স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে দেশের ক্ষমতায় দেখতে চাইনা: অমি রহমান পিয়াল; প্রশান্তিকার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার 

863


ফারিনা মাহমুদ:

পাবলিক ট্রান্সপোর্টে দু’বার কেঁদেছিলাম জীবনে। দ্বিতীয়বারটি ছিলো যখন প্রথম দিন বাচ্চাকে চাইল্ড কেয়ারে দিয়ে অফিস যাচ্ছিলাম। মুখে বড় তোয়ালেতে চেপে অঝোরে কেঁদেছিলাম সেদিন আমি।
প্রথম বারের কান্নাটা অনেক আগে, ২০১৩ তে । এক বন্ধুর শেয়ার করা একটি লেখা, লেখকের নাম অমি রহমান পিয়াল। বিষয়বস্তু ক্রিকেটে পাকিস্তান সমর্থন। আমি ঝরঝর করে কেঁদেছিলাম লেখাটা পড়ে । পাশের সহযাত্রী বলে উঠলো, আর ইউ ওকে ? ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলেছিলাম হ্যাঁ ঠিক আছি । একটা লেখা পড়ে কাঁদছি । মহিলা অবাক চোখে তাকিয়েছিলেন, হয়তো ভেবেছিলেন কঠিন কোন প্রেমের উপন্যাস !
প্রেম তো বটেই! দেশপ্রেম সেটা ! এক মুহূর্ত লাগেনি এই মানুষটার লেখনীতে মুগ্ধ হতে। জীবনের প্রথম, ফেসবুকে কাউকে ফলো করা শুরু করলাম আমি, আমার মূগ্ধতার বালুচরে ওনার এক একটা লেখা থেকে থেকে একেক রূপে আছড়ে পড়তে থাকলো। কখনো কেঁদেছি, কখনো ক্রোধে চিৎকার করেছি, কখনো হেসে গড়াগড়ি দিয়েছি এই মানুষটার লেখা পড়ে । 
সময় গড়াতে গড়াতে কি করে যেনো ওনার সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেলো আমার, দু চার কলম যদি কোনোদিন লিখেছি, ভালো লাগলে উনি অকপট উৎসাহ দিয়েছেন, যা ছিলো  এক পরম পাওয়া। নিজ দেশে চেতনার খেসারত দিয়ে ফেরারি হয়ে বেড়াচ্ছেন, অথচ জন্মযুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধের অনলাইন তথ্যভাণ্ডার) নিয়ে আশা ছাড়ছেন না ! শকুনের দল অনলাইনে অফলাইনে খুবলে খেতে চাইছে ওনাকে । বৌ এক জায়গায়, বাচ্চা একদিকে আর উনি জায়গা বদল করছেন । সমস্ত বিরুদ্ধবাদের বিপরীতে অবিচল দাঁড়িয়ে চালিয়ে গেছেন কলম যুদ্ধ, বলে গেছেন আই উইল বি দি লাস্ট ম্যান স্ট্যান্ডিং !
আমার কাছে উনি ভাইয়া, আর মুক্তা ভাবি হচ্ছেন তিনি, যার রান্নার ছবি দেখে আমি ফোন করে রেসিপি নিয়েছিলাম। মনেই হয়নি জীবনে প্রথম কথা বলছি ওনার সাথে। এত্ত মিষ্টি একটা মানুষ! সেই পিয়াল ভাইয়ের সাথে একটা ছোট আলাপচারিতা, কিছু সমসাময়িক প্রশ্ন উত্তরে বর্তমান অমি রহমান পিয়ালকে জানার একটা সামান্য চেষ্টা আপনাদের জন্য তুলে দিলাম ।

যারা তাকে চেনেন না তাদের জন্য এই ভূমিকা। অমি রহমান পিয়াল একজন অনলাইন এক্টিভিস্ট, ব্লগার, সাংবাদিক, গনজাগরন মঞ্চের অন্যতম রুপকার এবং মুক্তিযুদ্ধের অনলাইন তথ্যভাণ্ডার ‘জন্মযুদ্ধ’র কারিগর। পরিবার সহ বাস করছেন সুদূর সুইজারল্যান্ডে। 


