায় সীমিত পরিসরে আয়োজিত মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।” ক্যাম্বেলটাউন বাসী জাভেদ কাজ করেন লাকেম্বার একটি রিয়েল এস্টেটে। আজ তিনি অফিসে গেলে তাকে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। জাভেদ বলেন, “আমি করোনা হাই এলার্ট এলাকায় থাকি বলেই কোম্পানি আমাকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে পরামর্শ দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে।”
ম্যাকুয়ারি ফিল্ডস’র স্থানীয় এমপি আনুল্যাক চ্যান্টিভং স্ত্রীসহ ওই হোটেলে ডিনার করেছিলেন। তাদেরকে গত রোববার টেস্ট করা হয়। ফলাফল নেগেটিভ হলেও তারা আইসোলেশনে রয়েছেন।আইসোলেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার অফিস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন। তবে ফোন সার্ভিস খোলা থাকবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি মেলবোর্ন থেকে আসা নিউ সাউথ ওয়েলস’র ব্লু মাউন্টেনের এক ব্যক্তি গত ৩ জুলাইতে ক্রসরোডস হোটেলে এক নৈশভোজে অংশ নেন। ওই ভোজে একই কোম্পানিতে কাজ করা প্রায় ৬ জন ছিলেন। জানা গেছে, মেলবোর্ন থেকে আগত ব্যক্তি করোনা পজিটিভ ছিলেন। তার মাধ্যমেই হোটেলটিতে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর সেখান থেকে ক্যাসুলা কে-মার্ট, প্রেসটন লজ এজকেয়ার এবং ক্যাসুলার একটি ফিটনেস সেন্টারে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্য সরকার সবগুলো স্থানই লকডাউন করে দিয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গতকাল ১৩ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন যারা সরাসরি এই হোটেলের সাথে যুক্ত ছিলো।

ভিক্টোরিয়ায় দু’জনের মৃতের মাধ্যমে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় সর্বমোট ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় কেবল ভিক্টোরিয়ায় ২৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments