স্বীকারোক্তি । আহমেদ শরীফ শুভ

  •  
  •  
  •  
  •  

[মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে পা হারানো একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম বীর সেনানায়ক কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমকে তাঁরই মুক্ত করা স্বদেশভূমিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আমলে ২১ জুলাই ১৯৭৬ সালে। ক্ষুদিরাম বসু, সূর্যসেনের সঙ্গে শতাব্দীর শেষ প্রান্তে আরেকটি নাম যুক্ত হলো—কর্নেল আবু তাহের। কর্নেল আবু তাহের ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, পরবর্তীকালে ১৯৭২ সালে গঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের নায়ক। আজ কর্নেল তাহের দিবস। এ উপলক্ষে এই কবিতাটি লিখেছেন মেলবোর্ন প্রবাসী কবি ও কথাসাহিত্যিক ডা. আহমেদ শরীফ শুভ।]

স্বীকারোক্তি
আহমেদ শরীফ শুভ

প্রিয় কর্নেল,
তোমার নামে শ্লোগান দেয়ার সব যোগ্যতা
আমরা ক্রমেই হারিয়ে ফেলেছি

তোমার দূর্গের চারিদিকে যখন শত্রুর কামানের মুখ
আমরা তখন যুদ্ধ করি নিজের সাথে
বন্ধু নিধনের পাশবিক উল্লাসে
আমাদের শরীর আস্তে আস্তে ক্লান্ত হয়ে পড়ে

আমাদের শিথিল হয়ে যাওয়া বজ্রমুঠি
নিস্তেজ কন্ঠ, ভোঁতা হয়ে যাওয়া
দন্ত আর নখাগ্র দেখে তুমি আমাদের আজ চিনতেই পারবে না
মেহেনতি মানুষের শেকল ভাঙার কথা
বেমালুম ভুলে গিয়ে আমরা এখন
নিজেদের দূর্গ ভাঙায় ব্যস্ত থাকি রাত দিন

আমরা কেবল ভাঙতে থাকি
ভাঙতে ভাঙতে যাই
একদিন হয়তো নিজেদের ক্লান্ত বিষন্ন মুখ দেখার আয়না ছাড়া
ভাঙার মতো আর কিছুই থাকবে না আমাদের
ততোদিনে হয়তোবা অন্ধ হয়ে যাবো
সেই আয়নাও আর আমাদের কোন কাজে আসবে না।

প্রিয় কমরেড,
যদিও তোমার ছবি বুকে বেঁধে রাখি
তোমার পবিত্র নাম উচ্চারণের সব যোগ্যতা
আমরা ক্রমেই হারিয়ে ফেলছি।