প্রশান্তিকা: অনেক দিন হলো প্রবাসে বাস করছেন। প্রবাসের দিনগুলো কেমন কাটছে ?
পিয়াল: হ্যাঁ দেখতে দেখতে প্রায় তিন বছর হয়ে গেলো। দিনগুলো এক ঘেয়ে এবং বিরক্তিকর। দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের নিশ্চয়তা পেতে। এখন চলছে স্কুলে জার্মান ভাষা শেখা। শেখার পর কাজকর্ম।

প্রশান্তিকা: দেশে এখন নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আপনি বরাবর আওয়ামীলীগের হয়ে প্রচারে অংশ নেন। সেটা আপনার সৃষ্ট জন্মযুদ্ধ বা বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমেও হতে দেখেছি, বিদেশে বসে এরকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিভাবে ক্যাম্পেইন করছেন বা পরিবেশটা মিস করছেন কিনা ?
পিয়াল: আওয়ামী লীগের হয়ে প্রচারে অংশ নিই কারণ আমি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখালেখি করি, যুদ্ধাপরাধ নিয়ে লেখালেখি করি। আমার জন্মযুদ্ধ ওয়েবসাইট শুধু এই বিষয়ের ওপরই, আর কিছু না। রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য অন্য মাধ্যম ব্যবহার করি আমি। আবার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখলে কিংবা যুদ্ধাপরাধ নিয়ে লিখলে সেটা বাই ডিফল্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়। একসময় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতাম স্থানীয় প্রার্থীর পক্ষে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে থেকে এই প্রচারণা নিতান্তই অনলাইনে সীমাবদ্ধ রেখেছি, কারণ আমার টার্গেট অডিয়েন্স তরুণ প্রজন্ম। প্রবাস থেকেও অনলাইনেই প্রচারণায় অংশ নিচ্ছি। আমার মতো সমমনা কয়েকজন প্রবাসী মিলে নৌকা নামে একটা পেইজ চালাই ফেসবুকে। পাশাপাশি নিজের টাইমলাইন আর টুইটার তো আছে।

প্রশান্তিকা: শেখ হাসিনার সরকার আবারো ক্ষমতায় আসুক এরকম চান কিনা, চাইলে কেনো?
পিয়াল: শেখ হাসিনা সরকার আবারও ক্ষমতায় আসুক এটা মনে প্রাণে চাই। কারণ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। এই সরকার আসার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে যে ভূমিকা রেখেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে যে ভূমিকা রেখেছে তা অন্য কোনো দল কখনও করবে না। আর বিএনপি জামায়াত ক্ষমতা পেলে এসবই আবার ভেস্তে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে দেশের ক্ষমতায় দেখতে চাই না।

প্রশান্তিকা: মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যযোটের এতগুলো প্রার্থীর নমিনেশন বাতিল হলো, অথচ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মাত্র তিনজন, এটাতে কি নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হলোনা ? তার অর্থ কি এই যে, সরকার যা চাইছে কমিশন তাই ফলো করছে ?
পিয়াল: আমার তা মনে হয় না। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে মনোনয়ন পত্র দাখিলের বিষয়ে। বলা আছে কোনো মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের দন্ডাদেশ থাকলে তা বাতিল হবে। ঋণখেলাপী হলে বাতিল হবে। বেশীরভাগ প্রার্থীর ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। অনেকে আবার হাস্যকরভাবে স্বাক্ষর করতে ভুলে গেছেন। হলফনামায় প্রার্থীর পক্ষে নির্দিষ্টসংখ্যক সাক্ষর না থাকায় বাদ গেছে অনেকে। নির্বাচন কমিশন যা করছে ঘোষিত আইনের আওতাতেই করছে। ভুল হলে সেজন্য আপিলের ব্যবস্থা রেখেছে। এখানে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ দেখি না।

প্রশান্তিকা: আপনার কি মনে হয় এই ধারা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনের লড়াইয়ে থাকবে?
পিয়াল: দুর্জনের যেমন ছলের অভাব হয় না, তেমনি নির্বাচন বর্জন করতে বিএনপির অজুহাতের অভাব হবে না। তারা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিতান্তই ঠেকায় পরে। নিবন্ধন বাচাতে এবং রাজনৈতিক মৃত্যু ঠেকাতে।

অকাল প্রয়াত মাহবুবুল হক শাকিলের সঙ্গে অমি রহমান পিয়াল

প্রশান্তিকা: বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে, তার ছেলে পলাতক আসামী হয়ে লন্ডনে, বলা হয়েছিলো বিএনপি’র নেতৃত্ব দেবার মতো তেমন কেউ নেই। মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মীরা মামলা হামলার কারনেও উঠে আসতে পারছিলো না। অথচ তফসিল ঘোষণার পরপরই সারাদেশে যেনো বিএনপির গনজোয়ার শুরু হয়েছে। এ বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন ?
পিয়াল: গণজোয়ার বিষয়ে আপনার অনুধাবনে ঘাটতি রয়েছে।

প্রশান্তিকা: আপনার এক সময়ের সারথী গণজাগরণ মঞ্চের ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তিনি আপিল করেছেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে পারবেন কিনা আমরা জানিনা। তবুও তিনি একজন সাংসদ হয়ে দেশ সেবা করতে চাইছেন। আপনি কিভাবে দেখছেন ? ওনার সাথে কি আপনার কথা হয়?
পিয়াল: হ্যা, এটাকে আমি পজিটিভলি দেখি। ওর সঙ্গে আমার প্রায়ই কথা হয়। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাড়ানোর আগে আমার সঙ্গে আলাপ হয়েছে ওর। আমি সম্মতি দিয়েছি।

প্রশান্তিকা: শেষে একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে চাই, উত্তর না দিলেও সমস্যা নেই। বিদেশে আছেন স্বেচ্ছায় নাকি চাপে পড়ে ? শিগগির দেশে ফেরার কোন ইচ্ছে বা পরিকল্পনা আছে কি ?
পিয়াল: স্বেচ্ছায় বিদেশ আসার সময় আমার গেছে অনেক আগে। পঞ্চাশ বছর বয়সে কেউ স্বেচ্ছায় বিদেশ আসে না। বড় জোর ঘুরতে আসে। আমি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছি। চাইলেও দেশে ফেরা সম্ভব না। কারণ আমার পাসপোর্টে বাংলাদেশ বাদে সব দেশেই আমি এখন যেতে পারবো।

প্রশান্তিকা: আমরা যারা আপনার লেখাগুলো পড়ি, তারা কিছুটা জানি যে ঠিক কতটা বিপন্ন পরস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রবাসী হবার সিদ্ধান্ত আপনাকে নিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রবাসী হয়েছেন, মানিয়েও নিয়েছেন। কিন্তু এই ভিন্ন জীবন অথবা একই জীবনের ভিন্ন রূপটা কেমন লাগছে…এবং এই জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি নিয়ে কি বলবেন?
পিয়াল: এটা একদমই কালচারাল শকের মতো! একদমই নতুন সমাজ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন ভাষার মধ্যে এসে মানিয়ে নিতে খুব লড়ছি। দেশে থাকতে লড়াইটা ছিলো ভিন্ন। এখানে লড়তে হচ্ছে জীবনটাকে নতুন করে গড়তে। অনেকটা শূন্য থেকে শুরু করার মতো যা আমার বয়সের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে কোনো অপ্রাপ্তি নেই। কিংবা সেটা নিয়ে কোনো খেদ নেই আমার। প্রাপ্তির পাল্লাই বরং ভারি। বউ বাচ্চাকে এখন প্রচুর সময় দিতে পারি। মেয়েটার পড়াশোনার একটা গতি হয়েছে, সে স্কুলে পড়ছে এবং ভালোই করছে। বউও নিজের মতো করে এগোচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যাপিত জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়ে দিয়েছি। সেটায় অনেকখানি সফল হওয়ার পর আসলে মনে হয়েছে একটা বড় দায়িত্ব শেষ। এখন নিজের দিকে একটু তাকাতেই পারি। এখানে ঠিক তাই করছি।

প্রশান্তিকা: দেশে একটা যোগ্য বিরোধীদল দীর্ঘদিনে তৈরি হয়নি, নাকি তৈরি হতে দেয়া হয়নি? কেনো?
পিয়াল: বিরোধীদলের যোগ্যতার মাপকাঠি কি? এটা পুরোই একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। যুদ্ধাপরাধের বিচারের আন্দোলনে আমরা সবসময় দাবি করেছি এই দেশের রাজনীতি হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে। সরকারী দল এবং বিরোধী দল দুটোকেই হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। এখন বিএনপির মতো দল যখন চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ছাড়া এক পাও হাটতে নারাজ তখন এই নর্ম পূরণ হবে কিভাবে! বাম দল কিংবা অন্যদলগুলো এই জায়গাটা পূরণ করতে পারতো, কিন্তু জনবিচ্ছিন্নতার কারণে তারা ব্যর্থ। কোনো দলের ইমেজ সরকার ঠিক করে দেয় না, জনগনও না। তাকে নিজেই নিজের আইডেন্টিটি গড়ে তুলতে হয়। জনবান্ধব হতে হয়। সেই শর্ত মেটাতে না পারলে ব্যর্থতার দায় তো সেই রাজনৈতিক দলের ওপরই বর্তাবে।

প্রশান্তিকা: আপনার মূল যুদ্ধটা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিপক্ষে, এদেশে যাদের মূল রাজনৈতিক পরিচয় জামাত শিবির। আপনার বিভিন্ন লেখায় আমরা জেনেছি যে ছাত্রজীবন থেকে এই অপশক্তির সাথে মুখোমুখি লড়ে এসেছেন আপনি,আপনার আদর্শিক অবস্থান থেকে। একইভাবে লড়ে গেছেন অনলাইনে। বারবার আপনার বিরুদ্ধে সংবদ্ধ চক্রান্ত হয়েছে দু মাধ্যমেই। কাছের দূরের সব রকম মানুষের দ্বারাই। এই  দুটি যুদ্ধের রকম ফের আর রণকৌশল, একটু জানতে চাই।
পিয়াল: দুই যুদ্ধ দুই রকম। একটিতে শারীরিকভাবে অংশ নিয়েছি অন্যটায় বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে। দুক্ষেত্রেই রসদ ছিলো সততা এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি একাগ্রতা। দু জায়গাতেই নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা কল্পনা করে লড়ে গেছি। মুখোমুখি লড়াইয়ে জান হাতে নিয়ে লড়তে হয়। অনলাইনে সেই আশংকটা তাৎক্ষণিক থাকে না।


প্রশান্তিকা: অস্তিত্বের দাবী আদায়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম লেগে যায়। প্যালেস্টাইন যার জ্বলন্ত প্রমান। সেখানে ৪৭ থেকে ৭১ মাত্র ২৪ বছরে আমাদের পূর্ব প্রজন্ম একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছে আমাদের।  অথচ এই স্বাধীন দেশে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রকে বিচারের মুখোমুখি করতে আমাদের লেগেছে প্রায় ৪৩ বছর। অর্জনটা অনেক বড় মেনে নিয়েই বলছি, এতোটা সময় আমাদের কেন লাগলো? আমাদের লক্ষ্যে মূল বাঁধাগুলো কোথায় ছিলো?
পিয়াল: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দেশ আবার পেছনে চলে গিয়েছিলো। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অধিষ্টান হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা উড়েছে। সেখান থেকে ঘুরে দাড়াতে হয়েছে আমাদের। অনেক লড়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে জয়ী হতে হয়েছে। তাও প্রথমবারে নয়, দ্বিতীয় দফায় এসে আমরা সফল হতে পেরেছি। ৩০ বছর দেশ অপশক্তির কব্জায় ছিলো। সেটা হিসেবে নিলে কমসময়ই লেগেছে আমাদের।

