হেসেখেলেই জিতলো বাংলাদেশ; পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে টাইগাররা

632
খেলার বাকি আর ৬ ওভার। ইতিমধ্যে পাকিস্তান হারিয়েছে ৮ উইকেট। আজকের খেলাটাকে বলা যায়, ‘ডু অর ডাই ম্যাচ’ অথচ এমন ম্যাচে কি না এত খারাপ শুরু পাকিস্তানের! টার্গেট দেখেই মাথা খারাপ হয়ে গেল কি না পাকিস্তান দলের! ২৪০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩ রানের মাথায় দুই উইকেট হারালো দলটি!
যাহোক, ইমাম উল হকের সঙ্গে জুটি বাঁধতে এসে ৪ দিয়ে রানের খাতা খুললেন সরফরাজ আহমেদ।
মেহেদি হাসান নিয়েছে এক উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমান নিয়েছে এক উইকেট। তিন ওভার শেষে দুই উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের দলীয় রান ১৩। চতুর্থ ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সরফরাজ। মাঠে নামেন সোয়েব মালিক। চতুর্থ ওভারে রান একটু বাড়ে পাকিস্তানের। চতুর্থ ওভার শেষে দলের রান দাঁড়ায় ২১। ৩ উইকেটের বিনিময়ে।
পঞ্চম ওভারে বল করতে আসেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। একটি মাত্র রান দিয়ে এ ওভারে তিনি পাকিস্তান দলের রান ধরে রাখেন ২২-এ! তার প্রতিটি বল না মারতে পেরে অসহায় বোধ করে পিচে দাঁড়িয়ে থাকেন সোয়েব মালিক আর ইমাম উল হকের মতো ব্যাটসম্যান।
খুব ধীর গতিতে এগুতে থাকে শোয়েব আর ইমামের জুটি। ভাবখানা এমন যেন ‘নিলাম না রান, উইকেট ফেলে দেখাও’! তবে অষ্টম ওভারে মোস্তাফিজের বলে পাকিস্তানের দলীয় রান গিয়ে দাঁড়ায় ৩ উইকেটের বিনিময়ে ৩৪।
এদিকে শোয়েব ‘হাত খুলি’, ‘হাত খুলি’ করেও যেন সাহস পাচ্ছিল না মাশরাফি আর মোস্তাফিজের তোপের মুখে! তাই পরের ওভারটি যা মাশরাফির ছিল সেখান থেকে মাত্র দুইটি রান বের করতে পারলেন তিনি। এরপর আবার মেহেদী যেন নতুন মূর্তিমান আতংক হিসেব আবির্ভূত হলেন! এক ওভার বল করে তিনি দিলেন মাত্র মাত্র একটি রান!
১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের দলীয় রান ৩৭। দলীয় রানের গড় মাত্র ৩.৭।
শোয়েব আর ইমামের জুটি ব্যক্তিগত ২১ আর ১৯ নিয়ে ১৫ ওভার শেষে দলের রান নিয়ে দাঁড় করালো ৫৫তে।
দলীয় রানের গড় আগের মতোই ৩.৭।
১৭ ওভারের পর থেকে শোয়েব-ইমাম জুটি রান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিলেন। ফলে ২০ ওভার শেষে দলটির রান গিয়ে দাঁড়ালো ৮৫তে। দলটিরও গড় রান বেড়ে দাঁড়ালো ৪.২৫তে।
কিন্তু ২১ ওভারের প্রথম বলে বাংলাদেশের টেনশনের কারণ হয়ে দাঁড়ানো, মাঠে ভিত গেড়ে দাঁড়ানো শোয়েব মাঠ ছেড়ে চলেন গেলেন ইমামকে একা রেখে! তাকে আউট করলেন মাহমুদ উল্লাহ। শোয়েবের দুর্দান্ত ক্যাচটি নিলেন মাশরাফি।
২৬ ওভারের প্রথম বলে দলীয় ৯৪ রানের মাথায় আরও একটি উইকেটের পতন হলো।  ইমাম উল হকের সঙ্গে জুটি বাঁধতে এলেন আসিফ আলী।
২৯ ওভার শেষে  ৫ উইকেটের বিনিময়ে পাকিস্তানের দলীয় রান ১০৪। ইমামের ব্যক্তিগত রান ৪৬। আসিফের ৮।
৩২ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান গিয়ে দাঁড়ালো ১২০ এ। যা রানের গড় হিসেবে ৩.৭৫। কিন্তু জেতার জন্য গড় রান দরকার ছিল ৪.৮। বর্তমানে জেতার জন্য আগামী ওভারগুলোর প্রত্যেকটিতে রান নিতে হবে ৬.৬৭ করে।
একই পার্টনারশিপে ৩৪ ওভার শেষে পাকিস্তানের দলীয় রান ১৩০।
৩৫ ওভারের শুরুতে মাশরাফির প্রথম বলে ৬ হাঁকালেন ইমাম। এক ওভারে ৯ রান দিলেন মাশরাফি।
৩৭ ওভারের তৃতীয় বলে পাকিস্তানের দলীয় রান ১৫০। তাদের জেতার জন্য প্রয়োজন আর ৯০ রান। কিন্তু বলাবাহুল্য ওভার খুব কম হাতে। বিশেষ করে যে গতিতে রান নিচ্ছে তারা তাতে জেতার আশা ক্ষীণ।
হঠাৎ একটি ফ্রি হিট জুটে গেল পাকিস্তানের কপালে। বল করলেন মাশরাফি। বুদ্ধি করে দারুন এক ইয়র্কার দিলেন। ইমাম হিট নিলেন মাটি কামড়ে। তার অন সাইডে ড্রাইভ করে বল গড়িয়ে গেল। কিন্তু ফিল্ডার প্রস্তুত ছিলেন সেখানে। ফলে কোনো রান হলো না ফ্রি হিটে।
৩৮ ওভার শেষ। পাকিস্তানের রান দরকার এখনও ৮১।
দলীয় ১৬৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩১ রান নিয়ে মাঠ ছাড়লেন আসিফ আলী। ব্যাট হাতে মাঠে প্রবেশ করলেন নওয়াজ।
তবে নওয়াজ মাঠে নামার পর পাকিস্তান দলের অবস্থা যেন আরো খারাপ হতে লাগলো। নওয়াজের ডিফেন্সিং ব্যাটিং অনেকটা আনাড়ি খেলোয়াড়ের মতো দেখাতে লাগলো!
এরপর ইমাম মাঠ ছাড়লো তার ব্যক্তিগত ৮৩ রান নিয়ে। বাংলাদেশ দল যেন তার সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণটি সরাতে পারলো আজকের মাঠ থেকে। মাঠে নামলেন হাসান আলী। ৪২ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের দলীয় রান ১৭১। দলটিকে জিততে হলে এখনও ৬৯ রান করতে হবে মাত্র ৮ ওভার বা ৪৮ বলে।
৪৩ ওভার শেষে পাকিস্তানের দলীয় রান ১৭৬।
৪৪ ওভারের দ্বিতীয় বলে, রুবেলের বলে হঠাৎ হাত খুলে ৪ হাঁকালেন হাসান আলী। মনে হলো ৬ হয়ে যাবে। কিন্তু হলো না। চতুর্থ বলে একই রকম হিট নিয়ে ধরা পড়লেন মাশরাফির হাতে। ফিরে গেলেন সাজঘরে। এবার নওয়াজের সঙ্গে জুটি বাঁধতে মাঠে নামলেন শাহীন আফ্রিদি।
৪৫ ওভারের শেষ বলে মোস্তাফিজুরের বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন নওয়াজ। সর্বশেষ উইকেট হিসেবে মাঠে নামেন জুনাইদ খান।
৪৭ ওভারের প্রথম বলে শাহীন আফ্রিদি একটি বড় ছক্কা হাঁকান। ৪৯ ওভার শেষে পাকিস্তানের দলীয় রান ২০২। অনেকবার ব্যাট হাঁকিয়েও ঠিকমতো তাতে বল ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলেন শাহীন আফ্রিদি। এভাবে শেষ ওভারের শেষ বলটি শেষ হলো। কোনোরকম টেনশন ছাড়া একরকম হেসেখেলে আজকের ম্যাচ ৩৭ রানে জিতে গেল বাংলাদেশ।