Effective Communication-ভুল বুঝাবুঝি দূর করতে সহায়ক ভুমিকা রাখতে পারে

  •  
  •  
  •  
  •  

গেল মাসে যেসব প্রশ্ন এসেছে তার অধিকাংশই সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে। তাই ভাবলাম প্রশ্ন গুলির আলাদা আলদা উত্তর না লিখে সম্পর্কের  ভুল  বুঝির অবসান কিভাবে করা যায় সেটার উপরেই কিছু  লিখে ফেলি। আশা করি যারা প্রশ্ন গুলি করেছিলেন তাদের কিছুটা হলে উপকার হবে।

আমরা প্রাই বলি ‘আমাকে কেউ বুঝলনা’। কথাটা অন্যভাবে বললে দাঁড়ায় ‘আমি  আমাকে বোঝাতে পারলাম না কাউকে’। এইযে বোঝাতে না পারা বা বুঝতে না পারা এর কারনে কিন্তু অনেক ভুলবঝাবুঝির সৄস্টি হতে পারে। আর সেটা যদি হয় প্রিয়জনের সাথে বা এমন কার সাথে যার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা অসম্ভব তাহলেত কথাই নাই।যদিও আমার জ্ঞানের পরিধি খুবই সীমিত। তবু চেষ্টা করেছি  এই বিষয়টিকে সহজ করে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে।

আসলে  আমরা যখন কথা বলি   সেটা হল encode করা অর্থাৎ আমাদের বলা কথা বা তথ্য communication channel এর মাধ্যমে অপর পক্ষের (যাকে বলা হচ্ছে) কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। অপর পক্ষ তখন সেটাকে Decode করছে   অর্থাৎ সেটাকে বুঝতে চেষ্টা করছে।এইযে বলা (encode) এবং বোঝার (Decode) যে প্রক্রিয়া সেটাতে  প্রেরক এবং গ্রাহক দুজনেই তাদের নিজস্ব ফিল্টার ব্যবহার করে।

মানে হল যিনি   তথ্য পাঠাচ্ছেন তিনি  তার নিজস্ব ধ্যানধারনার আলোকে কোন একটি কথা   বলছেন   আর যিনি   শুনছেন  তিনিও  তার নিজের মত করে সেটাকে বুঝে নিচ্ছেন।

মজার ব্যপার হল প্রতিটি মানুষের ফিল্টার করবার প্রক্রিয়া কিন্তু আলাদা।আর এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে একেকজনের পারিবারিক পরিমণ্ডল, নিজস্ব ধ্যানধারনা, দক্ষতা, অনুভুতি, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ এবং অভিজ্ঞতার উপর।

 সবার বোঝার সুবিধার্থে আমি একটা ডায়াগ্রাম দিচ্ছি

 মাধ্যম (Channels) টেলিভিশন, টেলিফোন, লিখা, কথা বলা,কম্পিউটার ইত্যাদি

    

দৄস্টিভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে। এই কথাটির মর্ম বুঝতে পারলে অনেক কিছুর সমাধান আপনাআপনি হয়ে যায়।

আসলে একই ঘটনাকে একেকজন একেকভাবে দেখবে বা বুঝবে এইটাই স্বাভাবিক। কোন একটি ঘটানা হয়ত একজনের কাছে  অশান্তির কারন আবার অন্যকেউ একজন হয়ত সেটাকে ভাবছেন  নেহাৎ হাসির খোরাক মাত্র।

আসলে বলা এবং শোনার সময় তথ্য যখন ফিল্টার হচ্ছে তখন কিছু তথ্য হারিয়ে যেতে পারে বা মিসিং হতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ভুলবোঝাবুঝির  স্রস্টি হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

জিবনে চলার পথে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে মানুষের সাথে ভুলবোঝাবুঝির  সুছনা হতেই পারে। এটাই স্বাভাবিক। তবে তার থেকে যতটা সম্ভব আমরা দূরে থাকতে পারি আবার খুব সহজেই মোকাবেলা করতে পারি।

যে যেকোনো ভুলবঝাবুঝির  ক্ষেত্রে আমরা যদি সরাসরি কথা বলতে পারি তবে হয়ত বিষয়টা ঘোলাটে হবার আগেই হয়ত  শুধরে নেয়া  যেতে পারে।আর বিশেষ করে স্বামী স্ত্রীর ক্ষেত্রে সরাসরি কথা বলাটা আত্যন্ত কার্যকরী। এক্ষেত্রে তৃতীয় কারো সম্পৃক্ততা সম্পর্কের মাঝে দেয়াল তুলে দিতে পারে। এমনকি নিজের মাকেও মধ্যস্ততাকারি হিসেবা না আনাটা বাঞ্ছনীয়। স্বামী যদি তার স্ত্রীকে বোঝাতে না পারে তাহলে পৃথিবীর  কেউ তার স্ত্রীকে বোঝাতে পারবে না। একই ভাবে স্ত্রী যদি স্বামীকে বোঝাতে ব্যর্থ হয় তাহলে অন্য কারো পক্ষেই স্বামীকে বোঝানো অসম্ভব। এই সত্যতাকে যদি আমরা অনুধাবন করতে পারি আর যেকোন মান অভিমান ভুলবোঝাবুঝির ক্ষেত্রে একে আপরের সাথে সরাসরি কথা বলে নেবার অভ্যাস করতে পারি তাহলে অনেক জটিলতা আমরা এড়াতে পারব।

কিভাবে?

 ১। সুসম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে

২। নিজে কি বুঝলাম সে ব্যাপারে  মতামত দেয়া (feedback) এবং  অপর পক্ষের থেকেও মতামত নেয়া (feedback)  

৩। প্রয়জনে clarify করতে পারি।

আসল কথা হল আমাদেরকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে ফিল্টার প্রক্রিয়ায় অনেক সময় তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। তাই কাউকে ভুল বোঝবার আগে বা কেউ ভুল বুঝলে আগে সেটাকে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে ।

গুরুজির বলা প্রতিটি কথা আসলে কতখানি বিজ্ঞান সম্মত আমরা অনেক সময় সেটা বুঝতে পারিনা।

একজন counsellor এর point of view থেকে নাহয় এই বিষয়ে পরে আবার বিস্তারিত আলোচনা করা যাবে।

তাহলে আমরা কি বুঝলাম ? ভুলবোঝাবুঝি এড়াতে আমরা কয়েকটি পয়েন্টের উপর গুরুত্ব দিতে পারি — প্রথমত পারস্পরিক সুসম্পর্ক তৈরির দিকে আমাদের নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত নিজে কি বুঝলাম সে ব্যাপারে অপরপক্ষকে মতামত দেয়া (feedback) এবং অপর পক্ষ কি বুঝলেন সেটা জেনে নেয়া (feedback) আর সব থেকে যেটা বেশি প্রয়োজন সেটা হল অপরপক্ষের কোন কথা ক্লিয়ার বুঝতে না পারলে অবশ্যই সেটা clarify করে নেওয়া। আসল কথা হল আমাদেরকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে ফিল্টার প্রক্রিয়ায় তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। তাই কাউকে ভুল বোঝবার আগে বা কেউ ভুল বুঝলে প্রথমেই সেটাকে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে ।

আপনাদের প্রশ্নের অপেক্ষায় রইলাম। পরবর্তী সংখ্যায় আপনার প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আশা করছি আবার হাজির হব। আগেই বলেছিলাম আপনাদের প্রশ্ন যতদিন থাকবে আমার লেখা থাকবে প্রশান্তিকার সাথে।