প্রশান্তিকা: দেশে ফিরে যেতে কি ইচ্ছে হয় কখনো? নাকি ধরেই নিয়েছেন, মেনেই নিয়েছেন যে আমৃত্যু এই দেশ আর আপনার জন্য, আপনার পরিবারের জন্য নিরাপদ না?
পিয়াল: সারাক্ষণই তো মনটা পড়ে থাকে দেশে। আমি আশাবাদী মানুষ। এই মুহূর্তে ফেরার ইচ্ছে থাকলেও সুযোগ নেই। তবে সুযোগ এলে ফিরে যাবো। বিদেশ আমার জন্য না। নয়তো ১৮ বছর বয়সেই দেশ ছাড়তে পারতাম। কিংবা তার পরেও অনেকরকম সুযোগ ছিলো। নিইনি।

প্রশান্তিকা: আমরা জানি এখান থেকেই আপনি দেশের শীর্ষ অনলাইন পোর্টাল বিডিনিউজ ২৪ এ কাজ করে যাচ্ছেন, তারপর সংসার। বিভিন্ন লেখায় আপনার সহধর্মিনীর একান্ত সহযোগিতা আর সাহসের কথা উঠে এসেছে। আপনার এই লড়াইয়ে হুমকির মুখে পড়েছে আপনার স্ত্রী সন্তান। সে কথা একটু জানতে চাই।
পিয়াল: গত ২ নভেম্বর আমার জন্মদিনে বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদি ভাই আমাকে অনুরোধ করলেন হাতে সময় থাকলে কাজ করতে। আমি তাৎক্ষণিক সম্মতি দিয়েছি। এটা করতে গিয়ে একটু বিপদে পড়ে গেছি। কারণ সময়। ভোরে উঠে জার্মান শিখতে স্কুলে দৌড়াতে হয়। ফিরে এসে অফিসের কাজ করি। এ ছাড়া ঘরে অনেক কাজ থাকে। এই দেশে গৃহকর্মী নেই, নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। দেশে থাকতে আমার লড়াইয়ের কারণে বিপন্ন ছিলো আমার সংসার। বিদেশে এসে আমরা সেই দিক থেকে স্বস্তিতে আছি। মেয়েকে প্রচুর সময় দিতে পারছি। আর না বললেই নয় আমার লড়াইয়ে মুক্তার ত্যাগ অসীম। অনেকটা সমরেশ মজুমদারের কালবেলা উপন্যাসের মাধবী লতার মতো। ও সবদিক ঠেকা দিয়ে রেখেছিলো বলেই বেপরোয়া লড়তে পেরেছি।

প্রশান্তিকা: শেষ দুটি প্রশ্ন , অবসর টা কেমন করে কাটে? আর, অমি রহমান পিয়াল সম্পর্কে এমন একটা কিছু জানতে চাই যে পাঠকরা জানেনা। 
পিয়াল: অবসর বলতে শনি আর রবিবারে একটু সময় মিলে। আবহাওয়া ভালো থাকলে সবাই মিলে বেড়াতে যাই কোথাও। আর নয়তো ঘরে বসে ম্যুভি দেখি।
অমি রহমান পিয়ালের সব কিছুই খোলা বইয়ের মতো। এমন গোপন কিছু নাই যা আমি প্রকাশ্যে স্বীকার করি নাই। আমার পাঠকরা আমার সম্পর্কে সবই জানেন। যারা জানেন না তাদের জানাই, আমি বাঘ সিংহ না, শুধু মাকড়শা ভয় পাই।

প্রশান্তিকা: প্রশান্তিকার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
পিয়াল: ধন্যবাদ প্রশান্তিকাকেও।