সিডনির মিলনমেলায় বুয়েট আ্যলামনাই অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

  •  
  •  
  •  
  •  

 174 views

ফাহাদ আসমার: গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সিডনির রকডেলের রেড রোজ ফাংশান সেন্টারে আয়োজিত হলো বুয়েট আ্যলামনাই অস্ট্রেলিয়া’র বার্ষিক সাধারণ সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বুয়েট নাইট নামের এই অনুষ্ঠান পরিণত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাবেক বুয়েটিয়ান এবং তাদের পরিবারবর্গের বিশেষ এক মিলনমেলায়। অত্যন্ত চমৎকার এবং মানসম্মত এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাকিল চৌধুরী।

বিকেল সাড়ে ছয়টায় আগত সকলকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই কিছুদিন আগে বুয়েটের একটি হলে সহপাঠীদের নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদের স্মরণে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। রাজনৈতিক প্রভাব স্বীকার করেও আবরার ফাহাদ যাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন তারাও বুয়েটের ছাত্র এবং এই পরিবারের একজন তা অত্যন্ত দুঃখের সাথে স্বরণ করিয়ে বুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতিতে আশংকা প্রকাশ করেন শাকিল চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সবচেয়ে নবীন ব্যাচ হিসেবে ২০০৭ এবং সবচেয়ে প্রবীণ ব্যাচ হিসেবে ১৯৫৮ সালের একজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের মাঝখানে সেতুবন্ধন হিসেবে বুয়েট এলুমনাই যে সঠিক পথে আছে, প্রায় ৫০ বছরের ব্যবধানে ভিন্ন দুই প্রজন্মের উপস্থিতি তা প্রমাণ করে বলে সঞ্চালক মতামত ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে এই পরিবারের ব্যপ্তি আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বুয়েট আ্যলামনাই অস্ট্রেলিয়ার মিলনমেলা, ছবি: তুমন আহসান

পরবর্তী অংশে এলুমনাই সদস্য আসিফ হাসান, সৌমেন চক্রবর্তী, ফেরদৌস আহমেদ এবং রিফাত ফারহানা গত এক বছরে বুয়েট এলুমনাই’এর সকল কার্যক্রম সম্পর্কে অতিথিদের অবগত করেন এবং ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লেতে তা একে একে প্রদর্শন করেন। বিগত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের আয় ব্যয় এবং অন্যান্য হিসেব তুলে ধরেন সংগঠনের ট্রেজারার হাসিবুর রহমান শেখ এবং সহকারী ট্রেজারার খন্দকার জিয়াউল করিম।

সাধারণ সম্পাদক পারভেজ এহসান মঞ্চে এসে সকলের আপা হিসেবে সুপরিচিত মাহমুদা রুনু’র প্রতি সংগঠনের শুরু থেকে বিশেষ অবদান রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্ট তানভীর আহমেদ তমাল, কার্যকরী পরিষদের সকল সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য শেষ করেন।

বুয়েট এলুমনাই অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সভাপতি তানভির আহমেদ তমাল ২০০৯ সালে গঠিত প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। নিজ বক্তব্যে প্রথম কমিটি থেকে শুরু করে বিগত দশ বছরে এই সংগঠনের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি এবং তা আরো ছড়িয়ে দেয়ার আশা প্রকাশ করেন। গত বছরে সংগঠনের আয়োজিত ৭ টি ইভেন্টে রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ১৪০০ জনের অংশগ্রহণে উচ্ছসিত হয়ে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য রাজ্যে অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনার কথা জানান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে ধূমকেতু ব্যান্ড , ছবি: তুমন আহসান

আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ক্যান্টারবেরী – ব্যাংকস্টাউন সিটি কাউন্সিলর জনাব শাহে জামান টিটু। তিনি এ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাবাসী বাংলাদেশি বিশেষ করে বুয়েটিয়ানদের অবদান স্মরণ করেন এবং বুয়েটের ছাত্র না হয়েও এই সংগঠন ও তাঁদের কার্যক্রমের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি পদক্ষেপ নেয়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা মন্যুমেন্ট কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং ডোনেশনের জন্য বুয়েট এল্যুমনাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেন।

এরপর মঞ্চে আমন্ত্রিত হন বাংলাদেশ হাইকমিশনের নবগঠিত সিডনি কনস্যুলেটের মাননীয় কনসাল জেনারেল জনাব খন্দকার মাসুদুল আলম তিনি নিজেও বুয়েটের একজন প্রাক্তন ছাত্র। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে বাড়তি সময় বের করে এ ধরণের চমৎকার একটি সংগঠন এবং তা পরিচালনা করার জন্য সকলকে উচ্ছ্বসিত সাধুবাদ জানান। শুধুমাত্র সিডনি নয়, এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বড় শহরগুলোতে নতুন শাখা সৃষ্টির পাশাপাশি এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া যায় কিনা তা ভেবে দেখার অনুরোধ এবং সেই সাথে বুয়েট ছাড়াও এই দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসা অন্যান্য সকল বাংলাদেশি ছাত্রদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। কনসাল জেনারেল বিশেষ করে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থিদের পড়াশোনা শেষে ইন্ডাস্ট্রিয়াল কানেকশনে সহযোগিতা করার জন্য সংগঠনের সদস্যদের অনুরোধ জানান এবং প্রয়োজনে সিডনি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে এধরণের কার্যক্রমে সেতুবন্ধনের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি তিনি সকল ধরণের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সিডনি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

নামজের বিরতির পর সংগঠনের সদস্যদের ভেতর থেকে বিশেষ অবদানের জন্য পুরষ্কার প্রদানের মাধ্যমে পরবর্তি অংশ শুরু হয়। এবছর গবেষণা পর্যায়ে সর্বোচ্চ সফলতার জন্য রিজওয়ান ফাত্তাহ এবং শ্রেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রিফাত ফারহানা বিশেষ সন্মাননা অর্জন করেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলার গান নিয়ে মঞ্চে আসেন বুয়েটিয়ান পরিবারের সন্তান চোট্ট ফারিন আহমেদ। বাংলাদেশ থেকে এত দূরে বেড়ে উঠেও দ্বিতীয় প্রজন্মের এই শিশুর কণ্ঠে বাংলা গানে যে আবেগ এবং অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছিল এককথায় তা ছিল অসাধারণ।বড়দের পাশাপাশি উপস্থিত সকল শিশুদের জন্য ছিল ছিল বিশেষ ম্যাজিক শো এবং অন্যান্য বিনোদন ব্যবস্থা।
এরপর বিশেষ প্রশ্নত্তোর পর্বে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাচ, সময় এবং প্রজন্মের স্মৃতিচারনা করা হয়।

ডিনার শেষে চমৎকার পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন স্থানীয় বাংলা ব্যান্ডদল ‘ধূমকেতু’। অনুষ্ঠানের বাদবাকি সময় বাংলা গানে উপস্থিত সকলকে মোহিত করেন ধূমকেতু সদস্য ইমন, সোহেল, শুভ এবং সোহাগ।
কমনওয়েলথ ব্যাংক হোম লোন এই অনুষ্ঠানের সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন স্থানীয় ফটোগ্রাফার তুমন আহসান।
সবশেষে আগত সকল সদস্য এবং অতিথিদের বিশেষ করে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়ে আয়োজকদল অত্যন্ত সুন্দর এবং গোছানো এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

0 0 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments