সৌমিত্র চট্টোপাধ্যয় আর নেই

  •  
  •  
  •  
  •  

প্রশান্তিকা ডেস্ক: কিংবদন্তী অভিনেতা, কবি, আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৌমিত্র চট্টোপাধ্যয় মারা গেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্রে জানা গেছে, ৮৬ বছরে শেষ হল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কর্মময় পথচলা। হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর চলে গেলেন বাংলা ছবির প্রবীণ মহাতারকা, অভিনেতা-নাট্যকার-বাচিকশিল্পী-কবি-চিত্রকর।

মৃত্যুর একটু পরেই হাসপাতালে পৌঁছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই হাসপাতালের বাইরে সৌমিত্রের কন্যা পৌলেমী বলেন, “ আমার বাবার আদর্শ নিয়ে আমরা এগিয়ে চলব, সেলিব্রেট করব। আপনারা কষ্ট পাবেন না, বাবার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করবেন।” এসময় আরও কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌমিত্রের মরদেহ এরপর তাঁর বাড়ি, টালিগঞ্জ স্টুডিও এবং সবশেষে রবীন্দ্রসদনে শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে। এরপর ক্যাওড়াতলা শ্মশানে দাহ করা হবে।

শুক্রবার থেকে সৌমিত্রর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটতে থাকে। হৃদযন্ত্র আর কিডনির জটিলতা অনেকটা বেড়ে যায়। বেড়ে যায় ‘হার্ট রেট’। বাড়তে থাকে স্নায়বিক সমস্যাও। প্রবল ভাবে ওঠানামা করতে থাকে অক্সিজেনের মাত্রা। শনিবার বিকেলে  চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, অলৌকিক কিছু না ঘটলে সৌমিত্রের সুস্থ হয়ে ওঠা অসম্ভব। আজ কলকাতায় স্থানীয় সময় ১২টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রয়াত হন। বেলভিউ সূত্রে এ খবর জানানো হয়েছে।

সৌমিত্র ৬ অক্টোবরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ ৪০ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁকে প্লাজমা থেরাপি দেয়া হয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত তিনি করোনামুক্ত হয়েছিলেন। ক্যান্সারসহ অন্যান্য অসুখে তাঁর স্বাস্থের অবনতি ঘটে। অবশেষে আজ তিনি পরপারে চলে গেলেন।

সৌমিত্র ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই অভিনয়ে জড়িয়ে পড়েন। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি কবিতা লেখা এবং আবৃত্তি চর্চায় নিবিষ্ট ছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের ৩৪ টি ছবির মধ্যে ১৪টিতে সৌমিত্র প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন। প্রখ্যাত ফিল্মমেকার অপর্ণা সেন বলেন, ‘ তিনি আমার প্রথম ছবির প্রথম নায়ক। আমি আজ অভিভাবক হারালাম।’ সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দ্বীপ রায় শোকবার্তায় বলেন, ‘ পরিবারের একজনকে হারালাম।’

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments