সিডনির দর্শকেরা আমার সব গান মুখস্ত করে ফেলেছে: অর্ণব, প্রশান্তিকার সঙ্গে সাক্ষাতকারে

  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী শায়ান চৌধুরী অর্ণব সিডনি এসেছেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মিউজিক ফেস্ট ২০১৯ এ গান করলেন তিনি। কানায় কানায় পূর্ণ সায়েন্স থিয়েটারের অডিটোরিয়ামে অর্ণবের সাথে কন্ঠ মিলিয়েছেন সিডনির দর্শক। শান্তিনিকেতনে গান শিখেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় এই শিল্পী। দুই বাংলাতেই তার বসবাস। বছর খানেক ধরে সঙ্গী হয়েছেন ওপার বাংলার শিল্পী আসানশোলের মেয়ে সুনিধি নায়েকের। গান, সিডনি, সুনিধি, প্রিয় শিল্পী এবং বিবিধ বিষয়ে অর্ণব কথা বলেছেন প্রশান্তিকার সঙ্গে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন প্রশান্তিকার বার্তা সম্পাদক আরিফুর রহমান।

সিডনির রাস্তায় হাস্যোজ্জ্বল অর্ণব

আরিফুর রহমান: সিডনি কেমন লাগছে?
অর্ণব: দারুণ লাগছে। আমি যখন এসেছি তখন রাত ছিলো, রাতের সিডনি দেখতে অসাধারণ লাগছে।এখানকার উঁচুনিচু রাস্তা, পাহাড়, সমুদ্র পাড় দেখতে খুব ভালো লেগেছে আমার।বন্দাই বিচে গিয়েছিলাম খুব ভালো লেগেছে।

আরিফ: আপনার সঙ্গী সুনিধিকে কি মিস করছেন, ওর সম্পর্কে জানতে চাই।
অর্ণব: সুনিধিকে খুব ভালো লাগে আমার। লাস্ট এক বছর হলো ওকে চিনি।ওর সাথে গান করতেও অসাধারণ লাগে। সুনিধি রবীন্দ্রসংগীত শিখছে, ওর সঙ্গে এক বছর হলো গান করছি।সুনিধি ছাড়া আরও একজন বন্ধু আছে মুর্শিদ, ওর সঙ্গেও গান-বাজনা করছি।ওদের নিয়ে আসার কথা ছিলো, আসলে আমি জানতাম না ভিসার ব্যাপারটা এখন এতো সহজ, জানলে নিয়ে আসতাম।ওরা আসলে অনেক মজা হতো।

সিডনি মিউজিক ফেস্ট ২০১৯ এ গান করছেন অর্ণব

আরিফ: সুনিধির সঙ্গে কি আপনার কোন অ্যালবাম বের হয়েছে?
অর্ণব: এখন তো ঐভাবে আর অ্যালবাম বের হয়না, ওর সঙ্গে ডুয়েট করা হয়েছে এবং ডিজিটালি পাবলিস্ট করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি নামকরা রেকর্ড কোম্পানির সঙ্গে কথা হয়েছে, ওরা একটা অ্যালবাম বের করবে।সেটার মিউজিকও করছি আমি।

আরিফ: আপনার লাস্ট এলবাম কবে বের হয়েছিলো, সেটি কোনটি?
অর্ণব: লাস্ট অ্যালবাম দু’বছর আগে বের হয়েছিলো।অ্যালবামের নাম ছিলো ‘অন্ধ শহর’। ওয়েভার রিলিজ ওটা বের করেছিলো, ওয়ান্ডারবল নামে একটা মিউজিক আ্যপে রিলিজ হয়েছিলো।গানগুলো দারুণ ছিলো।

অর্ণবের সাথে আরিফুর রহমান

আরিফ: এখন তো আর আ্যলবাম বের হয় না। ইউটিউব বা ডিজিটালি রিলিজগুলো কতটুকু শ্রোতাদের কাছে পৌছায়? এটা কি শুধু ভিউ সংখ্যা দেখে আন্দাজ করেন ?
অর্ণব: ভিউ সংখ্যাতো আছেই, সাথে সবার কমেন্টস, শেয়ার সবকিছু দেখে বুঝা যায় মানুষ গানগুলো শুনছে নাকি শুনছেনা। আসলে অ্যালবাম থেকে ডিজিটালি অ্যালবাম গুলোর কারনে মানুষ যে গানগুলো শুনছে বা ভালোবাসছে তা বেশি বুঝা যায়, সেই সঙ্গে মানুষের কাছে পৌঁছায়ও খুব তাড়াতাড়ি।

আরিফ: অর্ণব আধুনিক গান করেন আবার রবীন্দ্রসঙ্গীত করেন। নিজের কোনটা পছন্দ?
অর্ণব: দুটোই। তবে রবীান্দ্রসংগীত বেশি মজা লাগে, যেহেতু আমি শান্তিনিকেতনে বড় হয়েছি,তাই ঐটা আমার সিস্টেমের মধ্যে আছে।এক সঙ্গে গান করার আনন্দ বা মজা সেটাতো শান্তিনিকেতন থেকেই শিখেছি। সবাই যখন এক সঙ্গে গাই তখন অন্যরকম এক অনুভূতি ও আনন্দ লাগে। আর নিজের গানের মজা হলো, এখনকার সময়ের কথা বলা, উপলদ্ধিটা তুলে ধরা যায়।

সুনিধি নায়েক

আরিফ: জানা মতে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ সিনেমায় সুর করেছিলেন, এরপর কি আর কোন চলচ্চিত্রে কাজ করা হয়েছে বা হচ্ছে?
অর্ণব: ‘জাগো’ বলে ফুটবল নিয়ে একটা মুভি ছিলো, সেই ছবিতে করা হয়েছে, তাছাড়া ‘আয়নাবাজি’, ‘আহা’ ছবিতে কাজ করা হয়েছে।রিসেন্টলি অনুপম রায়ের ছবিতে কাজ করছি।

সিডনির হলভর্তি দর্শকের সামনে গান গাইছেন অর্ণব

আরিফ: নিজেকে বাদ দিয়ে দুই বাংলা মিলে প্রিয় শিল্পীর তালিকা বলেন। ৪/৫ জন হলেও হবে। সুনিধিও সে তালিকায় থাকতে পারে।
অর্ণব: পুরানো দিনের গান গুলোই বেশি ভালো লাগে। যেহেতু শান্তিনিকেতনে বড় হয়েছি সেহেতু রবীন্দ্রনাথের গানই আমাকে বেশি টানে। ঢাকায় যারা গান করেন যেমন আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, মাইলস এরাতো নিজেদের গান নিজে করেন, নিজেদের মিউজিক নিজেরা করেন।এদের থেকে শেখার জায়গা ছিলো, এদের এ্যাপরোচ টু মিউজিক অন্যরকম যেখানে শান্তিনিকেতনের এ্যাপরোচ টু মিউজিক অন্যরকম। আমার ক্লাসিক্যাল মিউজিক ভালো লাগে, কলকাতায় মুর্শিদ নামে একটা ছেলে আছে ওর মিউজিক ভালো লাগে।প্রতুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের গান ভালো লাগে, সুমন কবির এবং অঞ্জন দত্তের গানও ভালো লাগে।

আরিফ: সিডনির অনুষ্ঠানে গান করতে কেমন লাগলো? নতুন কি কোন অভিজ্ঞতা হলো। তাছাড়া আপনি কলকাতা বা বাংলাদেশের বাইরে অনেক দেশে গান করেছেন। অন্যান্য দেশের তুলনায় সিডনির দর্শকরা কেমন ?
অর্ণব: আমি ৪/৫ বছর আগে অস্ট্রেলিয়া এসেছিলাম, মেলবোর্ন ও এ্যাডিলেডেতে। মেলবোর্নে ক্রাউড ভালো ছিলো,ওরা মন দিয়ে গান শুনেছে। বাট এতো বছর পরে এখানে গান করতে এসে দারুণ লেগেছে। একটা জিনিস বেশি ভালো লেগেছে সিডনির দর্শকরা আমার সব গান মুখস্ত করে ফেলেছে এবং প্রতিটা গান তারা আমার সাথে সাথে গেয়েছেন। বিষয়টা আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে।

আরিফ: বছর কিছু আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ছাত্র আন্দোলন হয়েছিলো, ছাত্ররা আপনার একটা বিশেষ গান ‘ হোক কলরব’ গান দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলো? আপনার গানের সুরে আন্দোলন- আপনার অনুভূতি কেমন ছিলো?
অর্ণব: হ্যাঁ এটা আমিও শুনেছি। এটা আসলে আমার ক্রেডিট নয়, গানটি রাজিব আশরাফের, তিনিই গানটি লিখেছেন।তারপরও গানটিতে আমি একটু বেশি পরিচিতি পেয়েছি। একটা জিনিস আমার জন্য সুবিধা যেহেতু ওখানে অনেক বড় হয়েছি, অনেক বছর কেটেছে আমার। সেহেতু ওরা আমাকে নিজেদের মানুষ মনে করে।

আরিফ: আপনার ব্যস্ত সময়ের মধ্যে এই সময়টুকুর জন্য প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
অর্ণব: প্রশান্তিকা এবং আপনাকেও আমার ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।