ছুঁয়ে কান্নার রঙ, ছুঁয়ে জোছনার ছায়া…

81

আমি তোমাকেই বলে দেবো, কী যে একা দীর্ঘ রাত, আমি হেঁটে গেছি বিরান পথে; আমি তোমাকেই বলে দেবো, সেই ভুলে ভরা গল্প- কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায়; ছুঁয়ে কান্নার রঙ, ছুঁয়ে জোছনার ছায়া, ছুঁয়ে কান্নার রঙ, ছুঁয়ে জোছনার ছায়া… হৃদয়ছোঁয়া, স্মৃতিকাতরাতায় ডুবে যাওয়ার মতোই একটি গান, যা গিয়েছিলেন, সঞ্জীব চৌধুরী। জোসনার ছায়া ছুঁয়ে তিনি চলে গেলেন, বহুদূড়ে..

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১০ মিনিটে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। আজ তার চলে যাওয়ার ১০ বছর পূর্ণ হলো। সঞ্জীব চৌধুরী ২৫ ডিসেম্বর ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সঞ্জীব চৌধুরী আশির দশকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনসহ বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ কাজ করেছিলেন যায়যায়দিনের ফিচার সম্পাদক হিসেবে। তার হাত ধরেই মূলত দৈনিক পত্রিকায় ফিচার বিভাগের শুরু হয়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি শুরুর দিকে ‘শঙ্খচিল’ নামের একটি দলে সংগীতচর্চাও করতেন। এরপর ১৯৯৬ সালে সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘দলছুট’। সঞ্জীব চৌধুরীর  সুর ও গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে আছে- ‘বায়স্কোপ’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ’, ‘আমি তোমাকে বলে দিব’, ‘রিকশা’, ‘কথা বলব না’, ‘সাদা ময়লা রঙ্গিলা পালে আউলা বাতাস খেলে’, ‘চোখ’, ‘তখন ছিল ভীষণ অন্ধকার’, ‘আহ ইয়াসমিন’ প্রভৃতি। বাউল শাহ আবদুল করিমের ‘গাড়ি চলে না’ এবং ‘কোন মেস্তরি বানাইয়াছে নাও’ গান দুটি কণ্ঠে তুলেও তিনি বেশ প্রশংসিত হন।

অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী গান গেয়ে আজো হাজারো ভক্তের হৃদয়ে বসে আছেন, আমাদের সবার সঞ্জীব চৌধূরী।তার প্রয়াণ দিবসে, প্রশান্তিকা পরিবারের পক্ষ থেকে অসংখ্য ভালোবাসা আর গভীর শ্রদ্ধাবোধ।